শিশুর কথা না বলা যখন উদ্বেগের কারন

মেহবুবা রহমান

শরীর ও মন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

আমরা অনেকেই বাচ্চার কথা বলা নিয়ে চিন্তিত। কথা বলা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্বির একটি প্রক্রিয়া। আসুন যেনে নেই কেমন হওয়া উচিৎ বাচ্চাদের এই কথা বলার প্রক্রিয়া।

প্রায় ১৫% শিশু দেরিতে কথা বলে এবং পরবর্তিতে তারা তাদের সমবয়সীদের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

সাধারনত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে একটু দেরিতে কথা বলে। তবে বাচ্চারা যদি ১৮-২০ মাস বয়সে ১০ শব্দের কম বা ৩০ মাসে ২১-৩০ শব্দের কম কথা বলে তা চিন্তার কারন।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ১২মাস বয়সে বাচ্চাদের একক শব্দ বলা উচিত এবং তারা "মা" এবং "বাবা" বলতে সক্ষম হতে পারে। তারা সহজ অনুরোধগুলি বুঝতে এবং মেনে চলতে সক্ষম ("আমাকে খেলনা দাও")।

আপনার সন্তান কখন কি শিক্ষবে তা আপনি সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। আপনার শিশুর কথা বলা পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপরও নির্ভর করেঃ-

*ভাষা শিখাটাও তার অন্যান্য দক্ষতার মতই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি সে নিজেই আয়ত্ত করতে পারে।
*সারাদিন সে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে কত কথা শুনে তার উপর নির্ভর করে।
*পরিবারে অন্যান্য সদস্যরা তার কর্মকান্ড বা তার ব্যাক্ত শব্দে কি রকম প্রতিক্রিয়া করে।
*শিশুরা সাধারনত ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা অর্জন করে তাই তাদের সাথে এই সময় বেশী বেশী গল্প গান কবিতা বলা উচিত। এমন শিক্ষনীয় ভাষা ব্যাবহার করা উচিৎ যেন তারা শিখতে পারে।

আপনার সন্তান কি ১৮ থেকে ৩০ মাস এবং কথা বলছে না তা সত্যি উদ্বেগ এর কারন।
শিশু ভাষা ব্যাবহার না করলে যে ব্যাপার গুলো লক্ষ্য করা উচিতঃ

*ভাষা বুঝতে পারাঃ আপনি লক্ষ্য করুন আপনার সন্তান আপনার কথা বা নির্দেশনা বুঝতে পারে কিনা, কারন শিশুরা কথা শেখার পূর্বে কথা বুঝে।যদি সে তা বুঝতে পারে তার মানে সে ভাষা বুঝে তাহলে উদ্বেগের কারন নেই। আর যদি না বুঝে তার মানে তার কথা বলতে দেরী হবে, তা উদ্বেগের কারন।

*ইশারা বা অঙ্গভঙ্গী করাঃ আপনার শিশু যদি অনেক অঙ্গভঙ্গী করে যেমন হাই/বাই বলার সময় হাত নাড়া কোলে তোলার জন্য হাত উপরে ইশারা করে এবং সারা দিন বিভিন্ন শব্দ বলে তাহলে বুঝতে হবে সে তারাতারি কথা বলবে আর তা না করলে হয়তো আপনার শিশু কথা নাও বলতে পারে।

*নতুন শব্দের শিখাঃ আপনার শিশু দেরিতে কথা বল্লেও অন্তত প্রতি মাসে একটি করে নতুন শব্দ শিখবে এবং তা ব্যাবহার করবে যদি তা না করে তবে তা উদ্বেগের কারন ।

আপনার শিশুর ভাষা নিয়ে উদ্বেগের মূল কারন যা বাবা-মা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য করা উচিৎ এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ তা নিন্মে দেয়া হলোঃ

*১২ মাসের মধ্যে অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার না করা যেমন ইশারা করা বা বিদায় জানানো।
*১৮ মাসের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ভোকালাইজেশনের চেয়ে অঙ্গভঙ্গি পছন্দ করা।
*১৮ মাসের মধ্যে শব্দ অনুকরণ করতে সমস্যা হয় ও সহজ মৌখিক অনুরোধ বুঝতে সমস্যা হয়।
*২ বছরে একই শব্দ বার বার বলে এবং তা প্রয়োজনের সময় ব্যাবহার করতে পারে না।
*২ বছরে সহজ নির্দেশনাবলী অনুসরন করতে পারে না।
*২ বছরে কন্ঠে সহজ একটা শব্দ ব্যাবহার করে যাকে রাম্পি বা আনুনাসিক বলে।
*বাবা-মা বা যে বাচ্চার নিয়মিত পরিচর্যা করে তার ২ বছরের বাচ্চার ৫০% এবং ৩বছরের বাচ্চার ৭৫% কথা বুঝা উচিৎ যদি তা না হয় তবে তা চিন্তার কারন।
*৪ বছরের বাচ্চার বেশির ভাগ কথা বুঝা উচিৎ এমন কি যারা বাচ্চাকে চিনে না তাদেরও।

আপনার মতামত দিন

শরীর ও মন অন্যান্য খবর

অজানা রোগ হিমোফিলিয়া

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্ট্রোক এর সাতকাহন

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

থানকুনির এতো গুণ!

২৭ আগস্ট ২০২১



শরীর ও মন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status