গ্যাসের দাম ফের বাড়ানোর তৎপরতা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

দেশ বিদেশ ১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৩ অপরাহ্ন

দেশে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। এলএনজিতে ভর্তুকি সামাল দিতে জ্বালানি তেলের পর এবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা ভাবছে সরকার। গত ২২শে ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি’র বৈঠকে অর্থ বিভাগ থেকে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। এরপর পেট্রোবাংলা থেকে নির্দেশনার মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো এই প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহেই কোম্পানিগুলো প্রস্তাব জমা দেয়া শুরু করতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই সভায় বলা হয়েছিল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধি করা না হলে বাজেটে ভর্তুকি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। যার পরিমাণ হতে পারে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র ২ শতাংশ। ফলে টাকার অঙ্কে ভর্তুকি ব্যয় বাজেটে প্রক্ষেপণের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাই সরকারের উচিত ২০২২ সালের শুরুতে এ সবের দাম সমন্বয় করা। অন্ততপক্ষে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয় সেই সভায়। জ্বালানি বিভাগ জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি’র দাম বেড়ে যাওয়াতে চলতি বছর সার, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসে ৭০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। কিন্তু বাজেটে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সংস্থানে দাম বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সূত্র জানান, এরমধ্যে পশ্চিমাঞ্চল ও জালালাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও তা বিধিসম্মত না হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে গ্যাসের দাম কী পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল তা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পেট্রোবাংলা সূত্রও বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ছে। গত অক্টোবরের দিকে ভারত প্রায় ৬২ ভাগ গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আমরা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি। আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দাম বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। কোম্পানিগুলো যার যার মতো দামের প্রস্তাব জমা দেবে কমিশনের কাছে। আর বিষয়টি দেখবে বিইআরসি।
এর আগে গত ৩রা নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। লিটারপ্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। গ্যাসের দামের পর গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচও বাড়বে। সে হিসাবে আগামীতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও দিতে পারে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১লা জুলাই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বাসাবাড়িতে দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া সিএনজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি ঘনমিটার ৪৩ টাকা এবং বিদ্যুৎ ও সারের জন্য ৪ দশমিক ৪৫ টাকা। হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রতি ঘন মিটার ২৩ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩ দশমিক ৮৫ টাকা, শিল্প ও চা বাগানে ১০ দশমিক ৭০ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭ দশমিক শূন্য ৪ টাকা।

আপনার মতামত দিন

দেশ বিদেশ অন্যান্য খবর

পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ শুরু আজ, পদক পাচ্ছেন ২৩০

২৩ জানুয়ারি ২০২২

‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ -এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২২। প্রধানমন্ত্রী ...

বনজ-মনিরুলসহ অতিরিক্ত আইজিপি হলেন সাত কর্মকর্তা

২৩ জানুয়ারি ২০২২

 অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার ...

দেশে এখনো ৯ কোটি টিকা মজুত আছে: তথ্যমন্ত্রী

২৩ জানুয়ারি ২০২২

তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি টিকা ...

টানা ৫ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

২৩ জানুয়ারি ২০২২

টানা ৫ দিন বিরতির পর আজ রোববার চলতি সংসদের ১৬তম অধিবেশন (শীতকালীন) আবারো বসছে। স্পিকার ...



দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status