গৃহযুদ্ধ এড়াতে সুদানে ‘অভ্যুত্থান’! বাড়ি ফিরেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) অক্টোবর ২৭, ২০২১, বুধবার, ১:১৪ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়ার পর সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল বুরহান বলেছেন, তিনি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাননি। তিনি শুধু দেশে গৃহযুদ্ধ বন্ধ এড়াতে প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লা হামদুককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। তার প্রাণহানী হতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি নিজের বাড়িতে রেখেছেন। পরে অবশ্য তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি এখন রাজধানীতে নিজের বাড়িতে রয়েছে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি জেনারেল বুরহান। তিনি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী, তার কয়েকজন মন্ত্রীকে গৃহবন্দি করার পর তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বিলুপ্ত করে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একে সারাবিশ্ব সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পশ্চিমা অনেক মিডিয়া একে সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কিন্তু জেনারেল বুরহান তা মানতে রাজি নন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল করার ঘোষণা দেন।
কিছুক্ষণ আগে অনলাইন আল জাজিরা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দেয়া তথ্য উল্লেখ করে জানিয়েছে, আব্দাল্লা হামদুক’কে তার বাসায় ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ক্ষমতা গ্রাস করার কারণে আন্তর্জাতিক নিন্দা ঝড়ের মুখে পড়েন জেনারেল বুরহান। এদিনই তিনি প্রধানমন্ত্রী হামদুক ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন। দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তার ক্ষমতা দখলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সহায়তা স্থগিত করার হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁও অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী হামদুকের মুক্তি দাবি করেন। তিনি সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান মোকাবিলার জন্য বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদুকের অফিস থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সুদানের রাজধানী খার্তুমে নিজেদের বাড়িতে কঠোর নিরাপত্তায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী। তবে অন্য যেসব বেসামরিক কর্মকর্তাকে অভ্যুত্থানের দিনে আটক করা হয়েছিল, তারা এখনও সেনাবাহিনীর অধীনে আছেন। তাদেরকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি।
দুই বছর আগে দীর্ঘদিনের শাসক, প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। তারপর থেকে দেশটি পরিচালিত হচ্ছে সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের অধীনে সোভারিন কাউন্সিলের মাধ্যমে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই পরিষদে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। নেতৃত্ব দেন জেনারেল বুরহান। আগামী মাসে বেসামরিক সোভারিন কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা বলেছেন তিনি। যদি তাই হয়, তাহলে সেখানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল নিয়ে উত্তেজনার কিছুটা প্রশমন ঘটবে।
এরই মধ্যে সুদান এগিয়ে যাচ্ছিল গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে। তার আগেই অভ্যুত্থান ঘটানোতে সেই প্রচেষ্টা বিঘিœত হবে। মঙ্গলবারও অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থিরা সুদানের রাস্তায় রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। কয়েকদিনের বিক্ষোভে সেনারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।
ওদিকে সুদান ইস্যুতে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে নিরাপত্তা পরিষদ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। তবে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই অভ্যুত্থানকে এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব ‘অভ্যুত্থানের মহামারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এখানে উল্লেখ্য মিয়ানমার, মালি, গিনিতে এর আগে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। অনেক দেশে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে। মহাসচিব সেসব দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপাত্তা পরিষদে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে সদস্যরা বিভক্ত হয়ে আছেন। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস মহামারিতে অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে, তাতে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কিছু সামরিক নেতা মনে করেন, তারা পুরোপুরি দায়ুমুক্তির অধীনে আছেন। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করার মতো কেউ নেই।
এর আগে মিয়ানমার পরিস্থিতি এবং মালিতে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। কূটনীতিকরা বলেছেন, পরিষদ এখনও সুদানের বিষয়ে সম্ভাব্য একটি বিবৃতি নিয়ে আলোচনা করছে। বৈঠকের আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত দমিত্রি পোলিয়ানস্কি বলেছেন, পরিষদের উচিত সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো। তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় না যে, এমন সামরিক অভ্যুত্থান বা অভ্যুত্থান না ঘটার মতো বিষয়ে সমাধান করা আমাদের দায়িত্ব। ওদিকে আটক অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার আগে সুদানের প্রধানমন্ত্রী হামদুকের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। আটক সব বেসামরিক ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে তিনি সুদানের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত