নি র্বা চ ন

রোডম্যাপ তৈরি করছে আওয়ামী লীগ

কাজী সোহাগ

প্রথম পাতা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৬ অপরাহ্ন

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলীয় প্রধান সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের দুই বছরেরও কম সময় থাকায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন নেতারা। গত ৯ই সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আগামী নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতাদের নানা নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। এজন্য তাদেরকে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়ে নেয়ার কথা বলেন। আর যারা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধ-বিবাদে জড়াবেন তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যেসব জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে সেইসব জেলায় অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয় বৈঠক থেকে।
গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখে দলীয় নেতারা সিদ্ধান্ত তৈরি করছেন। কমিটি, দলীয় কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য, এমপিদের সঙ্গে নেতাদের বিরোধ, মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের মতবিরোধ, পকেট কমিটি, অনুপ্রবেশ, যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যদের দলে স্থান, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে দলকে ব্যবহার, দলের মধ্যে থেকে দ্বৈত ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ছয় মাস কাজ করবে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল থেকে বিরোধ মিটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নেবে দলটি। এরপরই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলীয় প্রার্থী কারা হবেন তার একটি সম্ভাব্য তালিকা স্থানীয়ভাবে ঠিক করবেন দলের নেতারা। পরে তা পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। তারা আবার ওই তালিকা নিজেদের মতো যাচাই-বাছাই করে পাঠাবেন দলীয় সভাপতির কাছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি দিলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা কাজ করবেন। এর অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরবেন তারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সরকারের সফলতা নিয়ে কাজ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এদিকে, আগামী নির্বাচনে জোটের বিষয়টিকে এখন থেকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের নির্বাচিত কয়েক নেতা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। নীরব দায়িত্ব পেয়ে ওইসব নেতা আপাতত ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের ছক কষছেন তারা। শিগগিরই এসব বিষয় সামনে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এদিকে, নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অক্ষশক্তিকে এখন পর্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। তবে তারা সরকারের বিরুদ্ধে খুব বেশি শক্ত অবস্থান নিয়ে থাকতে পারবেন না বলে বিশ্বাস। তাদের যুক্তি-সাংগঠনিকভাবে ওই শক্তি এখন পর্যন্ত দুর্বল হয়ে আছে। তবে নির্বাচনের আগে তারা সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী হয় তা সময়ই বলে দেবে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি ও জামায়াত দুটি দলই রাজনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থা অতিক্রম করছে। তারা প্রচণ্ড অগোছালো। নানা মতের নানা চিন্তার মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দল দুটিকে প্রভাবিত করছে। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের শক্তি আছে কিনা তা ভাবতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের একটি দল। তারা জোটবদ্ধ হয়ে আছে বিএনপির সঙ্গে। এখন বিএনপি যদি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয় তাহলে জামায়াতকে ছাড়া উচিত। আমরা দেখতে চাই সামনের দিকে জামায়াত নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা মানবজমিনকে বলেন, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন তারা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। এজন্য কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার পাশাপাশি জেলা সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত নির্বাচনের আগে যেভাবে বিভাগওয়ারী কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবারো একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, করোনার কারণে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম খুবই সীমিত আকারে পরিচালনা করেছি। এবার বৃহৎ পরিসরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে কমিটিগুলো গঠনের পর দলীয় যেসব কর্মসূচি আসবে সেগুলো যথাযথভাবে পালন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, করোনা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেনো আমাদের অনুকূলে থাকে সে কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিসহ অন্য কোনো দল যেনো দেশে রাজনৈতিকভাবে অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে আওয়ামী লীগের। যেহেতু আমরা সরকারে আছি সেহেতু কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা নতুন করে গ্রহণ করেছি। যেটা প্রথমবার নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০ এই ১০ বছর মেয়াদি। এবার গ্রহণ করেছি ২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত, আমরা বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের দেখা উচিত, কার কী ইস্যু আছে তা বুঝে নিয়ে কাজ করা উচিত। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে থমকে যাওয়া সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এখন সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। করোনার কারণে অনেক জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখন সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী রোডম্যাপে আসনভিত্তিক কোন্দল মেটানোকে প্রাধ্যান্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। মানবজমিনকে তারা জানান, প্রায় এক বছর ধরে দলের কেন্দ্র থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় তৃণমূলে। দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেয়া হয়। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়, দলের মধ্যে কেউ যেন বিদ্রোহ না করে। এসব নির্দেশনায় খুব একটা কাজ হয়নি। দলের কেন্দীয় সাংগঠনিক নেতারা বিভিন্ন জেলার নেতাদের বিদ্রোহ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব সামলাতে হিমশিম খান। এ বার্তা পৌঁছে যায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কানেও। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরোধ মেটাতে নতুন করে কাজ শুরু করবে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলেন, যারা কেন্দ্রের নির্দেশনা মানবেন না তাদের জন্য রয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। দল থেকে বহিষ্কারসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। এদিকে, নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপপ্রচার রোধে এক লাখ অনলাইন এক্টিভিস্ট-এর সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফরম তৈরির কাজ করছে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি। এ লক্ষ্যে সারা দেশে অনলাইন এক্টিভিস্টদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করছে দলের এ উপ-কমিটি। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ যতো উন্নত হতে থাকবে, আগামী নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসবে, ততো বেশি গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করবে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপপ্রচার ছড়িয়ে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। যেহেতু তারা রাজপথে পেরে উঠতে পারবে না, তাই তাদের একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে গুজব ও অপপ্রচার। আমাদেরকে আগামী দিনে এই গুজব-অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো জেলা পর্যায়ে ১০ হাজার মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা। আর এই মাস্টার ট্রেইনারদের দ্বারা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এক লাখ অনলাইন এক্টিভিস্ট তৈরি করা। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যেন আগামী দিনে কোনো প্রকার গুজব-অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করবে এই অনলাইন এক্টিভিস্টরা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শহীদুল আলম

২০২১-০৯-১৮ ১৫:১৮:১২

বিএনপির কী উচিত আর কী উচিত নয় সেটা নিয়ে আপনাদের এত মাথা ব্যথা কেন? খুনি, সন্ত্রাসী, গুমকারী, মহিলা-শিশু ধর্ষণকারী, লুটেরা, দেশদ্রোহী টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সকল দেশপ্রেমিক একত্রিত হোক।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের প্রশ্ন

নানুয়া দীঘির পাড়ের মণ্ডপে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল কেন?

২৩ অক্টোবর ২০২১

আলিশা মার্টের অফিসে ভিড়

টাকা-পণ্য কিছুই মিলছে না

২২ অক্টোবর ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



আলিশা মার্টের অফিসে ভিড়

টাকা-পণ্য কিছুই মিলছে না

আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

এসব ২০০১ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি

DMCA.com Protection Status