মানিকের শিকলবাঁধা জীবন

মো. রফিকুল ইসলাম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) থেকে

বাংলারজমিন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালা মেরে ঘরের মধ্যে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে মানিক হোসেন (২১)কে। এই অবস্থায় কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে সময় কাটে তার। চিৎকার- চেঁচামেচি আর হাসি-কান্না তার নিত্যসঙ্গী। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের খামার সাতনালা গ্রামের বেরুবাড়ি পাড়ায় তিন বছর ধরে লোহার শিকলে এভাবেই বন্দি জীবনযাপন করছেন বাকপ্রতিবন্ধী মানিক হোসেন।
সরজমিনে দেখা যায়, নিজ সন্তানকে পায়ে লোহার শিকল ও তালা দিয়ে বেঁধে রেখেছেন অসহায় পিতামাতা। এমনিতেই কোনোমতে কাটে তাদের সংসার জীবন। তার ওপর প্রতিবন্ধী দুই ছেলের চিকিৎসার চিন্তা যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া। সন্তানদের চিকিৎসা করানো দরিদ্র বাবার জন্য পাহাড়ের মতো বোঝা হলেও স্নেহের কমতি নেই তাদের প্রতি। চিন্তায় সারাক্ষণ কেঁদে মরেন পিতা-মাতা।
তাদের বড় সন্তান মানিক হোসেন (২১)। সে জন্ম থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ও বাকপ্রতিবন্ধী। তাকে আনুমানিক তিন বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল ও তালা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর ছোট ছেলে মাহফুজুর রহমান (১৪)। সেও শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী। এলাকাবাসী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানিক হোসেন জন্ম থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন ও বাকপ্রতিবন্ধী। বাড়ির বাইরে গেলে মানুষকে আঘাত করেন, কামড় দেন, শিশুদের গলা টিপে ধরেন। বাকপ্রতিবন্ধী মানিককে আনুমানিক তিন বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে বন্দিজীবন কাটছে তার। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে আর দশটা শিশুর মতো প্রাণোচ্ছল শৈশব পায়নি সে। অর্থাভাবে তার চিকিৎসাও বন্ধ রয়েছে। বড় দুই সন্তানের দুশ্চিন্তায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মা-বাবার।
মানিকের মা মরিয়ম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বৃদ্ধ শাশুড়ি, আমরা স্বামী-স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে পরিবারে ৮ সদস্য। আমার স্বামী নলকূপ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তিনিই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। কাজ না করলে ভাত জোটে না। সম্পদ বলতে ভিটেমাটি ছাড়া আর আমাদের কিছুই নেই। একমাত্র স্বামীর আয় দিয়েই চলে ৮ জনের সংসার। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার-কবিরাজের নিকট চিকিৎসা করিয়ে ও তার অবস্থার উন্নতি করা যায়নি। চিকিৎসা করালে সে কিছুটা সুস্থ থাকে। বর্তমানে অর্থাভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহ্ জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়াও সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকে প্রদান করা হয়। তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে তা আমি জানি না। খোঁজখবর নিয়ে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, উন্নত চিকিৎসার জন্য হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকের দাদি ও মা। কেউ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকের পিতা আনোয়ার হোসেনের ০১৭৪৯১০১২৩৫ নম্ব^রে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

১০ টাকা কেজির চাল নিতে গিয়ে ঘাড় ধাক্কা খেলেন নারী, বৃদ্ধকে চড়থাপ্পড়

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কিনতে গিয়ে ঘাড় ধাক্কা খেলেন ...

রাতের আঁধারে ঘর তুলে জমি দখল

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছাতকে বৈদ্যুতিক শকে আহত শ্রমিকের মৃত্যু

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছাতকে বৈদ্যুতিক শকে আহত শ্রমিক শামীম আহমদ (৩০) মৃত্যুবরণ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট ওসমানী ...

ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যাহত

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ে আছে অর্ধকোটি টাকার যন্ত্র

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ২০ শয্যার ইউনিট খোলা হয়েছে। অথচ রক্তের ...

শিবচরে অপহরণের দু’দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাদারীপুর জেলার শিবচরে অপহরণের দু’দিন পর নির্মাণাধীন একটি টয়লেট থেকে কুতুবউদ্দিন নামের দুই বছর বয়সী ...

বরগুনায় প্রক্সি আসামির দুই বছর কারাদণ্ড

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বরগুনা আদালতে মূল আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে আসা মো. আল আমীন রুবেল নামের একজনকে দুই ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status