দেশে সীমিত গণতন্ত্র চলছে: সংসদে বিএনপি’র এমপিরা

সংসদ রিপোর্টার

অনলাইন (১ সপ্তাহ আগে) নভেম্বর ২৫, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৫ অপরাহ্ন

দেশে সীমিত গণতন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সমগ্র জাতি একটা গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে অবশ্যই রাজনীতি চর্চায় আমাদের ফিরে আসতে হবে। বিরোধী দলকে আজকে রাজনৈতিক কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ কথা বলেন।

বিএনপি’র সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, জাতীয় সংসদ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান জাতীয় সংসদ, আমরা এখানে সরকারি দল, বিরোধী দল একাকার হয়ে গেছি। আমাদের পাশে বিরোধী দলের সদস্যরা রয়েছেন। উনারাই বলছেন, আমরা কাগজে-কলমে বিরোধী দল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যেখানে লাঙ্গল ছিল সেখানে নৌকা নাই। যেখানে নৌকা ছিল সেখানে লাঙ্গল নাই। তাদের দায়বদ্ধতা আছে। সত্যিকার অর্থে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন এই সংসদে নেই।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে এমপি হারুন বলেন, আমি একাধিকবার সংসদ নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আজকে ওনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক যে অবস্থা ওনাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন। এতে আপনি সম্মানিত হবেন। দেশের মানুষ আপনাকে অবশ্যই সম্মান করবে। তার (খালেদা জিয়া) যে বয়স, তার যে অবস্থা এই অবস্থায় তাকে এইটা বিবেচনা করা উচিত।

হারুনুর রশীদ বলেন, যারা সামনের দিনে দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই মানুষগুলো আমরা তৈরি করতে পারছি না। যোগ্য মানুষ তৈরির প্রয়োজন অনুভব করছি না। প্রয়োজন যুগোপযোগী জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আমাদের শিক্ষা পরিকল্পনা মোটেও যুগোপযোগী নয়। কোনো প্রচেষ্ঠা বা উদ্যোগ আমরা দেখছি না। একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কার্যকর পদক্ষেপ যদি আমরা নিতে না পারি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমরা নিদারুনভাবে বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়বো। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশাসনিক সর্বস্তরে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। আশঙ্কাজনকভাবে দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন নিয়োগে প্রশ্নপত্র ফাঁস, এমসিকিউ পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞানশূন্য প্রজন্মের বিস্তৃতি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেউলিয়া থেকে আরও দেউলিয়ার দিকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি। জাতি হিসেবে আমরা সব দিক থেকেই যেন একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে উল্লেখ করে হারুনুর রশীদ বলেন, আজকে যারা বিনাভোটে, নির্বাচন কমিশন যাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করছে তাদেরকে আমি কী বলবো? অনির্বাচিত বলবো? না নির্বাচিত বলবো? তারা তো নিশ্চয়ই বিনাভোটে নির্বাচিত। এই সংবিধান আমাদেরকে পরিস্কারভাবে বলে দিচ্ছে ১১ অনুচ্ছেদে যে যারা সেখানে ভোটার তাদের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে স্থানীয় প্রতিনিধিদের। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ। এই ক্ষেত্রে আমরা সত্যিকার অর্থেই ব্যর্থ। তিনি বলেন, আজকে আমাদের এই ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের গণতন্ত্রের সংকট, আমাদের আইনের সুশাসনের সংকট, আমাদের মাদকের যে ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে এই সমস্ত সংকট থেকে জাতিকে মুক্ত করতে গেলে অবশ্যই জাতীয় ঐক্যমতের দরকার।

এদিকে বিএনপি’র দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, গণতন্ত্রকে মূলমন্ত্র ধরে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়েছে। সেই দেশে গত এক যুগে চালু হয়েছে- আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র, সীমিত গণতন্ত্র, বেশি উন্নয়ন, কম গণতন্ত্র। উন্নয়নের গণতন্ত্র নামক উদ্ভুত সব স্লোগান। ঠিক যেমন আইয়ুবের বুনিয়াদী গণতন্ত্র। সামরিক স্বৈরশাসক তার ক্ষমতায় থাকার বয়ান হিসেবে উন্নয়নকে বেছে নিয়েছিল। বর্তমান সরকারও একদমই তাই। তিনি বলেন, যেকোন প্রসঙ্গে সত্তরের নির্বাচনের কথা উঠে আসে। আজকেও ভাবতে অবাক লাগে ইয়াহিয়ার মতো একজন সামরিক শাসকের অধীনেও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। যেখানে বঞ্চিত, শোষিত পূর্ব পাকিস্তানের কোনো দল ১৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটাধিকার প্রয়োগ, নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন বিনা প্রতিবাদে সেই জয়কে মেনে নেয়া এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, যেটা না হলে একটা দেশ ভেঙে নতুন আরেকটা দেশের জন্ম হতে পারে।

এ সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমানে দেশে এখন অর্থনৈতিক বৈষম্য অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য হিসেব করলে আজকের স্লোগান হবে সোনার বাংলা নরক কেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পড়লে পরিষ্কার হয় যে, সত্তরের নির্বাচন মেনে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে তখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না। নির্বাচনে বিজয়ের পরেও ক্ষমতা হস্তান্তরকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন একটি সংস্থার প্রতিবেদন তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি দেখি উন্নয়নের বিষে লাল বাংলাদেশ। মার্কিন সংস্থা মিলোনিয়ান চ্যালেঞ্জ করপোরেশন দরিদ্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে চেষ্টা করতে চাওয়া দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন অঙ্কে অনুদান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ এ ফান্ড পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের ১৬টি ক্ষেত্রে রেড জোনে আছে বাংলাদেশ। আগের বছরগুলোতে ছিল আরও কম। এখন পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে সব নাগরিকদের জন্য আইনের শাসনের অঙ্গীকার করা হলেও সেই অঙ্গীকার পুরণ হয়নি। আজ দেশে সরকারি দলের কিছু নেতা-কর্মী, কিছু ব্যবসায়ী, কিছু দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ফুলে ফেপে বড় হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বাকি ৯০ শতাংশ মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য ক্রমশঃ বাড়ছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

পল্লী বিদ্যুতের অবহেলায় শিশু তামিমের অঙ্গহানি

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

৬ ডিসেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গণফোরামের একাংশের কাউন্সিল-

মন্টু সভাপতি, সুব্রত সম্পাদক

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা-

আইনি সুযোগ খুঁজছে সরকার: আইনমন্ত্রী

DMCA.com Protection Status