জাবি’র ভর্তি পরীক্ষায় অনলাইনে সক্রিয় জালিয়াতি চক্র!

জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষাঙ্গন (১ মাস আগে) নভেম্বর ২২, ২০২১, সোমবার, ৭:৩৭ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৩ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কলা ও মানবিকী অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে ‘সি’ ইউনিটে ভর্তির শতভাগ গ্যারান্টিও দিচ্ছে চক্রটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে নিজেদের মোবাইল নম্বরসহ পোস্ট দিয়ে ২৫০০০ টাকার বিনিময়ে ‘সি’ ইউনিটে শতভাগ চান্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে চক্রটি। এর মধ্যে, ৮৫০ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে ফেসবুক পোস্টে। এছাড়া জাবির ভর্তিচ্ছু শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি’ নামে একটি গ্রুপ খুলেছেন জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য। গ্রুপে ব্যবহৃত ওই সদস্যের মোবাইল নম্বর হলো ০১৯৯৬১২০৪৮৭।
ভর্তিচ্ছু পরিচয়ে মোবাইল নম্বরটিতে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রাম ?বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছি। আমাদের মাধ্যমে ভর্তি হতে চাইলে, একটা বিকাশ নম্বর ?দিচ্ছি সেখানে ১২৫০ টাকা অগ্রিম পাঠান। আর হোয়াটসঅ্যাপে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি পাঠান।
এদিকে গত ১৪ই নভেম্বর জাবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বিশ হাজার টাকা চুক্তিতে অন্যের হয়ে (প্রক্সি) অংশগ্রহণ করায় এক যুবককে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়া গত ১৮ই নভেম্বর ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি করায় এক ভর্তি পরীক্ষার্থীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে গত ১৮ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অন্য ইউনিটের ফলাফল পরীক্ষার পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করলেও ‘সি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়েছে কতৃপক্ষ। আবার জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা ‘সি’ ইউনিটেই টাকার বিনিময়ে চান্স পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছেন। ফলে ‘সি’ ইউনিটের ফলাফল জালিয়াতির আশঙ্কা করছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
এর আগেও, গত কয়েক বছর ধরে জাবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল কয়েকটি চক্র। এ রকম কয়েকটি চক্রের সদস্যকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ভর্তির আগে সাক্ষাতকার দিতে এসেও আটক হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আবার ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ ও অন্যের পরীক্ষা দিতে এসে আটক হয়েছেন অনেকে। ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মুশফিক আনোয়ার বলেন, তিনদিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের জন্য নির্দেশনা ছিল। আর ‘সি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশে একটু বেশি সময় লাগে। কারণ এই ইউনিটে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখার জন্য আলাদা ফলাফল তৈরি করতে হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আমরা জড়িতদের শনাক্তে খোঁজখবর নিচ্ছি। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছেও প্রতারক চক্রের মোবাইল নম্বর দিয়েছি।

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর



শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status