বিশ্বকাপের সঙ্গে টেস্টেও চোখ নির্বাচক বাশারের

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার

আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টাইগারদের বিশ্বকাপের সুপার-১২ তে খেলার আগে পার হতে হবে বাছাই পর্বের গণ্ডি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেনি বাংলাদেশ দল। সবকিছু ঠিক থাকলে বাছাই পর্বের ভেন্যু ওমানে আগামী ৫ই অক্টোবর শুরু হবে প্রস্তুতি ক্যাম্প। তবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিশ্বকাপ বাহিনী দেশের মাটিতে অনুশীলন করছে ব্যক্তিগতভাবে। শুধু তাই নয়, ‘এ’ দলের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের প্রস্তুত করতে চট্টগ্রাম পৌঁছেছে বিশ্বকাপ দলের তারকা মুশফিকুর রহীম, সৌম্য সরকাররা। এছাড়াও এইচপির হয়ে মাঠে দেখা যাবে শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সঙ্গে জাতীয় দলের নির্বাচকদের চোখ টেস্ট ক্রিকেটেও।
কারণ, নভেম্বরেই বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। যে কারণে টেস্ট দলকে প্রস্তুত করতে জাতীয় ক্রিকেট লীগও শুরু করতে যাচ্ছে বিসিবি। নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘বিশ্বকাপের পরপরই আমাদের কিছু টেস্ট ম্যাচ আছে। এটা কিন্তু খেলোয়াড়দের তৈরি করার জন্যে ভালো একটি সুযোগ। আমরা খুব একটা টেস্ট খেলার সুযোগ পাইনি। অনুশীলন ম্যাচ আর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য অবশ্যই আছে। আমি মনে করি পাকিস্তান সিরিজের আগে এনসিএলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি হবে আমাদের।’

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বাশার বলেন, ‘এবার আমরা একটু সময় নিয়েই এনসিএল শুরু করতে যাচ্ছি। দলগুলোকে যথেষ্ট সময় দেয়া হচ্ছে। সাধারণত যখন এনসিএল শুরু করি, দলগুলো খুব একটা সময় পায় না। এবার প্রায় এক মাস সময় পাচ্ছে। আপনারা জানেন যে, ২০-২২ জনের একটা টিম করে দেয়া হয়েছে। এখন ফিটনেস ট্রেনিং চলছে। ১ তারিখ থেকে ফিটনেস টেস্ট হবে। এর আগে ওরা ট্রেনিংয়ের সুযোগ পায়নি। এবার সুযোগটা করে দেয়া হয়েছে। ফিটনেস টেস্টের পর ১৬ জনের দল করা হবে। সবসময় আমরা ১৪ জনের দল দেই। এবার করোনার জন্য দুই জন বেশি দিচ্ছি। এরপর ওরা টুর্নামেন্টে চলে যাবে। তাদের স্কিল ট্রেনিং ৫ তারিখে শুরু হয়ে যাবে। সবাই যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন প্রস্তুতির জন্য। যেহেতু উইকেটগুলোও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছে কিছু দিনে, আশা করছি এবারের এনসিএল খুব প্রতিযোগিতামূলক হবে।

হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের এই এনসিএলটা যখন শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গেল, তার পেছনে বড় কারণ ছিল ট্রাভেলিং। আমরা চাই যেন হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেলতে পারি। সবাই সবার বিভাগে গিয়ে খেলুক। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে কিন্তু আইপিএলের মতো অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু আমরা সবাই জানি, কোভিডের সঙ্গে আমাদের এখনো লড়াই করতে হচ্ছে। ট্রাভেলিংটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাভেলিং করতে গিয়েই গতবার আমাদের বন্ধ হয়েছে। এখন পর্যন্ত যতদূর জানি দুইটা ভেন্যুতে খেলা হবে। একটা কক্সবাজার, আরেকটা সিলেটে। দুইটা গ্রুপ হবে। যারা যেখানে থাকবে, তারা সেখানে খেলবে।’

নির্বাচক বাশার বলেন, ‘মুশফিকুর রহীম খেলছেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শামিম পাটোয়ারী- ওরা দুজন আমাদের এইচপি প্লেয়ার। তো ওরা এইচপি টিমে জয়েন করেছে। ওদের সঙ্গে আমাদের এমন কথা হয়েছিল। ওরা যখন জাতীয় দলে খেলবে না তখন এইচপি দলে খেলবে। সৌম্য সরকার হয়তো জয়েন করবেন। জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটার যদি মনে করে তার একটু অনুশীলন করা দরকার, তারা করতে পারে। আমরা চাই যতদূর সম্ভব খেলুক। টেস্ট ম্যাচের আগে ফার্স্ট ক্লাস যত খেলবে তত ভালো। এটা একটা ব্যাপার যে তাদের মানসিক বিশ্রামের দরকার হয়, আমরা চাই যে তারা ফার্স্ট ক্লাশ যত খেলবে তত ভালো। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়ে বাশার বলেন, ‘শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গতবার শুরুটা ভালো করতে পারিনি। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে একটু বেগ পেতেই হবে। আমরা গতবার যা করেছি সেটার পুনরাবৃত্তি চাই না। এবার আমরা দেশের মাটিতে খেলতে পারছি। যদিও পাকিস্তান খুব ভালো দল টেস্টে। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।

আপনার মতামত দিন

খেলা অন্যান্য খবর



খেলা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status