মত-মতান্তর

শিশু উমায়েরের মৃত্যু 'আতশবাজি'তে না হলেও ভয়ে কেঁপে ওঠার জন্য দায়ী কে?

তারিক চয়ন

৪ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:০৫ অপরাহ্ন

‘কী বিকট শব্দ! আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতে হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুব আতঙ্কে রাত পার করছি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এই লেখাটি হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মগ্রহণ করা মাত্র চার মাস বয়সী শিশু তানজিম উমায়ের এর হতভাগা পিতা ইউসুফ রায়হানের।

মানবজমিনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, উমায়ের আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। ওই ফেসবুকে পোস্ট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইউসুফ জানান, বর্ষবরণের রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে ভয়ে তার ছেলেটি বারবার কেঁপে উঠছিল। সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। সকাল থেকেই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার ছোট্ট উমায়ের।

এদিকে, ফেসবুকে পোস্ট করা ইউসুফের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। মন্তব্যের ঘরে আতশবাজির তীব্র সমালোচনা করেন অনেকেই। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীজুড়ে টানা বিকট শব্দে নিজের ছেলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্না শুরু করে এবং ভয়ে কাঁপতে থাকে বলে তার বাবা ইউসুফ অভিযোগ করেন।

অনেকেই অভিযোগ করছেন- ইংরেজি নববর্ষের রাতে প্রতি বছরই ঢাকায় পটকা ফোটানো ও আতশবাজি হলেও এ বছরের মতো এতটা বেপরোয়া কখনোই দেখা যায় নি। করোনা-সহ নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও দেশের যুব সম্প্রদায় এভাবে আতশবাজি করলো কেন তার সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণারও দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

যারা উমায়েরের মৃত্যুর জন্য আতশবাজির বিকট শব্দকে দায়ী করছেন তাদের সাথে ফেসবুকে তর্ক জুড়ে দিয়ে অনেকে আবার প্রশ্ন রাখছেন, শব্দের কারণে কারও কি মৃত্যু হয়? কিন্তু তাদের সেসব প্রশ্ন অবশ্য ধোপে টিকছে না। একজন লিখেছেন, 'শব্দে হার্ট এটাক হতে পারে। আমি নিজেই যে পটকার শব্দে কতবার চমকে উঠেছি এবং প্যালপিটিশন (ধড়ফড়) হয়েছে সেটা আর বলছি না।' আরেকজন লিখেছেন, 'মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ নিশ্চয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এতে অনেকের বিশেষ করে বয়স্কদের হার্টে প্রভাব ফেলতে পারে ৷ অনেক বছর আগের একটা কথা বলা যায়৷ আমার পরিচিত এক ভদ্রমহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন তার কাছে একটা কোমল পানীয় এর ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে বোতলগুলো একসাথে বিস্ফোরণের শব্দের জন্য৷'

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের বিকট শব্দে বাজানো গান নিয়েও আপত্তি এবং তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী। এ কেমন সংস্কৃতি যা অন্য মানুষ কে হত্যা করে? এমন প্রশ্নও করছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীন আতশবাজির কারণে যে কোন সময় যে কোন ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডও ঘটে যেতে পারে বলে আতঙ্কিত অনেকেই।

সে যাই হোক, শিশু উমায়ের এর মৃত্যু 'শব্দ' এর কারণে হয়েছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। কিন্তু সদ্য সন্তান হারানো পিতা যদি মিথ্যে না বলে থাকেন তাহলে এটুকুতো অন্তত বলা যায় 'সে রাতে প্রচণ্ড শব্দে ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠছিল আর খুব ভয় পাচ্ছিল মৃত্যুপথযাত্রী উমায়ের'।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com