গবেষণা-

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনার উদ্ভব, সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর সারাদেশে ছড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (৩ দিন আগে) সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:৫৬ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪১ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি
কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। তারা আরও বলেছেন, নতুন করোনা ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের গতিবিধির বিশ্লেষণ কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করে। সম্প্রতি, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), আইসিডিডিআর,বি, আইদেশি এবং দেশি বিদেশী প্রতিষ্ঠান মিলে একটি জিনোমিক কনসোর্টিয়ামের আওতায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রবেশ, দেশব্যাপী বিস্তৃতি এবং করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে বিভিন্ন সমযয়ে লকডাউন এবং জনসাধারণের গতিবিধির ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
 
গবেষণাটিতে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের উদ্ভব, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারে লকডাউনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের চলাচলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, আইদেশি, বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রোগ্রাম, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক স্যাঙ্গার জিনোমিক ইনস্টিটিউট, হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং ইউনিভার্সিটি অব বাথ এর বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই গবেষণাটি শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে মার্চ-জুলাই ২০২০ অন্তর্বর্তীকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ৩৯১টি করোনা ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য উদ্ভব হয় ২০২০ সালে, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং পরবর্তীতে আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মাধ্যমে আরও ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ ২০২০ সালে। বিস্তার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার মার্চ মাসের ২৩ তারিখে ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রোপ্রাম থেকে সংগৃহীত ফেসবুক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী এই অন্তর্বর্তীকালীন মার্চ ২৩ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে জনসাধারণের ঢাকা ত্যাগ করার প্রাপ্ত ডাটার সঙ্গে সার্স-কোভ-২ জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, মার্চ ২৩ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে ঢাকা বহির্মুখী যাতায়াতই মূলত দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারের প্রাথমিক কারণ। পরবর্তীতে, এপ্রিল ২০২১-এ কনসোর্টিয়াম নভেম্বর ২০২০ থেকে এপ্রিল ২০২১ এর মধ্যে সংগৃহীত আরও ৮৫টি সার্স- কোভ-২ নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৩০টি ছিল লিনিয়েজ বি.১.১.২৫ (৩৫%), ১৩ টি ছিল আলফা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.১.৭, ১৫%), ৪০টি ছিল বিটা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.৩৫১,৪৭%), একটি ছিল লিনিয়েজ বি.১.১.৩১৫, এবং একটি ছিল লিনিয়েজ বি.১.৫২৫। প্রথম ঢেউ-এ করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যেমন এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, আমাদের এই কনসোর্টিয়াম বিভিন্ন সময়ে নীতিনির্ধারকদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে সহায়তা করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাতে জনসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ করা, পরিবহন এবং যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা আনা, বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন এবং যেসব দেশে উদ্বেগজনক ভেরিয়েন্ট ছিল সেখান থেকে আগত ভ্রমণকারীদের সাধারন মানুষদের থেকে আলাদা রাখা, সময়মতো লকডাউন সিদ্ধান্ত বা প্রয়োজনবোধে আন্তর্জাতিক চলাচল সীমাবদ্ধ করা। আমাদের এই কনসোর্টিয়াাম গত বছরের মার্চ মাস থেকে একত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই কাজ চলমান থাকবে এবং এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের নীতিনির্ধারকদের জন্য কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রমান-ভিত্তিক তথ্য সরবরাহ করতে পারবো।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

শনাক্তের হার ৬.০৫

করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুমিল্লা-৭ আসনে উপ-নির্বাচন

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status