বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্লাটফর্মে নেতৃত্ব দিতে পারে: স্পিকার

সংসদ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) অক্টোবর ২৭, ২০২১, বুধবার, ৬:২৮ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৩ অপরাহ্ন

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিশুদের চিন্তাধারাকে কপ ২৬ এর বৈশ্বিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্তিকরণ জরুরি। আজ সংসদ সচিবালয়ের এলডি হলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত 'শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র হস্তান্তর' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্লাটফর্মে নেতৃত্ব দিতে পারে। শিশুরাই হতে পারে পরিবর্তনের নিয়ামক। শিশু ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র। শিশুরা কি রকম পৃথিবী চায়, তা নীতি নির্ধারকদের জানাতে পারছে। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের ফোরামে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। যেসব দেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু এইরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী নয়, তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তিনিই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে তিনি ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দি আর্থ’ পুরস্কার লাভ করেছেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী সকলে জলবায়ু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের একটি, যদিও বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী নয়। ১৯৯২ সাল হতে বাংলাদেশ ইউএনএফসিসি নীতিমালা অনুসরন করে আসছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ইত্যাদি কোন বিষয়েই বাংলাদেশ দায়ী নয়। তবুও পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রচুর বৃক্ষ রোপন ও বনায়ন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৈশ্বিকভাবে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে বরিশাল থেকে আসা ১৩ বছর বয়সী শিশু কাবা কাওশিন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সামনে বলেন,‘জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শিশুদের রক্ষা করুন। দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমান। সবুজ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ান। সমস্যা সমাধানে আমাদের অংশ নিতে দিন। আমাদের কথা শুনুন। আরেক শিশু প্রতিনিধি মাহিব রেজা জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনে শিশুদের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সেসব বিষয়ে তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরতে চায়। ওই শিশুরা জানায়, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা এবং ঝড় সহনশীল জলবায়ুবান্ধব স্কুল তাদের প্রয়োজন। তাদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে এমন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবশ্যই তাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতিসংঘ শিশু তহবিল, বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদ (বিজিপি) এবং বাংলাদেশ ডিবেট ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সহায়তায় দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার শিশু প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি ছায়া সংসদের মাধ্যমে ইউনিসেফ গত বছরের ২০ নভেম্বর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে অনলাইনে একটি শিশু জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধিত্বকারী শিশুরা তাদের ভবিষ্যতকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে সুরক্ষিত রাখতে সংসদ সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করার জন্য একটি জলবায়ু ঘোষণাপত্র তৈরি করে। ২০২১ জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে। এর আগে আগে শিশুদের চাহিদা ও দাবির কথা তুলে ধরতে নীতি নির্ধারকদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এই ঘোষণাপত্র। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিশুদের ওপর প্রভাবের বিষয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বতর্মান প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তাদের পদক্ষেপে ভবিষ্যত বিশ্ব উপকৃত হবে। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শিশুরা দায়ী নয়। অথচ শিশুরা ভুক্তভোগী। বাল্যবিবাহ, পাচার, শিশু শ্রম ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সর্ম্পকিত। শিশুদের জন্য বাস উপযোগী পৃথিবী গড়তে এবং শিশুদের সুরক্ষা দিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি–বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে দ্রত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিশু অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সহসভাপতি সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, শহীদুজ্জামান সরকার, তানভীর শাকিল জয়, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং সৈয়দা রুবিনা আক্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সভাপতি সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু। তিনি বলেন, সারা দেশের ৩০০ শিশু প্রতিনিধি ৩০০ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য এবং অংশিদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। এই অজর্নকে কাজে লাগাতে হবে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে ক্রিস্টিনা ঐশী মহন্ত নামের এক শিশু। উল্লেখ্য, শিশু এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদ (বিজিপি) ২০১৮ সালে গঠিত হয়। এটি শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগ। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬ লাখ সদস্য এখন পর্যন্ত অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছে। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদের প্রথম জাতীয় অধিবেশন চলার সময় নিজেদের দাবি, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে ৩০০ শিশু জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মুখোমুখি হয়।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

এমএসএফ-এর প্রতিবেদন

নভেম্বরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪৭

৩০ নভেম্বর ২০২১

ডিআরইউ নির্বাচন

মিঠু সভাপতি, হাসিব সম্পাদক

৩০ নভেম্বর ২০২১

শনাক্তের হার ১.৩৮

করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু

৩০ নভেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফ

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই

নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ

‘খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’