বাংলারজমিন

মসজিদে শপথ পড়িয়ে কোটি টাকার প্রতারণা

চাঁপাই নবাবগঞ্জ সংবাদদাতা

১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৮:৩৮ অপরাহ্ন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ সহায়তা দেয়ার নামে চাঁপাই নবাবগঞ্জের অর্ধশত মানুষের ৫-৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। সাত সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক সিন্ডিকেট এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ২ শতাংশ ভ্যাট দিলেই মিলবে বিদেশি সহায়তার ৩৬ হাজার কোটি টাকা। একেক জন শেয়ার হোল্ডার পাবেন বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি আর কোটি কোটি টাকা। এমন প্রলোভন দিয়ে মসজিদে শপথ পড়িয়ে অর্ধশত পরিবারের  ৫-৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এ বিষয়ে সোমবার চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবিরের আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মো. রুবেল আলী নামে এক ভুক্তভোগী প্রতারণার মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারি করেছে। মামলার আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অর্ধশত মানুষের ৫-৬ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ সহায়তা দেয়ার নামে কৌশলে এসব টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। আসামিরা নিজেদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাতা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। অতঃপর মসজিদে নিয়ে মহান আল্লাহ্‌র নামে হলফ করিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার অর্থের শেয়ার হোল্ডার হওয়ার প্রস্তাব দেয়। আসামিরা বলে  ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশি হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। তবে সেই টাকা ছাড় করতে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট লাগবে। তারা ভুক্তভোগীকে প্রলোভিত করে যদি ২ শতাংশ ভ্যাটের শেয়ার হোল্ডার হয় তাহলে রাতারাতি বড় লোক হয়ে যাবেন। থাকবে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট, দামি গাড়ি ও বহু জমি-জায়গা। কোনো কিছুর অভাব থাকবে না। এমন প্রলোভন দিয়ে ভুক্তভোগী রুবেল আলীর কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর  প্রতারণার সব তথ্য ফাঁস হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি- প্রতারণার টাকায় রেজাউল ইসলাম রেজা এখন কোটিপতি। প্রতারক রেজা চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চর মোহনপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত নৈয়মুদ্দিন মাস্টারের ছেলে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মিজানুর রহমান এ প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রক। তিনি বর্তমানে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড শাখায় কর্মরত। প্রতারণায় অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের স্ত্রী একজন সরকারি কর্মকর্তা। এ প্রতারক চক্রের আরেক নিয়ন্ত্রকের নাম রেজাউল ইসলাম (রেজা)। তার আপন ভাই পুলিশ কর্মকর্তা। রেজার আরেক সহযোগী কাবিরও এ চক্রের সদস্য। প্রতারক চক্রে পুরুষদের পাশাপাশি নারী সদস্যও রয়েছেন। বিউটি ছাড়াও কুষ্টিয়ার জেসি নামে আরেক নারী এ চক্রের সদস্য। এদের ফাঁদে পড়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটি, নতুনহাট, চরমোহনপুর ও টিকরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ৫০টি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছেন। মামলার আইনজীবী ড. মো. তসিকুল ইসলাম বলেন, প্রতারকরা পার পেয়ে যাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করে। ফলে আদালতে এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারসহ বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ছাড়া এসব মামলার আসামিদের শনাক্ত করা কঠিন। পুলিশ চাইলে এ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com