গেস্টরুমে ফের জুনিয়রদের নির্যাতনের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

শেষের পাতা ২২ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৫ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি
হল খোলার আগে গেস্টরুম বন্ধের বিষয়ে নিজেদের আন্তরিকতার কথা আগেই জানিয়েছিল ছাত্রলীগ নেতারা। কিন্তু হল খোলার পর এ ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গেস্টরুমের ‘ম্যানার’ না মানা, সিনিয়রদের সালাম না দেয়া এবং ছাত্রলীগের নিয়ম-কানুন না মানায় সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দ্বিতীয় বর্ষের ৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মারধরের নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুবাইল আহমেদের কর্মীরা। সুবাইল ও তার গ্রুপ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।
অভিযুক্ত দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামিম, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের শাকিল।
হলের প্রথম বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সুবাইলের গ্রুপের বড় ভাইয়েরা নিয়মিত গেস্টরুম করায়। সেখানে তারা বড় ভাইদের সালাম না দেয়া, হ্যান্ডশেক না করা, প্রোগ্রামে যেতে সামান্য দেরি হওয়ার কারণে মারধর করে। সপ্তাহে তিন চারদিন গেস্টরুমে নেয়। প্রতিবারই তারা কাউকে না কাউকে মারধর করে। এছাড়া পিতামাতার নাম নিয়ে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজও করেন। তবে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে জহুরুলই তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নির্দয় আচরণ করেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, গত শুক্রবার আমি হল গেইটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই খুব জোরে থাপ্পড় দেয়।
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে গেস্টরুমে ১৪টা নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়। কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। এছাড়া আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ। ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞেস করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন সে তার উত্তর দিতে না পারায় তাকে জহুরুল ভাই জোরে থাপ্পড় মারে।
অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কেউ ফোন ধরেননি। তবে আসন্ন হল কমিটিতে পদ প্রত্যাশী  ছাত্রলীগ নেতা সুবাইল মানবজমিনকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি। সিনিয়ররা তাদের সঙ্গে ধমক দিয়ে কথা বললেও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তারা আমাকে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিল্লাহ হোসেন মানবজমিনকে জানান, আমার কাছে অফিশিয়ালি কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সিলেটে এগিয়ে গেল নৌকা

২৯ নভেম্বর ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ২৬৮৪ চিকিৎসকের বিবৃতি

২৮ নভেম্বর ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ...

শনাক্তের হার ১.১৫

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু

২৮ নভেম্বর ২০২১

দেশে একদিনে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ হাজার ...

উল্টো চাপে বাংলাদেশ

২৮ নভেম্বর ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status