জাফলং সিন্ডিকেট মন্ত্রীর নির্দেশ এবং...

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৭ অপরাহ্ন

জাফলংয়ে অবাধে বালু লুটপাট বন্ধ করতে সিলেটের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন জাফলংয়ের নয়াবস্তি গ্রামের আলীম উদ্দিন। পরে জাফলং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়। এরপরও টনক নড়েনি পুলিশের। এক পর্যায়ে স্থানীয় নয়াবস্তি গ্রামের 
লোকজন পিয়াইনের তীরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বন্ধ করে দেয়া হয় পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ইসিএ জোন থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন। এরপর প্রতিবাদকারীদের শায়েস্তা করতে জাফলংয়ে মহড়া দেয় বালু খেকো চক্রের ক্যাডাররা। এ নিয়ে গত বুধবার এলাকার সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছে ঢাকায় ছুটে গিয়েছিলেন আলীম উদ্দিন ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ইনছান আলী। ওখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর একান্তজন ও গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ফজলুল হক। মন্ত্রী সব শুনে গোয়াইনঘাটের ওসি পরিমল দেবকে ফোন করে জাফলংয়ের ইসিএ জোন এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর থেকে দফায় দফায় জাফলংয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের চেষ্ঠা চালানো হয়েছে। রাতের আঁধারে ও দিনে যখনই বালু ও পাথর উত্তোলনের চেষ্ঠা চালানো হয় তখনই এলাকার মানুষ বাধা দেয়। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে জাফলংয়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোয়াইনঘাট থানার ওসি পরিমল দেবের বিরুদ্ধে। তারা জানিয়েছেন, ওসি পরিমল টাকায় অন্ধ হয়ে গেছেন। প্রতিদিন বালু লুটপাটকারীদের পক্ষ থেকে তাকে ২ লাখ করে টাকা দেয়া হয়। টাকা দিয়ে ওসিকে ম্যানেজ করার কারণে এখন তার নেতৃত্বেই জাফলং সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইসিএ জোন এলাকায় বালু উত্তোলনে লুকোচুরি চললেও পার্শ্ববর্তী বাংলাবাজার থেকে পাঁচসেওতী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় লুটপাট চালানো হচ্ছে। ওই এলাকাও লিজের বাইরে অবস্থিত। এ নিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষও ক্ষুব্ধ। নয়াবস্তি গ্রামের আলীম উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি ও তার পিতা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি অভিযোগ দিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রী নিজেও অধ্যাপক ফজলুল হককে জাফলংয়ের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিলেটে ফিরে অধ্যাপক ফজলুও রহস্যময় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বালু খেকোদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয়রা সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, জাফলংয়ের ইসিএ জোনে গত ৩ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা বালু লুটপাট করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পরিবারের জামাই ইমরান হোসেন সুমন ও বিশ্বনাথের ফয়জুল এই লুটপাটের নেতৃত্বে রয়েছে। তাদের সঙ্গে ছাতকে চাঁদাবাজির ঘটনায় জেলে থাকা বালু খেকো আলাউদ্দিনের কয়েক জন স্বজনও রয়েছে। স্থানীয় শামসুল আলমসহ কয়েকজনও ছিল ওই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ছাড়া বাংলাবাজার থেকে পাঁচসেওতী বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় আরও একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এরা শুধু জাফলংকেই লুটেপুটে খায়নি, তারা গোটা গোয়াইনঘাট জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এর মধ্যে হাদারপাড়, আড়কান্দিসহ কয়েকটি এলাকায় তারা বালু উত্তোলন করে। লিজ বর্হিভূত এলাকা থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে বসতবাড়ি, কবরস্থান, সরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। নৌ চলাচলের কারণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের প্রচেষ্ঠার অন্যতম উন্নয়ন শতকোটি টাকা ব্যয়ে জাফলং ব্রিজসহ প্রায় ৫টি ব্রিজ হুমকির মুখে। এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে নৌ চলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বালুবাহী ভলগেটের ধাক্কায় ফাঁটল ধরে ছিল গোয়াইন ব্রিজে। এ ছাড়া জাফলংয়ের নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি, বাংলাবাজার, লাখেরপাড়ের বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে নয়াবস্তির একটি কবরস্থানের অর্ধেক এলাকা অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে, মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে গতকাল সকালেও পুলিশের পরোক্ষ প্রভাবে ফের জাফলংয়ে বালু উত্তোলনে নামে ওই সিন্ডিকেট। এ সময় তারা শতাধিক বোমা মেশিন নিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলন করে। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ওসি পরিমলের নির্দেশে তারা বোমা মেশিন সরিয়ে ফেলে। জাফলংয়ের বিবদমান ওই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে জাফলং বাজার, নয়াবস্তি ও কান্দুবস্তির বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তারা জানান, জাফলংয়ে অনিয়মই এখন নিয়ম। পুলিশও রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে। এ কারণে বালু ও পাথর লুটপাটকে কেন্দ্র করে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। অতীতেও জাফলংয়ে একাধিকবার এ ধরনের ঘটনায় খুনোখুনিও হয়েছে। তবে, জাফলংয়ে বালু ও পাথর লুটপাটকারী সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ত বালু ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, সুমন ও ফয়জুল তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বালু ও পাথর লুটপাটে তারা জড়িত নয় বলে জানান। এখানে স্থানীয়রা বালু উত্তোলন করছে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি পরিমল দেব জানিয়েছেন, জাফলং ইসিএ জোন হওয়ায় বালু উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। বালু উত্তোলনের নামে টাকা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। আলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, জাফলংয়ে সংঘর্ষ, খুনোখুনি করতে চাইছে বালু লুটপাটকারী চক্র। আমরা এলাকাবাসী চূড়ান্ত ধৈর্য ধারণ করলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।’

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

কুমিল্লার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দায় এড়াতে পারে না

২৫ অক্টোবর ২০২১

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনা ...

পায়রা সেতুর উদ্বোধন, ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের ভিত্তিস্থাপন

বাংলাদেশকে আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না

২৫ অক্টোবর ২০২১

ডলারের মূল্য ৯০ ছাড়ালো

২৫ অক্টোবর ২০২১

মুহিবুল্লাহ হত্যা, সরাসরি জড়িত আজিজসহ গ্রেপ্তার ৪

কিলিং মিশনে ১৯ জন

২৪ অক্টোবর ২০২১

ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনে সালমান এফ রহমান

ইলেকট্রনিক পণ্য গার্মেন্ট খাতকে ছাড়িয়ে যাবে

২৪ অক্টোবর ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



আলিশা মার্টের অফিসে ভিড়

টাকা-পণ্য কিছুই মিলছে না

DMCA.com Protection Status