ভোটবর্জন বিএনপির জন্য আত্মহননমূলক: তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন (৩ সপ্তাহ আগে) সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, শুক্রবার, ৬:১২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৭ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনীতিতে যারা জনগণের ভোট ও রায়ের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য নির্বাচন বর্জন আত্মহননমূলক  সিদ্ধান্ত, কিন্তু যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা নির্বাচন বর্জন করতে পারে।  শুক্রবার দুপুরে খুলনা ডিসি অফিস সভাকক্ষে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. হাছান বলেন, পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি না কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যায়নি, কিন্তু নির্বাচন হয়েছে এবং দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে-যাবে না করে গাধার জল ঘোলা করে খাওয়ার মতো শেষে গেছে। তাই তাদের এ সিদ্ধান্তই থাকবে কি না, জানি না, কিন্তু বিএনপি'র জন্য এ সিদ্ধান্ত আত্মহননমূলক। অবশ্য বিএনপি'র সবসময় পেছনের দরজাটাই পছন্দ। খুলনার ডেপুটি কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি  শেখ হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোল্লা জালাল এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এর আগে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
গত সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের রাজনীতিটা ছিল জনগণের বিপক্ষে। মন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, হরতাল- অবরোধের নামে জনগণকে বন্দী করে রাখা এসবের মধ্যেই বিএনপির রাজনীতিটা সীমাবদ্ধ ছিল। একারণেই প্রতিনিয়ত তারা জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে এবং এই প্রেক্ষাপটে তারা সিরিজ বৈঠক করেছে। তাদের উচিত জনগণের সাথে বৈরিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা। এদিন সকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বেতারের খুলনা কেন্দ্রে পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এসময় বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক আহম্মেদ কামরুজ্জমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে খুলনা সার্কিট হাউজে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৯-২৫ ১০:১৭:০২

............থাকলেই না বর্জনের প্রশ্ন!

আবুল কাসেম

২০২১-০৯-২৪ ০৯:৪০:৪৮

একটি 'ইনশাআল্লাহ্' ও একটি 'বিসমিল্লাহ্'র অলৌকিক ক্ষমতা ------------------------------------------- তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মানুষ যখন শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমানুপাতিক অধিকার বঞ্চিত, চরম আকারে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার, রাজনীতিতে সামরিক শাসনে পিষ্ট হয়ে মৌলিক গণতন্ত্রের ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণার শিকার এবং দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে ঠিক তখন রাজনীতির মাঠে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর মোহনীয় ব্যক্তিত্ব, দেহ ভাষা, উদার মন ও সকলের জন্য অবারিত ভালোবাসা হাজার বছরেও ম্লান হবার নয়। তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রষ্টা ও রূপকার। তিনি স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র মানুষের হৃদয় মনে প্রোথিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁর ডাকেই জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়। তাঁর ৭-ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পরের দিন ৮-ই মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্ব পাকিস্তানের ছয়টি বেতার কেন্দ্র- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও খুলনা থেকে একযোগে প্রচারিত হয়। সারা দেশের মানুষ তখন উদ্বেলিত। আমাদের ঘরের আঙিনায় পুরো উঠানের উপর ছায়া বিস্তারকারী পেয়ারা গাছের নিচে আমার বড়ো ভাই পাটি বিছিয়ে দেন। (গাছটি পরে ঘর সহ পাকিস্তানী সেনাদের আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যায়) বাড়ির সবাই পাটিতে বসে পড়লে তিনি রেডিও চালু করেন। পিনপতন নীরবতা! বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবাই শুনতে থাকে। মনে হচ্ছিলো,সেই ক্ষুদ্র সমাবেশের সবাই একেকজন সৈনিক বা যোদ্ধা। আর কমান্ডার দরাজ কণ্ঠে সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। ভাষণের শেষপর্যায়ে তিনি যখন বললেন, 'রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ্।' মুহূর্তের মধ্যে সবাই আন্দোলিত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আমার বড় ভাই বলে উঠলেন, 'ইনশাআল্লাহ্' বলিয়াছে, জয় আমাদের হইবেই।' (তখন মানুষ সাধু ভাষায় মনের ভাব ব্যক্ত করতো) এই হলো 'ইনশাআল্লাহ্' উচ্চারণের তাৎক্ষণিক ফলাফল! বঙ্গবন্ধুর 'ইনশাআল্লাহ্' উচ্চারণ সেদিন ম্যাজিকের মতো কাজ দিয়েছে। 'ইনশাআল্লাহ্'র কেরামতি মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত জাতির মন জয় করে নিয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ রেডিওতে সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছিলো। 'ইনশাআল্লাহ্' একটি মন্ত্রের মতো স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করেছে। মুসলমানরা কোনো কাজ করার মনস্থ করলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর তাওয়াককুল বা ভরসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে 'ইনশাআল্লাহ' বলে। একটি জাতির নৃতত্ত্ব, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, আবেগ, অনুভূতি, আকাঙ্খা, সামাজিক প্রথা, দীর্ঘদিনের লালিত রেওয়াজ, ঐতিহ্য ইত্যাদি বুঝে নিতে মুহূর্তকাল দেরি হয়না একজন জন সম্পৃক্ত জনদরদি জননেতার। বঙ্গবন্ধু একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। তাই তাঁর বুঝতে দেরি হয়নি, 'ইনশাআল্লাহ'র মন্ত্র দিয়েই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মন জয় করতে হবে, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করতে হবে, স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। আল্লাহর বিধি বিধান মানুষ মানুক বা না মানুক- জনমনে আল্লাহ্, রাসূল, ফেরেস্তা ও পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তাই তারা সুদীর্ঘকাল থেকে বংশপরম্পরায় গর্বের সাথে মুসলমান হিসেবে পরিচয় বহন করে চলছে। এদেশের মানুষের ঘুম ভাঙে ফজরের আজানের ধ্বনিতে। এরপর 'বিসমিল্লাহ' বলে খেটে খাওয়া মানুষ মাঠে বেরিয়ে পড়ে কাক ডাকা ভোরে। ক্ষেতের ফলনের কথা জিজ্ঞেস করলে বলে, 'এবার ভালো ফসল হবে ইনশাআল্লাহ।' তাই সেদিন বঙ্গবন্ধুর মুখে 'ইনশাআল্লাহ্' শুনে মানুষ উজ্জীবিত হয়। একটা জাতির মানুষের বিশ্বাসের বিপরীতে চলতে গেলে হোঁচট খেতে হয়। মানুষের সমর্থন হারাতে হয়। সেজন্যই ভোটের সময় ভোটারের উপর আস্থা রাখতে সংকট দেখা দেয় এবং বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়। গনতান্ত্রিক অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়। ফলে কখনো মৌলিক কখনো উন্নয়নের গনতন্ত্রের কথা বলে মানুষকে প্রবোধ দিতে হয়। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে 'বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম' সংযোজন করা হয়। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তাকে কখনো ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তবুও সেই সময় জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিলো ঈর্ষান্বিত। এটা 'বিসমিল্লাহ্'র রহস্য কিনা কে জানে! কারণ দেশের আপামর জনসাধারণের নিত্যদিনের বিশ্বাসের সাথে 'বিসমিল্লাহ্'র রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে, তেমনি ১৯৭৯ সালেও উৎসবের সঙ্গে ভোট দিতে পেরেছে। এখন ভোট কেন্দ্র থেকে মানুষ কেনো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং নির্বাচনে নানা কলাকৌশলের আশ্রয় নিতে হয় তা বুঝতে হলে সেই 'ইনশাআল্লাহ্' ও 'বিসমিল্লাহ্'র কেরামতি বুঝতে হবে। আর মূল ধারার ইসলামী দলের সঙ্গে যাদের নির্বাচনী ঐক্য তারা কখনো নির্বাচনে জনসমর্থন হারানোর ভয় করতে দেখা যায়নি। এবার ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি। তবুও এতো সহিংসতা কেনো? মানুষের লাশ পড়লো কেনো? রাজনীতি যেমন বিরাজনীতিকরণ হচ্ছে, নির্বাচনও তেমনি অপনির্বাচনে পরিনত হচ্ছে। 'ইনশাআল্লাহ্' আর 'বিসমিল্লাহ্'র আবেগ কাজে লাগিয়ে এখনো রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যেকোনো কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

মাসুদুল হক

২০২১-০৯-২৪ ০৯:০৮:২২

জনাব হাসান মাহমুদ ভোট বর্জন যদি বিএনপির জন্য আত্মহনন হয় তাহলে তো আপনাদের খুশি হবার কথা তাই না? বিএনপি আত্ম হত্যা করুক না। তাতে তো আপনারাই লাভবান হবেন। বিএনপি নিয়ে খামোখা দুশ্চিন্তা করিয়েন না জনাব।

আবুল কালাম আজাদ

২০২১-০৯-২৪ ০৬:৩৭:৪৯

হাসান মাহমুদ সাহেব বললেন ভোট বর্জন বিএনপির জন্য আত্মহনন মুলুক, ভালো কথা, হাসান মাহমুদ এর যদি বিন্দু মাত্র লজ্জা থাকতো তাইলে এমন বাক্য মুখে আনতোনা, কারন আওয়ামিলীগ জনগনের ভোটে কখনোই নির্বাচিত হয়েছে, না হয়নি, রাতের আধারে পুলিশ দিয়ে ভোট ডাকাতি করে, ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, আবার এই আওয়ামিলীগ যদি বড় কথা বলে, এটা নির্ঘাত নির্লজ্জতা ছারা আর কিছুই হতে পারে না!!

Tuheen

২০২১-০৯-২৪ ০৫:৩১:৪৭

মাস্ক দাড়ি ঢাকার জন্য না মুখ ঢাকার জন্য। আপনার মুখ থেকেও ভাইরাস বের হতে পারে । সবসময় মাস্ক আপনার দাড়ির ঢাকা থাকে বিষয় টা লজ্জা জনক

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

শনাক্তের হার ১.৭৪

করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু

১৭ অক্টোবর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে সংঘর্ষ, নিহত ৩

DMCA.com Protection Status