বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র মোহাম্মদ শরীফ। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খুব বেশি ম্যাচ না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপট দেখিয়ে গেছেন মোহাম্মদ শরীফ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে রিভার্স সুইংয়ের অন্যতম পথিকৃত তিনি। টানা ২০ বছর খেলার পর গত বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার। অবসর থেকে ফেরা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শরিফ বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই ভেবেছিলাম লংগার ভার্সন ক্রিকেট আর খেলবো না। কারণ কতদিন করোনার প্রভাব থাকবে, কবে লকডাউন শেষ হবে, নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছিল না। এখন টিকা বের হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনার প্রকোপও কমে আসার কারণে আবার লংগার ভার্সন ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ খেলবো ব্রার্দাস ইউনিয়ন দলের হয়ে। ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা থেকে মাঠে ফেরার জন্য নিয়েছি দীর্ঘ প্রস্তুতি। নিজেকে আগের চেয়েও অনেক ফিট লাগছে।’ এ প্রসঙ্গে ব্রাদার্সের ম্যানেজার মো. আমিন খান জানান, ‘মাঠে আবার ব্যাটসম্যানদের ইনসুইং ও আউট সুইং-এর ফাঁদে ফেলে বোকা বানানোর জন্য প্রস্তুত শরীফ। সঙ্গে ব্যাটিং তো আছেই। ম্যাচের শেষে তার ঝড়ো ব্যাটিং কতো ম্যাচের যে মোড় ঘুরিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। তাকে দলে পেয়ে আমরা যারপনাই খুশি। আশা করি, তিনি তার সেরা পারফর্মেন্স দিবেন।’
২০০১ সালের এপ্রিলে ১৭ বছর বয়সে শরীফের অভিষেক হয় ওয়ানডেতে। একই মাসে খেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট। শুরুটা ভালো হলেও ইনজুরিতে পড়ে ২০০২ সালে দলে নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পরপর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকবার করান অস্ত্রোপচার। দীর্ঘ নয় মাস যাবত ইঞ্জুরির কারণে জাতীয় দলে ফেরাটা তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বশেষ খেলেন ২০০৭ সালে। ক্যারিয়ারের দশ টেস্টে উইকেট নেন ১৪টি আর ৯ ওয়ানডেতে পান ১০ উইকেট।
উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি শরীফ। ২০০০ সালে অভিষেক হওয়ার পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচ খেলেন ১৩২টি। উইকেট নেন ৩৯৩টি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ বোলার পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্বের স্বাদ নিয়েছেন ১৫ বার। লোয়ার-অর্ডারে ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ কুশলি ছিলেন তিনি। একটি সেঞ্চুরি ও দশটি হাফ-সেঞ্চুরির সঙ্গে সংগ্রহ করেন ৩২২২ রান।
আরো কিছুদিন ঘরোয়া লীগে খেলতে চান শরীফ। বাংলাদেশে ঘরোয়া লীগের ইতিহাসের সেরা এই পেসার এবার খেলবেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে। এখনো ফিটনেস লেভেল ভালো থাকায় আরও ৫-৬ বছর খেলতে চান এই অলরাউন্ডার। যুক্ত করতে চান নিজের নামের সঙ্গে আরও কিছু উইকেট ও রান। ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরো ক্যারিয়ার পার করা মোহাম্মদ শরীফ বাংলাদেশের টি টুয়েন্টির সেরা অস্ত্র হতে পারতেন।
খেলার পাশাপাশি ক্রিকেট কোচিং নিয়েও কাজ করছেন এই অলরাউন্ডার। লেভেল-০১ কোচিং শেষ করে লেভেল-০২ এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে মোহাম্মদ শরীফ নিজেকে যুক্ত করেছেন নানা সামাজিক কাজে। তার নামে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ শরীফ ফাউন্ডেশন সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের নিয়ে কাজ করছে। করোনার সময় তার এলাকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষকে তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্ম এক্সপ্রেস কনসালটেন্সি লিমিটেড ও আটলাস টয়লেটেরিজ লিমিটেডের ব্র্যান্ড আম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন দেশসেরা এই পেসার।
