এক্সক্লুসিভ

আইভীর প্রচারণায় একদিন

কখনো রিকশায় কখনো পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে

শাহনেওয়াজ বাবলু, নারায়ণগঞ্জ থেকে

১১ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:৪৩ অপরাহ্ন

সকাল সোয়া নয়টা। নগরীতে তখনো শীত শীত ভাব। মানুষের আনাগোনাও কিছুটা কম। গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ অফিস। নগরীর খানপুর এলাকা থেকে রিকশাযোগে সেখানে যেতে সময় লাগলো মিনিট বিশেক। রিকশা থেকে নামার আগেই চোখে পড়লো মানুষের জটলা। এদের প্রত্যেকের হাতে নির্বাচনী লিফলেট। সবার অপেক্ষা চলতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য। কারণ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে থেকে দিনের প্রচারণা শুরু করবেন আইভী। কিছুক্ষণ পরে সিলভার কালারের জিপে করে পার্টি অফিসে আসলেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমেই কুশল বিনিময় করলেন অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মিনিট দশেক দলীয় অফিসে অবস্থান শেষে বের হলেন প্রচারণায়। পার্টি অফিস থেকে গাড়িযোগে যান চানবাজার ঘাটে। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে পাড় হলেন শীতলক্ষ্যা। নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ে দেখা যাচ্ছিল মানুষের বিশাল এক বহর। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ঢোল, বাদ্য, ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছেন অন্তত হাজারখানেক মানুষ। নৌকা থেকে নামতেই ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। শীতলক্ষ্যা পার হয়ে বন্দরঘাটে নামতেই দেখা গেল তোরণের মতো বিশাল গেট। গেট পার হলেই দুইদিকে চলে গেছে রাস্তা। রাস্তার দুই ধার আর মাথার ওপর অসংখ্য-অগণিত পোস্টার। সেসব পোস্টারের সবই যে নৌকার, তা নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের হাতি মার্কার পোস্টারও আছে। আর আছে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদেরও।
বন্দরের ২১ নং ওয়ার্ডের শুরুতেই স্কুলঘাট এলাকা। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে সোমবার সারাদিন কখনো ব্যাটারিচালিত রিকশায়, কখনো পায়ে হেঁটে চষে বেরিয়েছেন নগরীর ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলি। শ’পাঁচেক লোকের মাঝারি সাইজের স্লোগানমুখরিত মিছিল নিয়ে মাঝখানে মোটরচালিত রিকশায় বসেছিলেন আইভী। রাস্তার দু’পাশের মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। ভোট চেয়েছেন সবার কাছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আইভীর মিছিলে ছিল সাধারণ মানুষ। তবে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ ও আইভীপন্থি নেতা মানবজমিনকে বলেন, আইভী নির্বাচনে প্রচারণা চালালেও প্রকৃত সত্য হচ্ছে তার পক্ষে বেশির ভাগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মাঠে নেই। আজকেও তেমন কারও উপস্থিতি নেই। এমনকি অঙ্গ সংগঠনের তেমন কোনো নেতাকর্মীও মাঠে সক্রিয় নেই।
এদিকে অন্যান্য দিনের চেয়ে সোমবারের প্রচারণায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়রা বলছেন, আগে আইভীর মিছিলের কাছে এভাবে পুলিশ দেখা যেতো না। দু’দিন আগে থেকে পুলিশের প্রহরা বেড়েছে। আইভী সমর্থকদের ওপর হামলা হতে পারে, এমন একটি আশঙ্কা করছে পুলিশ- এই ধারণা জনমনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে প্রচারণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন আইভি। সব বক্তব্যেই আলোচনায় ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ইস্যু। পাশাপাশি আইভী সমালোচনা করেছেন নাসিক নির্বাচনে হাতি মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের।

শুরুতেই প্রশ্ন ছিল ভোটের আর হাতেগোনা কয়েকদিন বাকি। এখন পর্যন্ত নৌকা তথা আইভীর পক্ষে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি শামীম ওসমান ও তার নেতাকর্মীদের।

এতে আইভীর নির্বাচনী প্রচারণায় কতোটুকু প্রভাব ফেলছে? জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে আমাদের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে কথা বলা উচিত। ওনি (শামীম) কিসের পক্ষে প্রচার করবে আমি জানি না, আমার জানার প্রয়োজন নেই। আমার সমর্থন জনগণ।

 তৈমূর আলমের প্রসঙ্গে আইভী বলেন, তিনি এখন তার কথা থেকে উৎরানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ এত বোকা নয় যে, ওনার চালাকি তারা বুঝবে না। তৈমূর আলম খন্দকার একাধিকবার অভিযোগ করেছে, শামীম ওসমান তার বাড়িতে গুলি করেছে, তার প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়েছে। আজ কেন শামীম ওসমানের পক্ষে এত সাফাই গাচ্ছে তৈমূর আলম খন্দকার?

আইভীর কাছে মানবজমিনের প্রশ্ন ছিল নির্বাচনের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জে ভোটের আমেজ চলছে, এই আমেজ কি ভোটের দিন থাকবে কি থাকবে না? জবাবে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোর যদি চরিত্র দেখি তাহলে দেখা যাচ্ছে যতকিছুই হোক না কেন ভোটের দিন উৎসবমুখর ছিল। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com