ভারতীয় উপমহাদেশে ডাক ব্যবস্থায় রিলে পদ্ধতি

শামীমুল হক

ইতিহাস থেকে ১৮ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিপ্রায় নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন ঘটে ১৬০০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। ধীরে ধীরে তারা তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে থাকে। ১৬৩৯ সালে মাদ্রাজে, ১৬৬০ সালে বোম্বে, ১৬৮৮ সালে কলকাতায় তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটায়। এ সকল ব্যবসা কেন্দ্রে যোগাযোগের প্রয়োজনে তারা প্রচলিত রানারের সাহায্যে সংবাদ আদান-প্রদান করতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজস্ব ডাক-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভব করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানি তার অফিসকে একটি ডাকঘর স্থাপনের নির্দেশ দেয় এবং অনুরূপভাবে মাদ্রাজ অফিসেও ১৭২০ সালে ডাকঘর স্থাপন করে। ডাক চলাচলের জন্য পথ ঠিক করা হয় মাদ্রাজ থেকে কলকাতা। এ রুটে প্রতি সপ্তাহে একবার ডাক পরিবহন করা হতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লর্ড ক্লাইভ ২৪শে মার্চ ১৭৭৬ এক সার্কুলারের মাধ্যমে সরকারি ডাক-ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রবর্তিত ডাক-ব্যবস্থা শুধুমাত্র সরকারি কাজে ব্যবহৃত হতো। কোম্পানির কর্মচারীগণ বিনা খরচে ডাক আদান-প্রদান করতে পারতো। ১৭৭৪ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ডাক ব্যবস্থার পুনঃসংস্কার করেন। একই সালে তিনি পোস্টমাস্টার জেনারেলের পদ সৃষ্টি করেন এবং বেসরকারি লোকজনের জন্য ডাকসেবা উন্মুক্ত করেন। সে সময়ে এক তোলা ওজনের একটি চিঠি কলকাতা থেকে চ-ীগড় প্রেরণ করতে ২ আনা, কলকাতা থেকে লক্ষেèৗ প্রেরণ করতে ১১ আনা এবং কলকাতা থেকে বোম্বে প্রেরণ করতে ১ রুপি খরচ পড়তো। দূরত্ব ও ওজনের ভিত্তি করে প্রেরকের কাছ থেকে ডাক মাশুল আদায় করা হতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন আমলে ১৭৭৮ সালের ৩১শে মার্চ থেকে পূর্বাঞ্চলে ডাকব্যবস্থা চালু হয়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১ দিন পর পর ডাকহরকরার মাধ্যমে ডাক বহন করা হতো। এজন্য ওই রুটে ৯টি পোস্ট স্টেশন স্থাপন করা হয়। চট্টগ্রাম, সীতাকু-, ফেনী, কলিন্দা, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, চাঁদপুর ও ঢাকা। সে সময় চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি চিঠি পৌঁছতে ৮ দিন সময় লাগতো। এ অঞ্চলের ডাক-ব্যবস্থা তদারকির জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটি পরবর্তীতে প্রশাসনিক বোর্ডের ক্ষমতা পায়। অবশ্য ভারতীয় উপমহাদেশে সবচেয়ে প্রাচীন ডাক-ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক, যিনি ১৩২৫-১৩৫১ পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেন । তিনি নির্দিষ্ট স্থান পরপর ডাকচৌকি স্থাপন করেন। ডাকবাহকরা রিলে পদ্ধতিতে এ সকল ডাকচৌকিতে ডাক পৌঁছে দিতো। মরক্কোর পরিব্রাজক ইবনে বতুতার ভ্রমণ কাহিনী থেকে জানা যায়, সিন্ধু থেকে দিল্লি পর্যন্ত ভ্রমণ করতে সময় লাগতো ৫০ দিন অথচ ডাকহরকরা সেই পথ অতিক্রম করতো মাত্র ১৫ দিনে।

আপনার মতামত দিন

ইতিহাস থেকে অন্যান্য খবর

রেলযোগে প্রথম ডাক

১০ নভেম্বর ২০২১

ডাক আদান-প্রদানে কবুতর

২৮ অক্টোবর ২০২১



ইতিহাস থেকে সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status