তবে কি চীন ছাড়বে অ্যাপলও!

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) অক্টোবর ২৫, ২০২১, সোমবার, ৫:২০ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪২ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাপলও কি চীন ছেড়ে যাচ্ছে! যদি তা-ই হয়, তাহলে তারাই কি এক্ষেত্রে সর্বশেষ? এমন প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- একটা সময় ছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো, এমনকি ফেসবুক চীনের সর্বত্র বিরাজ করছিল। কিন্তু চীনের দমনপীড়নের অভিযোগে একে একে সব প্রতিষ্ঠান চীন ত্যাগ করছে। এখন সেখানে অ্যাপলের উপস্থিতি আকর্ষণীয়। এখনও চীনে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে মাইক্রোসফট। কিন্তু গত সপ্তাহে তারাও ঘোষণা দিয়েছে, চীনে তারা সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক লিঙ্কডইন বন্ধ করে দিচ্ছে। তারা বলেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন মেনে সেখানে কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। ফলে তারা ওই সিদ্ধান্ত নেয়। এর বাইরে চীনে নিজস্ব সেন্সরশিপ সমস্যা আছে অ্যাপলের। গত সপ্তাহে বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে ধর্মীয় দুটি জনপ্রিয় অ্যাপ সরিয়ে নিচ্ছে তারা। পরে শোনা গেছে, অ্যামাজন মালিকানাধীন অডিবল এবং ইয়াহু ফাইন্যান্স অ্যাপ সরিয়ে নেয়া হয়েছে ওই অ্যাপ স্টোর থেকে। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে নজরদারি করে অ্যাপল সেন্সরশিপ নামে একটি গ্রুপ। তারা বলেছে, তারা দেখতে পেয়েছে এ মাসে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক অ্যাপ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বেইজিংয়ে পর্দার আড়ালে কি ঘটছে তা আন্দাজ করা কঠিন। তবুও, যা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তাহলো- চীনা কর্তৃপক্ষ এবং প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যে এক আভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্যে পড়েছে অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট।

চীনের নিজস্ব কিছু জায়ান্ট প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টেনসেন্ট, আলিবাবা এবং হুয়াওয়ে। এগুলোও বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান। তারা যে শক্তি অর্জন করেছে বিশ্বজুড়ে, তা নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন চীন সরকার। বাজারে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করেছে আলিবাবা। এক তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়ার পর এপ্রিলে আলিবাবাকে রেকর্ড ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়। প্রযুক্তি বিষয়ক অর্থনীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য চীন সরকার আগস্টে ৫ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এ ছাড়া তারা বিটকয়েনের বিরুদ্ধেও দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে। বিপুল প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও বাদ যায়নি। ‘দ্য গ্রেট ফায়ারওয়াল অব চায়না’ বইয়ের লেখক জেমস গ্রিফিথস বলেন, চীনের এই দমনপীড়ন বলে যে, কয়েক বছরের তুলনায় নিজেদের অবস্থান ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে সচেতন হয়েছে অ্যাপল ও মাইক্রাসফট উভয়েই।

আগামী ১লা নভেম্বর একটি আইন কার্যকর হচ্ছে। এর নাম দ্য পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রটেকশন ল (পিআইপিএল)। মাইক্রোসফট বুঝতে পারছে তারা ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে। এই আইনের অধীনে কোম্পানিগুলোকে অধিক পরিমাণ বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। ফলে মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে লিঙ্কডইন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেছে। এ সম্পর্কে তারা বলেছে, কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ক্রমশ চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি এবং চীনের অধিকতর চাহিদা মেটানো নিয়ে বড় সমস্যা মোকাবিলা করছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ডিজিচায়না প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক গ্রাহাম ওয়েবস্টার বলেছেন, আমি মনে করি তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কারণ, তাদের কাছে এর কোনো বিকল্প ছিল না। আসন্ন পিআইপিএল কার্যকর করা নিয়ে লিঙ্কডইনের বিদায় উপলক্ষে এ কথা বলেন তিনি।

মাইক্রোসফটের চেয়ে চীনে অ্যাপলের ভিন্ন কিছু অগ্রাধিকার আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে চীনে অনেক গভীরে যুক্ত অ্যাপল। এ বছরে গত চতুর্ভাগে চীন ও তাইওয়ানে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় করেছে অ্যাপল। এ সংখ্যাটা ব্যতিক্রমী। চীনে উৎপাদনখাতের ওপর নির্ভর করে এর বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন। চীনের ক্ষেত্রে অ্যাপল ভাল করেই জানে তাদেরকে ব্যবসা করতে হলে দেশের আইন মেনে চলতেই হবে। যদি এক্ষেত্রে সেন্সরশিপ মেনে চলতে হয়, হয়তো তাও করা ভাল। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে চীনে কেন শুধু অ্যাপলের সফটওয়ার বিক্রি করা হচ্ছে না? কেন অ্যাপ স্টোরের কথা ভুলে যাওয়া হচ্ছে না? সমস্যাটা হলো, অ্যাপস্টোর এবং আইফোনকে একে অন্যের পরিপূরক বলে মনে করে অ্যাপল। যদি তা করা হয়, তাহলে এক্ষেত্রে অ্যাপল কম অর্থ আয় করবে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত