জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙলো

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩২ অপরাহ্ন

সিলেট শহরতলীর বালুচরের নয়াবাজার। জালালাবাদ গ্যাসে উচ্চ চাপসম্পন্ন লাইনের উপর নির্মাণ করা হয়েছিল তিনতলা ভবন। এর বাইরেও গ্যাস লাইনের উপর নির্মাণ করা হয়েছে একতলা কিংবা দোতলা ভবনও। গ্যাস লাইনের উপর স্থাপনা দেখে এলাকার মানুষ অনেকেই আতঙ্কে ছিলেন। বিষয়টি তারা জানিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষকে। একাধিকবার নজরে আনার পর অবশেষে ঘুম ভাঙলো তাদের। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ সরজমিন পরিদর্শন করে। আর এতেই বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল।
ভয়ঙ্কর ঘটনা। গ্যাস লাইনের উপর নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনার পর স্থাপনা। এমনকি হাট-বাজারও বসানো হচ্ছে। অনেক পুরাতন এই লাইন। কোনো কারণে সেটি লিকেজ হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। এরপর আর বসে থাকেনি জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অভিযান শুরু করেছে। এখন কেবল বালুচরই নয় যেদিকেই খোঁজ নেয়া হচ্ছে; দেখা যাচ্ছে উচ্চ চাপ সম্পন্ন গ্যাস পাইপ লাইন দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা আর স্থাপনা। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে জালালাবাদ গ্যাসের উচ্চ চাপ সম্পন্ন লাইন রয়েছে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। এসব লাইনের কোনো কোনোটির বয়স ৬০, আবার কোনো কোনোটির বয়স ৩০-৩৫ বছ। পাইপ লাইন টানার সময় জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ লাইনের উভয়পাশে ১০ ফুট করে জমি অধিগ্রহণ করে রেখেছিল। এরপর থেকে এসব লাইনের আর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা তদারকি করা হয়নি। ফলে মাটির নিচ দিয়ে লাইন টানা হলেও অনেক জায়গায় উপরের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দোকানসহ অনেক বাণিজ্যিক স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে বালুচরসহ কয়েকটি এলাকায় পাইন লাইনের উপর স্থাপনা নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঊর্ধ্বতনরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। পরে অবশ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ সেটিকে আমলে নিয়ে তদন্ত করে। এরপর জালালাবাদ গ্যাসের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে বালুচর নয়াবাজারে একটি তিনতলা ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে, অভিযান নিয়েও ক্ষোভ আছে এলাকার মানুষের। কারণ, অভিযান ঢিমেতালে হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। জালালাবাদ গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে স্থাপিত বসতবাড়ি উচ্ছেদ সংক্রান্ত টাক্সফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডিজিএম আমিরুল ইসলাম গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘যারা পাইপের উপর স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন তারা জানেন না প্রায় ৬০ বছর আগে এই পাইপ লাইন টানা হয়েছিল। সেটি অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এখন লিকেজ হলে অগ্নিকাণ্ড হবে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে। সব দোষ পড়বে গ্যাস কর্তৃপক্ষের ওপর।’ তিনি জানান, ‘যারা গ্যাস পাইপ লাইনের উপর স্থাপনা বানিয়ে বসবাস করছেন তারা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। এ কারণে বিষয়টি বুঝিয়ে তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যারা অনুরোধ মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।’ তিনি জানান, ‘সিলেট শহরতলীতেই গ্যাস পাইপ লাইনে স্থাপনা বেশি। এ কারণে সিলেটে এখন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪০০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের সব স্থানেই অভিযান পরিচালিত হবে।’ এদিকে, জালালাবাদ গ্যাসের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, যখনই জমি অধিগ্রহণ করে গ্যাস পাইপ লাইন টানা হয়েছিল তখনই সেগুলোকে সংরক্ষণ করে সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি না করে মাটির নিচে পাইপ লাইন রেখে চলে এসেছিল। এ কারণে মানুষ সেগুলো দখল করেছে। এখন উচ্ছেদ অভিযান চললেও সেটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলেও ভবিষ্যতে ফের দখল হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, গতকাল সকালে জৈন্তাপুরের ঘাটেরচটি এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। পরে সীমান্তিক আবাসিক এলাকা, বটেশ্বর, চুয়াবহর, পীরের বাজার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলে। গ্যাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জালালাবাদ গ্যাসের অধিকগ্রহণকৃত ভূমির ৩০ কি.মি. পাইপলাইনের উপর অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর, বাড়ি, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে গত ১৬ই মার্চ, ২৬শে আগস্ট ও গতকাল ৩ দফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ২০ কি.মি. পাইপ লাইনের ভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। প্রথম দফায় গত ১৬ই মার্চ শাহপরাণ থানাধীন ইসলামপুরে মোহাম্মদপুর নূরপুর আবাসিক এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় বালুচর এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ দুটি অভিযানের পূর্বে অনেকে নিজ উদ্যোগে ১৪৫টি সীমানা প্রাচীর, দোতলা তিনতলা বিশিষ্ট দালান, টিনশেড, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেন। দুটি অভিযানে সীমানা প্রাচীর, দোতলা তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ি, টিনশেড ঘর, দোকানপাটসহ ১২ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২১-০৯-১৫ ২১:৫৩:০২

জমি অধিগ্রহণ সহজ। দখল রাখা কঠিন। সেই কাজটিতে সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব হীন আচরণ করে যাচ্ছেন যুগের পর যুগ ধরে । ৬০ বছর আগে আজকের এমডি দায়িত্বে ছিলেন না । তখনকার এমডি সীমানা পিলার দিয়ে অধিগ্রহণ করা জাগা চিহ্নিত করলেন না ? দায়িত্ব হীনতার পরিচয় ।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পাকুন্দিয়ায় প্রচারণায় এমপি

ভোটের মাঠে শঙ্কা

২৫ অক্টোবর ২০২১

করোনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু

২৫ অক্টোবর ২০২১

 গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ ...

১৭৯ নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে এ পর্যন্ত মৃত্যু ৮৭

২৫ অক্টোবর ২০২১

 গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতেই ...

দ্বিতীয় পরীক্ষা আজ

গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে একগাদা অভিযোগ

২৪ অক্টোবর ২০২১



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status