চীন-রাশিয়া সদয় হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে

কূটনৈতিক রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৫ অক্টোবর ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৫ অপরাহ্ন

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের আন্তরিকতার অভাবে রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন সমস্যা ঝুলে আছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি খোলাসা করেই বলেন, চীন ও রাশিয়া সদয় হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতিসংঘ দিবস-২০২১’ উপলক্ষে এক আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একজন যদি আপত্তি করে জাতিসংঘ সেখানে কিছুই করতে পারে না। তার ফলে রোহিঙ্গা সংকট এবং ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ঝুলে যাচ্ছে। জাতিসংঘের নিজের কোনো শক্তি নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তার শক্তি হচ্ছে সদস্য রাষ্ট্র। সেই কারণে আমরা ঝুলে আছি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং চীন। জাতিসংঘে কোনো বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাস করতে গেলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের একমত হতে হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে বিরোধিতা বা ভেটো দিয়ে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, রোহিঙ্গা ইস্যুকে যারা ঝুলিয়ে রেখেছেন তারা আগামীতে আরও সদয় হবেন। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন। তারা সদয় হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে- এটা নিশ্চিত। তাই আমরা আশাবাদী, আমাদের এ সমস্যার সমাধান হবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এমন অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, তবুও জাতিসংঘের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করবো না। জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ বরাবরই জাতিসংঘের সমর্থক। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মন্ত্রী বলেন, সেজন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে নিয়ে গর্বিত। বাংলাদেশও জাতিসংঘকে নিয়ে গর্বিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের কৃতীত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, কিন্তু আমরা এখনও জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পারিনি। আমরা ১৯৮৬ সালে সাধারণ অধিবেশনে সভাপতি ছিলাম। আগামী ২০২৬ সালে ফের বাংলাদেশ সভাপতি প্রার্থী। মন্ত্রী মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ফরেন পলিসির কারণে আমরা আন্তর্জাতিক নির্বাচনগুলোয় আমাদের জয় সহজ হয়। ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কামরুল ইসলাম এমপি বলেন, হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের হিন্দু-মুসলমানরা সমপ্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। তবে এখন সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের গভীর চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকাবাসীর সভাপতি শুকুর সালেক প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Alamgir Alam

২০২১-১০-২৫ ১৬:২৮:২৮

বাংলাদেশের জনগন/নাগরিকগন - মৌলিক চাহিদা “অন্ন” উৎপাদন করত – ক্ষুদ্রা নিবারন করে জীবনধারন করিতে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র - বাংলাদেশ’ – ‘বর্ষা মৌসুমে অতি জলস্রোত নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ’ এবং ‘শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় জল/ পানি সরবরাহ’ পূর্বক চাষযোগ্য ভূমি - সর্বদা চাষাবাদের অনুকূলে রাখিতে, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে বারংবার। আবাদি জমি- উজানের ঢলে, বন্যা মুক্ত থাকিলে এবং শুষ্ক মৌসুমে উজানে কৃত্রিম বাধ নির্মান করত প্রাকৃতিক জলধারায় হস্তক্ষেপ না করিলে – ভাটিতে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ’ এর চাষযোগ্য ভূমি - সর্বদা চাষাবাদের অনুকূলে থাকিত। তাতে, বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা - “অন্ন” সম্পর্কিয় খাদ্য শস্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ঘাটতি - দেশের জনগণ সম্মুখীন/ মুখাপেক্ষী হতেন না। তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে নদীটির বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুজ্জীবনে এবং ‘শরণার্থী বা উদ্বাস্তু - রোহিঙ্গা সমস্যা’ বিষয়ে – ‘গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’ – এর ‘জনগণ’ – রাষ্ট্রসংঘ/জাতিসংঘ হতে – যদি ‘ন্যায়-সহযোগিতা/ন্যায়-বিচার’ – বঞ্চিত হয় – ‘রাষ্ট্রসংঘ/জাতিসংঘ’ এর প্রয়োজনীতা/ভূমিকা বিষয়ে প্রশ্ন কেন উৎতাপিত হবে না?

Amir

২০২১-১০-২৫ ১০:১৭:৩২

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, রোহিঙ্গা ইস্যুকে যারা ঝুলিয়ে রেখেছেন তারা আগামীতে আরও সদয় হবেন।----- রোহিঙ্গা সমস্যা আমরা সৃষ্টি করিনাই, আমাদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, অতএব সদয় হন বলে তেল মাখলে কোন কাজই হবে বলে মনে হয় না ।এখন সময় এসেছে নতুন ইউনিটি সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে রোহিঙ্গাদেরসর্ব রকম সহায়তা দিয়ে মায়ানমারে প্রেরণ করা, যাতে রোহিঙ্গারা সংগ্রাম করে তাদের অধিকার তারাই আদায় করে নিতে পারে!

Emon

২০২১-১০-২৪ ১১:৩৭:২১

Absolutely right . But চীন এবং রাশিয়া বাংলাদেশকে lips service দিবে কখনও তারা সমাধানের পক্ষে কাজ করবে না কারণ তারা বার্মা যেটা চাই সেটাই করবে আমরা দেশপ্রেমের দায়িত্ব থেকে যাই বলি না কেন রাশিয়া ও চীন কখনও লাভ ছাড়া কাজ করে না বরংচো ক্ষতি করে।তারা বার্মার সাথে থাকলে নিজেদের লাভ হবে সেটা ভাল করে জানে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সিলেটে এগিয়ে গেল নৌকা

২৯ নভেম্বর ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ২৬৮৪ চিকিৎসকের বিবৃতি

২৮ নভেম্বর ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ...

শনাক্তের হার ১.১৫

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু

২৮ নভেম্বর ২০২১

দেশে একদিনে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ হাজার ...

উল্টো চাপে বাংলাদেশ

২৮ নভেম্বর ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status