বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন

কূটনৈতিক রিপোর্টার

অনলাইন (১ সপ্তাহ আগে) নভেম্বর ২৫, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১:২৬ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। একমাত্র দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ৩টি মানদ-ই পূরণ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। স্থায়ী মিশন জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান ৭৬তম অধিবেশনের ৪০তম প্লেনারি সভায় ২৪শে নভেম্বরে (নিউইয়র্ক সময় সকাল, বাংলাদেশ সময় রাত) এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সুখবরটি প্রচার বিষয়ক টুইট বার্তায় রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা লিখেন- এটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ এর বাস্তবায়ন।

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এর চেয়ে আর ভালোভাবে কীভাবে হতে পারতো! এদিকে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন প্রচারিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের উত্তরণের ঐতিহাসিক রেজুলেশন গ্রহণের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ২৪ নভেম্বর ২০২১ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে চূড়ান্তভাবে

বাংলাদেশের উত্তরণের (গ্র্যাজুয়েশন) ঐতিহাসিক রেজুলেশন গৃহীত হয়। রেজুলেশনটি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল।
এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় একটি যুগান্তকারী অর্জন যা এমন এক সময়ে অর্জিত হল যখন আমরা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি।

রেজুলেশনটি গৃহীত হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি রেজুলেশনটি গ্রহণের ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য সকল সদস্য দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রুপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখেছেন।

কোভিড-১৯ অতিমারির ভয়াবহতম সময়েও সকল চ্যালেঞ্জ মােকাবিলা করে তিনি বাংলাদেশের এই অদম্য অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার ফলে আজ রূপকল্প-২০২১ পূর্ণতা পেল। বিজ্ঞপ্তি মতে, স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরিত (স্নাতক) হওয়া কেবল সুনির্দিষ্ট একটি দেশেরই সাফল্য নয়, বরং এটি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের শক্তির প্রমাণ বটে মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, উত্তরণ কোনােভাবেই শাস্তি হতে পারে না, এটি হতে পারে পুরস্কার।

এ প্রসঙ্গে তিনি এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরিত ও উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলাের জন্য প্রণোদনা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহায়তা কাঠামো নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উত্তরণ চ্যালেঞ্জের প্রতিটি দিক বিশেষ করে উত্তরণ পরবর্তী আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা, বাধাহীন উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন ইত্যাদি চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার উপযোগী এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিরও আহ্বান জানান।

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন ৫ম জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সম্মেলন (এলডিসি-৫) এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, পরবর্তী দশকে এলডিসি’র দেশগুলাের জন্য একটি রূপান্তরধর্মী কর্মসূচি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সম্মেলনটি উন্নয়ন সহযোগীদেরকে চমৎকার একটি সুযোগ এনে দিবে। দোহা প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন স্বল্পোন্নত দেশসমূহের উত্তরণের বিষয়টিকে এর অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলির একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০০১ সালের মধ্যে যাতে আরও ১৫টি এলডিসিভুক্ত দেশকে উত্তরণের মানদ- পূরণে সক্ষম করে তোলা যায় খসড়া দোহা প্রোগ্রাম অব অ্যাকশনে সে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের সাফল্য নির্ভর করছে মূলত উন্নয়ন অংশীদারদের সংহতি ও বাড়তি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতির উপর।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি রর্বাট রে এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটিতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করছেন।

অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এবং বাংলাদেশের পরবর্তী করণীয়:
ওদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার রাতে তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে ওই ঐতিহাসিক অর্জনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। একে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি)’ ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের মানদ- পূরণের মাধ্যমে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করেছিল। সিডিপি একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরব্যাপী প্রস্তুতিকালীন সময় প্রদানের সুপারিশ করেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ইতোমধ্যে সিডিপির সুপারিশ অনুমোদন করেছে। পাঁচ বছর প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০২৬ সালের ২৩ নভেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা। প্রস্তুতিকালীন ৫ বছরে সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরণপরবর্তী সময়ে স্বল্পোন্নত দেশ হতে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাসমূহ অব্যাহত রাখাসহ মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিকৌশল ও পদক্ষেপ প্রণয়ন করছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা-

আইনি সুযোগ খুঁজছে সরকার: আইনমন্ত্রী

৫ ডিসেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গণফোরামের একাংশের কাউন্সিল-

মন্টু সভাপতি, সুব্রত সম্পাদক

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা-

আইনি সুযোগ খুঁজছে সরকার: আইনমন্ত্রী

DMCA.com Protection Status