চিন্তার পরাধীনতা এবং ভয়ের সংস্কৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠে না

মোহাম্মদ মজিবুর রহমান

ফেসবুক ডায়েরি ৭ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

কেবল টাকা থাকলেই যদি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বানানো যেতো তাহলে অক্সফোর্ড, ক্যাম্ব্রিজ, হার্ভার্ড কিংবা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে না হয়ে সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকতো!

চিন্তার পরাধীনতা এবং ভয়ের সংস্কৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠে না। সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সাথে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। দরকার স্বাধীন ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ।

এবং মনে রাখা দরকার, বিশ্বের কোন দেশই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকে অবহেলিত রেখে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক,
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

md obaidur rahman

২০২১-১০-০৭ ১৪:৫৮:২২

A praisewothy comment which reflects the reality prevailing in our country prticularly in the domain of public universities. The intellectuals should ponder over the root causes of gradual falling standard of quality education here.

আবুল কাসেম

২০২১-১০-০৭ ০০:৩৩:৩২

আমাদের রাজনৈতিক সহনশীলতা তলানিতে, বিশ্বাস উঠে গেছে এবং গনতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় ক্যাডার বাহিনীর পদতলে পিষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দমনের জন্য নির্মম পথ বেচে নেয়া হয়েছে। বুয়েটের আবরার হত্যার বিচারের কোনো কুলকিনারা এখনো হয়নি। অতি মারি করোনার মধ্যেও কলেজ হোস্টেলে দলবেঁধে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা দলীয় বাহিনীর কারণে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতায় কালিমা লেপন করার সুযোগ তৈরি করেছে। এদের দ্বারাই বিশ্বজিৎ প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। দাবি আদায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় হেনস্তা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে ক্ষমতাশীন ছাত্র সংগঠনের 'টর্চার সেল' তৈরি করা হয়েছে। হলগুলোর 'গণরুম' ও 'গেস্টরুম' রীতিমতো নির্যাতনের ইতিহাস রচনা করেছে। একবুক আশা ও বড়ো হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম গঞ্জের ছাত্র ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। তাদের স্বপ্নীল ব্যক্তিত্ব ও বড়ো হওয়ার আকাঙ্খা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গেস্টরুমে, গণরুমে। যারা এসব অপকর্মে জড়িত তারাও স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে। অসহিষ্ণু রাজনীতির নোংরা খেলার শিকার হয়ে তারা বিপথগামী হয়েছে এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারে স্বপ্নবাজ তরুণদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। মুষ্টিমেয় কিছু ক্যাডারের বিভীষিকা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর বর্তায়। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে প্রশাসন বহুলাংশে ব্যর্থ। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের খ্যাতি এখন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসনের জন্য শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান হওয়া আবশ্যক। সেই জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবী দাওয়ার প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধা বোধ থাকা এবং তাদের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে রাখা বাঞ্ছনীয়। তাহলে তারা সহনশীলতা সম্প্রীতি শিখবে এবং আত্মমর্যাদাবান হবে। জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে। এখানে সেক্যুলার নিয়েও গবেষণা হবে এবং ধর্মগ্রন্থ নিয়েও উন্মুক্ত গবেষণার আয়োজন থাকতে হবে। তাহলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সার্থকতা পাবে। ভয়ের সংস্কৃতি শিক্ষার্থীর জীবনে ও শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার আলো জ্বালাতে পারে না। সুতরাং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাব মুক্ত করা অপরিহার্য।

MOHAMMED KAMAL HOSSA

২০২১-১০-০৭ ১২:৩৩:২৯

Thank you Sir for your valueable comments

আপনার মতামত দিন

ফেসবুক ডায়েরি অন্যান্য খবর

কি মর্মান্তিক!

৯ জুলাই ২০২১



ফেসবুক ডায়েরি সর্বাধিক পঠিত



পিতার জন্মদিনে মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘মির্জা আলমগীরের সারাজীবনের রাজনীতি বৃথা যাবে না’

DMCA.com Protection Status