জাতিসংঘে তালেবানদের পক্ষে সমর্থন চাইলেন ইমরান খান

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (৩ সপ্তাহ আগে) সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, শনিবার, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:১৫ অপরাহ্ন

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন প্রত্যাশা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কাশ্মীরের সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে। শুক্রবার তিনি ভিডিও মারফত রেকর্ড করা বক্তব্য রাখেন। আহবান জানালেন ইসলামভীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের। বলেছেন সন্ত্রাসকে প্রতিহত করতে হলে তালেবান সরকারকে সমর্থন দিতে হবে। জাতিসংঘের ৭৬ তম বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে ইমরান খান বলেন, সমস্যা সমাধানের একটাই উপায় আছে তাহলো আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা। আফগানিস্তানের জনগণের জন্যই তা প্রয়োজন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর অন্যথা হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। উল্লেখ্য, তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বার বার তালেবান সরকারকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। পশ্চিমা অনেক দেশ তালেবান সরকারের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ত্রাণ সহায়তার।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২১-০৯-২৪ ২২:৪৩:১৯

একটা দেশের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মান থাকা উচিত। আফগানিস্তানে যে তালেবান সরকার গঠিত হয়েছে তা জনগণের বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। জনগণ না চাইলে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণ করা তো থাক দূরের কথা বহু আগেই নিঃশেষ হয়ে যেতো। প্রথমতঃ সোভিয়েত বাহিনীর আক্রমণ, এরপরে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা জোট ন্যাটো বাহিনীর দীর্ঘ দুই দশকের দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের অসংখ্য নিরীহ মানুষ- শিশু, নারী, বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। একটা জাতিগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীন জীবনাচার দমন করতে গিয়ে আফগানিস্তানের মাটিতে যা করা হয়েছে তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যে কি পড়েনা? না এটা সন্ত্রাসী কাজ নয়। কারণ বিশ্বের মোড়ল দেশগুলো এটা করেছে। বরং উল্টো তালেবানদের সন্ত্রাসী বলা হয়েছে। যেমন কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের বলা হয় সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী। প্রত্যেক জাতিসত্তার বিশ্বাস ও মত প্রকাশের নিজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের উপর বর্তায়। জাতিসংঘ শুধু কেবল আমেরিকা, ইউরোপ ও পরাশক্তিদের স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। বিশ্বের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থও জাতিসংঘকে নিশ্চিত করতে হবে। তাই কাল বিলম্ব না করে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি দিতে হবে। আফগান জনগণ না চাইলে তালেবানরা আফগানিস্তানের মাটিতে কখনো বিজয়ী হতে পারতোনা এবং সরকারও গঠন করা সম্ভব হতোনা। সুতরাং, আফগানিস্তানের জনগণের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এভাবে কাশ্মীর এবং বিশ্বের যেসব স্থানে যারা স্বাধীনতাকামী আছে তাদেরকে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী না বলে তাদের স্বাধীন ভাবে বাঁচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। আর পশ্চিমা ইহুদি গোষ্ঠীর ইসলামোফোবিয়ার জুজুর ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ ও ইতিহাস তুলে ধরাও জাতিসংঘের কর্তব্য। কারণ, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইহুদি গোষ্ঠী ইসলামোফোবিয়ার মিথ্যা জুজুর ভয় দেখিয়ে বিশ্বকে পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিনত করেছে। যতোদিন এই মিথ্যা জুজুর ভয় দেখিয়ে যাওয়া হবে ততোদিন বিশ্ব সন্ত্রাস মুক্ত করা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে একটি অন্ধকার, বর্বর, অসভ্য ও 'জোর যার মুল্লুক তার' তত্ত্বে বিশ্বাসী সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠীর উপর শান্তির বারতা ছড়িয়ে দিয়ে ইসলাম এসেছে এই পৃথিবীতে। ইসলাম শব্দের অর্থই শান্তি। সুতরাং, বিশ্ব অশান্তি মুক্ত করতে হলে ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status