যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবাঞ্ছিত করছে তুরস্ক

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) অক্টোবর ২৪, ২০২১, রোববার, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ১০ টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তারা তুর্কি সরকারের প্রতি অধিকারকর্মী ওসমান কাভালাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানোর পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এরদোগান। ওসমান কাভালার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গঠন না হলেও বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থান চেষ্টার দায়ে তাকে জেলে রাখা হয়েছে। অবাঞ্ছিত ঘোষিত ব্যক্তিকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হতে পারে অথবা দূতদের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হতে পারে। কাভালার মুক্তি চেয়ে এ সপ্তাহে যৌথ বিবৃত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা। এর মধ্যে সাতটি দেশ ন্যাটোর সদস্য ও তুরস্কের মিত্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ওসমান কাভালার বিরুদ্ধে বিচার মুলতবি অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে তুরস্ককে চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষক দ্য কাউন্সিল অব ইউরোপ। বলেছে, কাভালাকে মুক্তি দিতে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসের রায়ের বিষয়ে মনোযোগ দিতে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট শনিবার এস্কিশেহিরে এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, ওইসব রাষ্ট্রদূত তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার সাহস দেখাতে পারবেন না এবং অন্যদের নির্দেশ দিতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি এবং বলেছি, কি করতে হবে। এই ১০ জন রাষ্ট্রদূতকে একযোগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। তা করতে হবে অবিলম্বে।
তার এই নির্দেশের পর কি ঘটবে তা পরিষ্কার নয়। এরদোগান আরো বলেছেন, রাষ্ট্রদূতদেরকে বুঝতে হবে তুরস্ককে, না হয় তুরস্ক ত্যাগ করতে হবে। এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। তিনি এ নির্দেশ দিলেও রাষ্ট্রদূতদের পক্ষ থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তেমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুধু জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যেসব দেশ এর সঙ্গে যুক্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ বিষয়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষের তরফে পাঠানো কোনো সরকারি নির্দেশনা পাননি কোনো রাষ্ট্রদূত বা সংশ্লিষ্ট সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের দূত এমন কিছু করেননি, যার জন্য তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
ওদিকে কাভালাকে নিয়ে ‘দায়িত্বহীনের’ মতো বিবৃতি দেয়ার প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার ওইসব রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে তুরস্ক। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ওসমান কাভালার বিচার অব্যাহতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে। যা গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং তুরস্কের বিচার বিভাগের স্বচ্ছতার ওপর একটি ছায়া ফেলে বলে এর সমালোচনা করেছিল ওইসব দেশের দূতাবাস থেকে দেয়া বিবৃতিতে। এতে দ্রুততার সঙ্গে একটি রেজ্যুলুশন এনে কাভালাকে জরুরি ভিত্তিতে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় তুরস্কের প্রতি।
২০১৩ সালে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে আটক ওসমান কাভালাকে গত বছর অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু এর পরপরই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে মুক্তি দেয়ার রায়কে উল্টে দেয়া হয়। আনা হয় নতুন নতুন অভিযোগ। এর মধ্যে ২০১৬ সালে এরদোগান সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত চেষ্টার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ যুক্ত করা হয়। কোনো অন্যায় করার কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন ওসমান কাভালা। এরদোগান সরকারের সমালোচকরা বলছেন, দেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কি ভয়াবহভাবে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে, তার একটি উদাহরণ হলো ওসমান কাভালার ঘটনা। এ সপ্তাহে দেশের বিচার ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছেন এরদোগান। তিনি বলেছেন, আমি আমার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি: আমার দেশে এমন বিলাসী সুবিধা আমরা দিতে পারি না। তুরস্ককে এমন শিক্ষা দিচ্ছেন আপনার জন্য? আপনি নিজেকে কি মনে করছেন?

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status