পারস্পরিক আস্থা-সহযোগিতায় প্রতিকূলতা অতিক্রান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে

ভারত-বাংলাদেশ পরিপক্ক সম্পর্কের অংশীদার, এখানেও চ্যালেঞ্জ আছে: শ্রিংলা

কূটনৈতিক রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) ডিসেম্বর ৭, ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৪:১১ অপরাহ্ন

ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ আজ এক শক্তিশালী, বহুমুখী এবং পরিপক্ক সম্পর্কের অংশীদার।সকল দৃঢ় সম্পর্কের মতই দুই দেশের সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরের সময়টা কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্রিংলা বলেন, আমরা অন্যান্য অনেক জটিল এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। প্রচলিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব ছাপিয়ে আমাদের দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা দিয়ে এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা হয়েছে এবং আগামীতেও করা হবে৷ ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে মৈত্রী দিবসে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (আইসিডব্লিউএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইমরান,
আইসিডব্লিউএ-র মহাপরিচালক অ্যাম্বাসেডর বিজয় ঠাকুর সিং, ঢাকায় দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ভারতের সাবেক হাই কমিশনার রাজিত মিত্তার, প্যানেলিস্ট এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স ডিরেক্টর সব্যসাচী দত্ত এবং দ্য ইকোনমিক টাইমস পত্রিকার কূটনৈতিক সম্পাদক শ্রী দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। দীর্ঘ বক্তৃতায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সেখানে তিনি দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়েও কথা বলেন। ঢাকায় ৩ বছর সফলতার সঙ্গে হাই কমিশনারের দায়িত্বপালনকারী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদকে সহায়তা করে এবং উৎসাহিত করে এমন অস্থিতিশীল শক্তির মোকাবিলায় বাংলাদেশ-ভারত উভয়ই দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো নতুন এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

 মৈত্রী দিবস' উদযাপন প্রসঙ্গ: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব তার বক্তৃতার শুরুতেই বলেন, 'মৈত্রী দিবস' উদযাপনে আপনাদের সকলের সাথে অংশ নিতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের। হালকাভাবে অনুবাদ করলে, এর অর্থ হয় 'বন্ধুত্ব দিবস।' "মৈত্রী" শব্দের অবশ্য অনেক গভীর অর্থ রয়েছে। এটি এমন একটি সম্পর্ক যার গভীরতা রয়েছে এবং সাধারণের বাইরেও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এটি এমন একটি বন্ধন যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। এই দিনটি শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকীই নয়, এটি দুই মহান জাতি এবং দু’জন মহান মানুষের মধ্যে অনন্য সম্পর্ককেও উদযাপন করে। এটি অভিন্ন একটি ঐতিহ্য উদযাপন করে।এটি মহান যৌথ সংগ্রামকে স্মরণ করে। এটি আমাদের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকেও তুলে ধরে।

৫০ বছর আগে, বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক সংগ্রামে লিপ্ত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তারা অন্যায় শাসনের হাত থেকে নিজেদেরকে স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম মহান সংগ্রাম। স্বাধীনতার এই সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে পারা ভারতের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের। ভারত সৌভাগ্যবান কারণ তারা বাংলাদেশের জনগণের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পেরেছে। বাংলাদেশের জনগণ এই সংগ্রামে বিজয় লাভ করে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে ভারত সেই আনন্দের সহভাগী হয়েছে। যারা বিজয়ের জন্য চূড়ান্ত মূল্য দিয়েছে ভারত তাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে। ভারত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে অভিবাদন জানায়। তিনি আমাদের সময়ের অন্যতম মহান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং এমন একজন ব্যক্তি যিনি আক্ষরিক অর্থে জাতির ভাগ্যকে রূপ দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। এর কারণ বাংলাদেশীদের যুদ্ধের ন্যায্যতা সম্পর্কে ভারত নিশ্চিত ছিল এবং আরও নিশ্চিত ছিল যে, বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। মৈত্রী দিবস এই সকল বিষয় এবং আরও অনেক কিছুকেই স্মরণ করে। এটি আমাদের জাতি এবং জনগণের একে অপরের প্রতি আস্থাকে চিহ্নিত করে। এটি সেই বিশ্বাসকে নির্দেশ করে যে, উভয় জাতি এবং জনগণেরই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং এর জন্য কাজ করতে দুই দেশই যৌথ সংকল্পবদ্ধ। ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বারা এই ঐতিহাসিক দিনটিকে ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে সূচিত করার সিদ্ধান্ত আমাদের বন্ধনের দৃঢ়তা, স্থায়িত্ব এবং শক্তির প্রতিফলন করে। এটি আমাদের দুই জাতির মধ্যে যৌথ সংগ্রামের স্মৃতি এবং অব্যাহত সংহতিকে সম্মানিত ও পবিত্র করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মৈত্রী দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বার্তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের ৫০ বছরের বন্ধুত্বের ভিত্তিকে স্মরণ ও উদযাপন করেছেন এবং আমাদের সম্পর্ককে আরও প্রসারিত ও গভীর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শুধু ঢাকা এবং নয়া দিল্লী নয়, বিশ্বের ১৮টি রাজধানীতে ভারত এবং বাংলাদেশ একসাথে এই দিনটি উদযাপন করছে, যা নিশ্চিত করে যে, এই বন্ধন কেবল শক্তিশালী নয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য অভিন্ন আশাবাদ এবং সমৃদ্ধির জন্য অবিচলতাকে নিশ্চিত করে। ভারত ও বাংলাদেশ তাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধ দ্বারা চালিত দু’টি ক্রমোন্নতিকারী দেশ। উভয় দেশই গণতান্ত্রিক দেশ যাদের ধারাবাহিকভাবে ক্রমবর্ধমান এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি রয়েছে। অর্থনৈতিক যাত্রায় বাংলাদেশের সাফল্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আজকের দিনটি একটি ভালো উপলক্ষ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য হল এলডিসি অবস্থা থেকে উত্তরণ। জাতিসংঘের মতে, গত ৫০ বছরে মাত্র ৬টি দেশ এই পরিবর্তন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই মাইলফলক অতিক্রম করবে এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

ভারত এই উল্লেখযোগ্য অর্জনকে অভিনন্দন জানায়। আমাদের জনগণের উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধির জন্যে আমরা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি, যেমনটা আমরা তাদের মুক্তিযুদ্ধে করেছিলাম। আমাদের শুভকামনা তাদের এই অব্যাহত যাত্রায় প্রতিনিয়ত সঙ্গী হবে। আমরা এই পথের সহযাত্রী আছি এবং থাকব। ভারত শুধু তার সদিচ্ছা নয়, তার সম্পদ এবং সামর্থ্যকেও আমাদের দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নের জন্য উপলব্ধ করবে।

কোভিড ও অন্যান্য প্রসঙ্গ: শ্রিংলা বলেন, অতি সম্প্রতি, ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীগণ ২০২০ সালের মার্চ মাসে দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন। তারা একটি জরুরি তহবিলে সহায়তা করেছেন। উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এবং অনুশীলনকারীরা আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভাগ করেছেন এবং তা অব্যাহত রেখেছেন। ভারতীয় ভ্যাকসিনের অন্যতম প্রথম গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অক্সিজেন এক্সপ্রেস এই স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে আমাদের সংহতির আরেকটি উদাহরণ।
মহামারীর বাধা এবং লকডাউনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম সফরের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। এই অনুষ্ঠান ছিল “ত্রিবেণী"র অন্যতম। আরো দু’টি অনুষ্ঠান যেগুলো উদযাপন করা হচ্ছে তা হলো- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং যে অনুষ্ঠানটি আমরা আজ উদযাপন করছি- ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। ভারতের রাষ্ট্রপতি ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সুবর্ণজয়ন্তী বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

মহামারীর পরে এটি রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর। মহামারীর পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারতের বাইরে প্রথম সফরের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ।  ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সফর করছেন।এটি বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের সর্বোচ্চ গুরুত্বের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তা আজকের স্মৃতির ঐতিহাসিক প্রকৃতি এবং মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গতিপথ তৈরিতে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
 
বীর শহীদদের স্মরণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ১৬৬০ জনেরও অধিক ভারতীয় সৈন্যের  সম্মানে একটি স্মারক নির্মাণের সিদ্ধান্তকে ভারত গভীরভাবে প্রশংসা করে জানিয়ে শ্রিংলা বলেন, এই উদ্যোগটি সশস্ত্র বাহিনীতে তাদের জীবিত এবং কর্মরত সহকর্মী ও এইসব বীর যোদ্ধাদের পরিবারের দ্বারা গভীরভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এটি একটি বিশেষ সন্তুষ্টির বিষয় যে আজ প্রবীণ যোদ্ধারা আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন।  তাদের বিজয় থেকে জন্মানো আমাদের দুই দেশের অব্যাহত বন্ধুত্ব এবং অংশীদারিত্বের সাক্ষী হতে পারা তাদের কাছে একটি বিরল তৃপ্তির বিষয়। তাদের আত্মত্যাগ ও জীবনদান বৃথা যায়নি। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যারা গত পাঁচ দশক ধরে এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেছেন। ভারত সম্প্রতি তাদের কয়েকজনকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দিয়েছে। এই সদিচ্ছা একটি ভিত্তি তৈরী করেছে যার উপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলির উদ্ভাবনী কূটনৈতিক সমাধানের একটি পথ নিশ্চিতভাবে নির্মিত হচ্ছে।

দিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং...

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ২০১৫ সালে স্থল সীমানা চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন এবং সমুদ্রসীমার সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে, উভয় দেশই সীমান্ত এবং ব্লু ইকোনমির যৌথ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। এটি সেই চেতনা যা দুই দেশের মধ্যে সংযোগ সম্প্রসারণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ১৯৬৫ সালের আগে বিদ্যমান ছয়টি রেলসংযোগের মধ্যে পাঁচটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ষষ্ঠটি শীঘ্রই পুনরুদ্ধার করা হবে। আখাউড়াকে আগরতলার সঙ্গে যুক্ত করতে একটি অতিরিক্ত রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভারত এবং বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর এবং ৫৪টি নদীর অংশীদার। জলপথ এবং উপকূলীয় নৌচলাচলের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব সংযোগ তৈরি করতে এগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কার্গো এখন কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আগরতলায় যেতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিডের মাধ্যমে সংযুক্ত। একটি সাধারণ বিদ্যুতের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ১১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ এখন সীমান্তের ওপারে যায়। ভারত ও বাংলাদেশ ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের মাধ্যমেও বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগিতা করছে। ভারত ও বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। আন্তর্জাতিক সৌরজোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতা একটি স্বতন্ত্র সম্ভাবনা। ভারত ও বাংলাদেশ শীঘ্রই হাইড্রোকার্বন পাইপলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হবে।দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। মহামারীকালেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অভূতপূর্ব হারে শতকরা ১৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখন ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। মহামারী পরবর্তী বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমানভাবে সহযোগিতা করবে, যেমন- ডিজিটাল স্পেসে স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মধ্যে মহামারী সহযোগিতা। নতুন প্রজন্ম কাজ করার জন্য নতুন বিষয় খুঁজে পাবে। ফিনটেক, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ডিজিটাল এনাবেলার প্রোগ্রাম দ্বারা উদ্বুদ্ধ যোজনা যেমন – জন ধন- আধার- মোবাইল, ইউপিআই, ডিজিটাল, ইন্ডিয়া স্ট্যাক হল ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্র। এসব ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের ১২টি জেলায় আইটি পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সবসময়ই দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সমসাময়িক উদ্যোগ, যেমন আয়ুষ্মান ভারত এবং জল জীবন, একসাথে কাজ করার জন্য নতুন ক্ষেত্র প্রদান করে।আমি নিশ্চিত, যে ভারত এবং বাংলাদেশ, জলবায়ু কর্মসূচি এবং লক্ষ্যের মাধ্যমে একটি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। সুন্দরবনের মতো ভাগ করে নেয়া এলাকাগুলোর সুরক্ষা এবং ব্যবস্থাপনা উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক। ভারত উন্নত সীমান্ত অবকাঠামো এবং নীতিমালার মাধ্যমে জনগণ ও পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে বাংলাদেশের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে। ভারতও উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সীমান্তে বাংলাদেশের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে। উন্নত সীমান্ত অবকাঠামো সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে যৌথ টহল এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপদ রাখতে সাহায্য করছে।
ভারত বাংলাদেশের জন্য বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে থাকার চেষ্টা করবে।

এটি ভারতীয় উন্নয়ন অংশীদারিত্বের সংস্থানগুলির জন্য বৃহত্তম একক গন্তব্য। ভারতের মোট নমণীয় ঋণের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি, সহজ শর্তের ঋণচুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশেকে দেয়া হয়। "নমনীয়" শর্তে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ঋণ দেয়া হয়েছে। এটি আমাদের অগ্রাধিকারের পরিচায়ক। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বর্ধিত মিথস্ক্রিয়া এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডিফেন্স লাইন অফ ক্রেডিট এর মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে। আন্তঃকার্যক্ষমতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশ, আইওআরএ, বিমসটেক এবং ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের মতো সংগঠনের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করছে।

মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীরা আসে বাংলাদেশ থেকে। ভারতীয় এবং বাংলাদেশিরা শিক্ষাক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য-পরিচর্যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক স্থানগুলিতে, ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে, তীর্থস্থান এবং পর্যটন এলাকাগুলোতে তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব এবং অংশীদারিত্ব আরো বেশি মজবুত করছে।কলকাতা-ঢাকা সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। বিমসটেক এবং বিবিআইএন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে আরও সংলাপ সংগঠিত হচ্ছে। দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমার প্রজন্মের মানুষের জন্য, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ আমাদের অভিজ্ঞতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যামূলক নৃশংসতার ফলে ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল এবং অসংখ্য মানুষ ভয়ঙ্কর বর্বরতার শিকার হয়েছিল। পূর্ব বাংলার এক কোটিরও বেশি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। আজ, একই রকম মানবিক ভঙ্গিতে, বাংলাদেশ সীমান্তের ওপার থেকে এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো ভারতও এই শক্তিশালী উদ্যোগ এর প্রশংসা করে।ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কাজ করার জন্য আমার পেশাগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করা আমার জন্য সম্মানের বিষয়।

শ্রিংলা বলেন, আমি তিন বছর বাংলাদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সৌভাগ্য পেয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং এটি যে চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে তা স্বীকার করা আমার জন্য অত্যন্ত সন্তুষ্টির ব্যাপার। এটি আমাকে সেই বিশ্বাস দেয় যা ১৯৭১ সালে আমাদের উত্তরসূরীদের প্রভাবিত করেছিল- আমাদের জনগণ এবং জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনে। এটি আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয় যে, আমাদের এই যৌথ যাত্রার পরবর্তী পঞ্চাশ বছর আমাদের জন্য আরও সন্তোষজনক হবে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা

ঋণ পাবেন ১০ টাকার হিসাবধারী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও

২৩ জানুয়ারি ২০২২

শনাক্তের হার ৩১.২৯

নতুন শনাক্ত ১০৯০৬, আরও ১৪ জনের মৃত্যু

২৩ জানুয়ারি ২০২২



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



শনাক্তের হার ২.৩৪

করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু

DMCA.com Protection Status