সিলেটে কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্লান্ট চালুর আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে

এক্সক্লুসিভ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৬ অপরাহ্ন

এক বছর পর সরজমিন পরিদর্শন করতে এসে সিলেটের গোলাপগঞ্জের এলপি গ্যাস প্লান্টে উৎপাদন চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ। অথচ এই এক বছরে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়েছে কোম্পানির। সরকারি চ্যানেলের নানা জটিলতার কারণেই গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের আরপিজিসিএল ও এলপিজিসিএল প্লান্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। প্লান্ট দুটি চালু করতে ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছিলেন স্থানীয়রাও। গোলাপগঞ্জে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল) ও গ্যাস বোতলজাতকরণ প্রতিষ্ঠান তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (এলপিজিসিএল) এর দুটি প্লান্ট। প্লান্টের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্লান্ট দুটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে বিপিসি এ দুটি প্লান্টের উৎপাদিত গ্যাস ক্রয় না করায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোলাপগঞ্জ কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তোলিত অতি উচ্চমানের এলএনজি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আরপিজিসিএল প্লান্ট কৈলাসটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন ৭০-৮০ হাজার লিটার এলএনজি এবং জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ড থেকে ৬৫০ ব্যারেল প্রাপ্ত কনডেনসেট থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ টন এলপিজি ও এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদন করে পেট্রোল ও ডিজেল বিপিসিকে এবং এলএনজি এলপিজিকে সরবরাহ করতো। আরপিজিসিএলের উৎপাদন বন্ধ এবং এলপিজি সরবরাহ না পেয়ে বন্ধ হয়ে হয়ে যাওয়া, দফায় দফায় স্থানীয় গ্রাহকসহ এলপি গ্যাস নিতে আসা ক্ষুব্ধ অনেকেই সরবরাহ না পেয়ে এলপিজি প্লান্টের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। অন্যদিকে, আরপিজিসিএল-এর উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন উত্তোলিত অতি উচ্চমানের এলএনজি পুড়িয়ে ধ্বংস করতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার কৈলাশটিলা এলপি গ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন করেন বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ এনডিসি। পরিদর্শন শেষে তিনি প্লান্টের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দ্রুতই দুটি প্লান্ট চালুর আশ্বাস দেন। মতবিনিময়কালে তিনি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাক- প্রধানমন্ত্রীও এটা চান না। উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানকে প্রধানমন্ত্রী সব সময় গুরুত্ব দেন বলে জানান বিপিসির চেয়ারম্যান। এদিকে, প্লান্টের প্রয়োজনীয়তা, স্থানীয় জীবন-জীবিকায় প্লান্টের গুরুত্ব, প্লান্ট বন্ধ হওয়ায় গরিব মানুষের ভোগান্তি এবং খনিজ সম্পদ এনজিএল ধ্বংস হওয়ার বিষয় তুলে ধরে দ্রুত প্লান্ট চালুর ব্যাপারে ব্যবস্থা  গ্রহণের অনুরোধ জানান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জবাবে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন- ‘প্লান্ট বিপিসি’র সম্পদ। এটা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আমরা প্লান্টের জন্য আমাদের সবকিছু করবো। তিনি প্লান্ট সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহের জন্য এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপিসি’র ব্যাপস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) মেহদী হাসান, পদ্মা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ আল খালেদ, যমুনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী, এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ, জিএম (অ্যাকাউন্ট) নেয়ামত উল্লাহ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, গোলাপগঞ্জ এলপি গ্যাস প্লান্টের ডিজিএম আব্দুল মোমেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিল্লুর রহমান, কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান প্রমুখ। এদিকে, ওই দুই প্লান্টে উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে সিলেটে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলেরও সংকট রয়েছে।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

ব্যারিস্টার সালামের গ্রামের বাড়িতে নেতাকর্মীদের ঢল

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দক্ষিণ সুরমায় ছাত্রদলের সমাবেশ

২২ অক্টোবর ২০২১

শতাধিক ব্যক্তির কিডনি বিক্রি করেছেন তারা

১৩ অক্টোবর ২০২১

রাজধানীর নদ্দা ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে কিডনি ক্রয় ও বিক্রয় কাজের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status