সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার ডাকার রীতি নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১, মঙ্গলবার, ৫:১০ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বা ম্যাডাম বলতে হবে- এমন কোনো রীতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্যার, ম্যাডাম বা এমন কিছু সম্বোধন করতে হবে, এমন কোনো রীতি নাই। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ সেবা নিতে গেলে হাসিমুখে আপনার আচরণটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সেবা নিতে গেলে যদি ওয়েলকামিং এটিচিউড না থাকে, আপনি তিরস্কার বা রেগে আছেন- এগুলো দুর্নীতি। দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল। এটা করা যাবে না। আপনি সুন্দর, সাবলীলভাবে কথা বলুন।
সুন্দর করে কথা বলাটা এমন না যে আপনি ক্ষমতা দেখাতে পারছেন না বা আপনি হেরে যাচ্ছেন। দরকার সাধ্যমতো সেবাটি দেওয়া। আপনার আচরণ সরকারের আচরণ। সবাই মনে করে আপনার অফিস প্রধানমন্ত্রীর অফিসেরই একটি অংশ। সম্প্রতি মাঠ প্রশাসনে এক কর্মকর্তাকে স্যার সম্বোধন না করায় উদ্ভূত পরিস্তিতি নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে আমরা দেখেছি, আশেপাশে যারা ছিল তাদের অতি বাড়াবাড়িতে এমনটি হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্যার শব্দের অর্থ মহোদয়। ম্যাডাম অর্থ মহাদয়া। জনাব বা জনাবা। রুলস অব বিজনেসে এটা নাই। আমাদের জাতির পিতার নির্দেশনা কী ছিল? যারা তোমাদেরর কাছে সেবা নিতে আসে, তাদের দিকে তাকাও, তারা তোমার ভাইয়ের মতো, বাবার মতো, আত্মীয়ের মতো। যারা সেবা দিতে আসো জনগণের সেবক হও। জনগণের টাকায় তোমার বেতন হয়। জাতির পিতার এ স্লোগানটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেজন্য আমি নিজেও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হই, তাদের অনুপ্রাণিত করি। মাঠ প্রশাসনের প্রধান বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে নির্দেশনা দেই। তারা এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে ইউএনওদের নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন এই বার্তাগুলো দিচ্ছেন যে জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। আমরা জনমুখী জনপ্রশাসন বলতে ওইটাই বলেছি। সেক্ষেত্রে এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একজন ইউএনও যখন চলে যায় তখন কিন্তু মানুষ কাঁদে। বহুদিন তাকে মনে রাখে। সব গুণাবলি যেন থাকে, তারা যেন অতি মানবিক হয়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শাহেনুর মিয়া।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Sharifuzzaman

২০২১-০৯-০৮ ১৪:১৩:৪৯

মাঝে মাঝে এমন কথা বলবেন ফরহাদ ভাই, যেন সারা দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। আপনাকে আমার স্বশ্রদ্ধ সালাম।

MOHAMMAD SHAHJAHAN C

২০২১-০৯-০৭ ১৪:১০:৪১

স্যার একমাত্র তাঁকে সম্বোধন করা হয় যিনি শিক্ষা দান করেন পুঁথিগত শিক্ষা অথবা অন্য যেকোনো শিক্ষা দান করেন ।। স্যার শব্দটি অত্যন্ত সম্মানের যা কেবলমাত্র শিক্ষকের বেলায় প্রযোজ্য ।। তাঁদের এই উপাধিটি যাতে সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ করা না হয় তার জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করা উচিত যাতে সুস্পষ্ট ভাবে লিখিত থাকবে কাদেরকে স্যার কারা সম্বোধন করবে । রাষ্ট্রের যারা সেবা প্রদান করেবেন তাঁদেরকে অবশ্যই সম্মানসূচক ভাষায় সম্বোধন করা উচিত । সমাজে শিক্ষকের উপাধি যদি সর্বোচ্চ স্থানে রাখা না হয় তাহলে সেই সমাজ ব্যবস্থা কখনোই উন্নত সমাজ হতে পারেনা । কেবল শিক্ষকরাই পারেন শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে দিতে আর তাকে ধরে রাখার জন্যে সেবকরাই বিভিন্ন ক্ষেত্র দায়িত্ব পালন করে থাকেন ।। জীবনধারণের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র উভয়ক্ষেত্রেই অর্থ প্রদান করে থাকেন কিন্তু শিক্ষকের বেলায় তা সম্মানী আর সেবককে বেলায় তা বেতন হিসেবে বিবেচিত হয় ।। প্রতিমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি শিক্ষকদের এই সম্মানসূচক শব্দটির যথার্থ ব্যবহারের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন ।।

Masudreem

২০২১-০৯-০৭ ২২:১৭:১৬

জনাব প্রতিমন্ত্রী '' স্যার না ডাকলে অফিস তো দুরের কথা ! বারিন্ধা আশা যাবেনা '' মানহানি মামলা হতে পারে ১০০% !!

Dewan omar in rashid

২০২১-০৯-০৭ ২১:৪৩:৪০

After long time I found somebody come forward with a descent mentality. What you said stick on it

Amirswapan

২০২১-০৯-০৭ ০৭:৩৩:৩৮

শ্রুতি মধুর কিন্তু বাস্তবায়ন অস্মভব প্রায়।

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৯-০৭ ১৯:৪৭:১১

Yes Sir! We got it.

Kazi Md. Jamal Uddin

২০২১-০৯-০৭ ১৯:২৭:১৯

অসংখ্য ধন্যবাদ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি বেশি বেশি করে প্রচার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহবান করছি। অত্যন্ত বয়োজেষ্ঠ্য সহকর্মীর প্রিয় প্রধান শিক্ষক জেলার ডিসিকে স্যার না বলে সাহেব সম্বোধন করায় কুপিত হয়ে সে বছর শিক্ষকদের ঈদের বেতন বোনাস ছাড় করেন নি। তাতে শিক্ষকদের ঈদ আনন্দ ভেস্তে যায়। ফলে প্রধান শিক্ষক মহোদয় আমৃত্যু ছাত্রদেরসহ সকলকে স্যার সম্বোধন করতেন। এমনকি স্বীয় স্ত্রীকেও স্যার সম্বোধন করতেন।

শাজিদ

২০২১-০৯-০৭ ১৮:৩৯:০৮

জনগন এখন বাণী বক্তৃতায় বিশ্বাস করেনা। বেতন ভুক্ত প্রশাসনকি কর্মকর্তা দিয়ে সরকার দেশ চালায় আর জনগন প্রশাসনকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে কাজ আদায় করতে হয়। আরও একটা বিষয় আছে সরকারের নেতা মন্ত্রী এমপিরা প্রশাসনের মাথার উপর লাঠি ঘুরায় তখন প্রশাসনের ঘুষের অঙ্কটা আরও মোটা হয়ে যায় কারণ লাঠি সামাল দিতে হবে। মন্ত্রী সাহেব সূন্দর বাণী শুনাইলেন কিন্তু আসল জাগায় আসলেন না।

শহীদ

২০২১-০৯-০৭ ১৮:৩৩:০৪

”স্যার” না ডাকায় যেসব নাগরিকদের শায়েস্তা করা হয়েছে সেসব “স্যার”দের শাস্তি দেয়ার রীতিটা দেখতে চাই। “ভাই” অথবা ”ভাইয়া”, ”আপা” এসবের প্রচলন চাই।

Khokon

২০২১-০৯-০৭ ০৫:২৯:৫১

দেশের সরকারের আইন করা উচিত কাউকে স্যার বলা যাবে না এমনকি স্কুল কলেজেও না ? যে মাতৃ ভাষার জন্য যুদ্ধ করে হাজার ভাইকে হারানো হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়ে আবার সেই ভাষাই ব্যাবহার করা হচ্ছে ? এমন কি স্কুল কলেজেও স্যার শব্দটি ব্যাবহার না করাই শ্রেও। উন্নত দেশে স্কুল, কলেজ শিক্ষকদেরও নাম ধরে ডাকা হয়, আমরাই তাই করতে পারি ! সম্মান করলে যেকোন ভাবেই করা যায় ? স্যার শব্দটি আমাদের দেশে মিস ইউজ হচ্ছে, এর অর্থ কেউ বুঝেও বুঝিনা । এখানে স্যার ডাকা হচ্ছে অফিস আদালতের পিয়নদের, যারা স্যারের অর্থ বুঝেও না কিন্তু স্যার না বললে মন খারাপ করে, স্যার বললে পাছাটা বড় হয়ে যায় ! এক শ্রেণীর দুষ্টু প্রকৃতির লোক আছে যারা এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত লোকদের সাময়িক সন্তুষ্টির জন্য স্যার ডেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্দি করে, আর বাহিরে এসে বলে পাগল খুশি করেছি। ওকে কি মন দিয়ে স্যার ডেকেছি ? তাই পাগল সন্তুষ্টি না করে একযোগে সবাইকে নাম ধরে ডাকি এবং বিদেশি শব্দ স্যারকে উচ্ছেদ করি।

Shariful Alam

২০২১-০৯-০৭ ১৮:২৪:২০

Many many Thanks.

রুহুল আমীন যাক্কার

২০২১-০৯-০৭ ০৫:০৪:৪৯

অসংখ্য ধন্যবাদ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি বেশি বেশি করে প্রচার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহবান করছি।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৯-০৭ ১৭:৫৫:৩৬

অত্যন্ত বয়োজেষ্ঠ্য সহকর্মীর প্রিয় প্রধান শিক্ষক জেলার ডিসিকে স্যার না বলে সাহেব সম্বোধন করায় কুপিত হয়ে সে বছর শিক্ষকদের ঈদের বেতন বোনাস ছাড় করেন নি। তাতে শিক্ষকদের ঈদ আনন্দ ভেস্তে যায়। ফলে প্রধান শিক্ষক মহোদয় আমৃত্যু ছাত্রদেরসহ সকলকে স্যার সম্বোধন করতেন। এমনকি স্বীয় স্ত্রীকেও স্যার সম্বোধন করতেন।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

আরজে নিরব ফের রিমান্ডে

১৮ অক্টোবর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে সংঘর্ষ, নিহত ৩

DMCA.com Protection Status