হেফাজত মহাসচিবের দাফন হাটহাজারীতে

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২১, সোমবার, ৬:৩১ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় শায়িত হবেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। সোমবার এশার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সড়কযোগে লাশ নেয়া হবে হাটহাজারী মাদরাসায়। সেখানে মখবরায়ে জামেয়া কবরস্থানে হেফাজত মহাসচিবকে দাফন করা হবে। এর আগে হেফাজতের প্রয়াত সাবেক আমীর আল্লামা আহমদ শফি ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে এই কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি মানবজমিনকে জানিয়েছেন হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী। তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররমে জানাজা শেষে আমরা কিছুটা বিলম্ব করেই লাশ নিয়ে রওনা হবো। ফজর নামাজের পর দাফনের কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।


এর আগে সোববার সকালে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরুল ইসলাম জিহাদী (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

নুরুল ইসলাম জিহাদীর ছেলে মোর্শেদ বিন নূর জানান, শনিবারের ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন বাস্তবায়নে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি কর্মব্যস্ত ছিলেন। রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। সম্মেলন শেষে মাদরাসায় ফেরার পথে গাড়ির মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ধুরুং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুর রশীদ। প্রাথমিক জীবনে নাজিরহাট বড় মাদরাসায় তিনি কুরআনের হেফজ (মুখস্থ) সম্পন্ন করেন। হেফজ সমাপ্তির পর একই মাদরাসায়  হেদায়াতুন্নাহু জামাত (মাধ্যমিক) পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন। অতঃপর উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায়  ভর্তি হন। ১৯৭৪ সালে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন।

শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর পটিয়া থানাধীন কৈয়গ্রাম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। উক্ত মাদরাসায়  এক বৎসর শিক্ষকতার পর বাবুনগর মাদরাসায়  আহুত হলে সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। বাবুনগর মাদরাসায় কয়েক বৎসর অধ্যাপনার পর ঢাকার আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদরাসায়  ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। এসময়ে তার পিতার মৃত্যুবরণের পর তিনি নিজ বাড়িতে চলে যান ও পুনরায় বাবুনগর মাদরাসায়  যোগদান করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ জুলাই তিনি ঢাকা জেলার অন্তর্গত খিলগাঁও-এ আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীর মজলিসে শুরা এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা ও আমেলার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তিনি “ইসলামী আন্দোলন পরিষদ” নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার করেছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ছিদ্দিক আহমদের সাহচর্যে ছিলেন। কাদিয়ানী বিরােধী আন্দোলন ও খতমে নবুয়ত আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত “আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ”র তিনি মহাসচিব। ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

ভারতের কাছে বড় লজ্জা !

২০ জানুয়ারি ২০২২

শনাক্তের হার ২৬.৩৭

নতুন শনাক্ত ১০৮৮৮, আরও ৪ জনের মৃত্যু

২০ জানুয়ারি ২০২২



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



ফেনী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

বিএনপি-জামায়াত ১০টি, আওয়ামী লীগ ৪টিতে জয়ী

DMCA.com Protection Status