করোনায় মৃত্যু: দেড় বছর ধরে পচছে দু’জনের মৃতদেহ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) নভেম্বর ৩০, ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:০৫ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৫ অপরাহ্ন

প্রায় দেড় বছর আগে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুর্গা সুমিত্রা (৪০) ও মুনিরাজু (৫০)। তারপর থেকে রাজাজিনগরে অবস্থিত এমপ্লয়িজ স্টেট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অ্যান্ড মডেল হাসপাতালের (ইএসআই হাসপাতাল) মর্গে পচছে তাদের লাশ। এ নিয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্য ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতদেহের সৎকারের জন্য পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে।

কিন্তু তারা সংক্রমণের ভয়ে ধারাকাছে ঘেঁষছেন না। অন্যদিক পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের স্বজন মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল- লাশের সৎকার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন আবার হাসপাতাল বলছে, এ লাশ তাদের স্বজনের। এ জন্য নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ডকুমেন্ট অনুযায়ী গত বছর ২রা জুলাই ইএসআই হাসপাতালে মারা যান দুর্গা ও মুনিরাজু। ওই সময় এই শহরে করোনা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ এক চাপ সৃষ্টি হয়। ভয়াবহতা এতটাই হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে যে, মৃত স্বজনের দেহ পর্যন্ত নিতে বা স্পর্শ করতে অস্বীকৃতি জানান স্বজনরা। এমনও আছে, বাড়িতে ঘরের ভিতর মরে পড়ে আছেন কেউ। কিন্তু কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর লাশের সৎকার করছেন না ছেলে, মেয়ে বা আপনজনরা। তেমন সময়ে এগিয়ে গিয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মহৎপ্রাণ মানুষ। তারা ওই লাশ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন।

ব্যাঙ্গালুরুর নাগরিক পরিষদ ব্রুহাত ব্যাঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (বিবিএমপি) ওই হাসপাতালটির বেড পরিস্থিতির তদারকির দায়িত্বে ছিল। মানুষ যাতে ভর্তি হতে পারেন এ জন্য বেসরকারি স্থাপনায় বেডের ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণেও ছিল তারা। কিন্তু ওই দুই মৃতের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নাগরিক পরিষদ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই সংক্রমণ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাদের স্বজনের লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। তারা জানিয়েছিল, মৃতদেহের সৎকার হয়ে গেছে।

এর এক বছর পরে রুক্ষ্ম এক বেদনা সবাইকে বর্শার মতো বিদ্ধ করছে। বলা হয়েছে, তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে পচছে। মর্গের স্টাফরা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করার পর তা জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের। এমন অবহেলার জন্য এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোষানলে পড়েছে। কিভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের আগে সব আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

মৃত দুর্গার বোন সুজাতা বলেছেন, গত বছর হন্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে তারা ইএসআই হাসপাতালে বেড পান। তার ভাষায়, দুর্গা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। ওই হাসপাতালে নেয়ার ৪ দিন পরে মারা যান দুর্গা। যেহেতু তিনি করোনায় মারা গেছেন, তাই কর্র্তৃপক্ষ আমাদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তরে রাজি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা ঘরে ফিরে আসি। এর কয়েকদিন পরে বিবিএমপি থেকে একটি ফোনকল পাই। আমাদেরকে বলা হয়, দুর্গার লাশ দাহ করা হয়েছে। তারপর এখন ১৫ মাস হতে চলল, তিনদিন আগে আমরা একটি কল পেলাম। সেই ফোন ধরতেই হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। তারা যা বললেন বুঝতে পারলাম না সত্য নাকি মিথ্যা খবর দিচ্ছেন।

ওদিকে মুনিরাজুর ছেলে সতীশও একই রকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে গত বছর ফোন করে আমাদের বলা হলো বাবা আর নেই। আমরা তাদের কাছে লাশ ফেরত চাইলাম। কিন্তু বিবিএমপি কর্তৃপক্ষ আমাদের বললো যে, লাশ দাহ করা হয়েছে। আমরা মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করতে গেলাম। তারা আবারও সেই একই কথা বললেন। এ বিষয়ক ঘোষণায় আমাদেরকে স্বাক্ষর করতে বলা হলো।

কর্নাটকের শ্রমমন্ত্রী এ. শিবরাম হেব্বারকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি লেখেন রাজাজিনগরের বিজেপি দলীয় এমএলএ সুরেশ কুমার। তাতে শিবরাম হেব্বারকে তিনি অনুরোধ করেন বিষয়টি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর নজরে তুলে ধরতে। সুরেশ কুমার ওই চিঠিটি মিডিয়ার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, বিএমএমপি এবং ইএসআই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ভয়াবহ। এর প্রেক্ষিতে আপনাকে অনুরোধ করবো একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিতে, এ বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট দিতে এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status