ইসলামী আন্দোলনের ১০ প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার

দেশের চলমান সংকট নিরসনে ১০টি প্রস্তাবনা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সামপ্রতিক বাংলাদেশের ঘটনা আপনারা সবাই জানেন। হাজার বছর ধরে হিন্দু-মুসলিমরা এই ভূখণ্ডে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। একই রাস্তায়, একই মহল্লায় মসজিদ আর মন্দির বছরের পর বছর অবস্থান করছে। মানুষ যার যার ধর্ম পালন করছে। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো বিবাদ হলেও এই বছরের মতো ব্যাপক বিবাদ স্মরণকালে ঘটে নাই।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, কুমিল্লার একটি মন্দিরে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর স্ট্যাটাসকে ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যে সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত বিচার চাই। এ ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ অতি স্পষ্ট। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের ব্যর্থতা কল্পনাতীত।
আমরা মনে করি, জনপ্রশাসনে অতিমাত্রায় রাজনীতি প্রবেশের কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় এক ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। যার খেসারত এসব ঘটনা।
চরমোনাই পীর বলেন, এই বাস্তবতায় আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব করতে চাই। প্রস্তাবগুলো হলো-
১) কুমিল্লার ঘটনা ও তৎপরবর্তী ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। সেই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসম্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
২) ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে।
৩) রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতি বাচাল প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অতি বাচাল তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
৪) দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফেরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫) শাসন ব্যবস্থায় জনতার মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে এবং সহনশীল, বহুদলীয়, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
৬) বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করে এবং তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাহিনীগুলোকে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।
৭) গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গুলি করার মতো চরমপন্থা অবলম্বন করার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
৮) ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সরকারিভাবে নির্মাণ করে দিতে হবে এবং চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৯) দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও তথাকথিত সুশীল সমাজ এই ধরনের ঘটনায় যেভাবে ধর্মকে কেন্দ্র করে একচোখা বয়ান দাঁড় করায়, তা বন্ধ করতে হবে।
১০) প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিতে হবে।
এদিকে, আগামী ২৭শে অক্টোবর দেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দেশের সর্বমহলের শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।  

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সিলেটে এগিয়ে গেল নৌকা

২৯ নভেম্বর ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ২৬৮৪ চিকিৎসকের বিবৃতি

২৮ নভেম্বর ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ...

শনাক্তের হার ১.১৫

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু

২৮ নভেম্বর ২০২১

দেশে একদিনে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ হাজার ...

উল্টো চাপে বাংলাদেশ

২৮ নভেম্বর ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status