সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত -চীনের মধ্যে হটলাইন স্থাপন

সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

অনলাইন (১ মাস আগে) আগস্ট ২, ২০২১, সোমবার, ১:২৭ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:২১ পূর্বাহ্ন

দুই পক্ষের মধ্যে ১২ তম সামরিক পর্যায়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে রবিবার ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী উত্তর সিকিম সেক্টরে একটি নতুন হটলাইন স্থাপন করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হটলাইনটি উভয় পক্ষের স্থানীয় কমান্ডারদের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর এলাকায় কোনও সমস্যা মোকাবেলায় সরাসরি একে অপরের সাথে কথা বলতে সাহায্য করবে। 'আউটলুক' -এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী , উত্তর সিকিমের কোংরা লা -তে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের খাম্বা জং -এ চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মধ্যে হটলাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের সামরিক নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । নয় ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে পূর্ব লাদাখের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উত্তেজনাপূর্ন যে এলাকাগুলি রয়েছে সেখানে দুদেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আলোচনার সময় দিল্লি হট স্প্রিংস এবং গোগরা থেকে চীনা সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। যদিও পূর্ব লাদাখের এলএসি -র চীনা অংশের মোলদো সীমান্ত পয়েন্টে সংঘটিত আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে সোমবার কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে।
চীন কোনো মন্তব্য না করলেও ,ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে যে সীমান্তে বিশ্বাস এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে এই নতুন হটলাইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। PLA দিবসের দিন হটলাইন স্থাপন করা হল । নতুন হটলাইনের উদ্বোধনে দুই বাহিনীর গ্রাউন্ড কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন এবং এর মাধ্যমে "বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা" বিনিময় করা হয়। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে , 'সীমান্তে বিশ্বাস ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্য চীনা সেনা কর্তৃক তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের খাম্বা জং -এ এবং ভারতীয় সেনা কর্তৃক উত্তর সিকিমের কংরা লা- তে একটি হটলাইন তৈরী করা হয়েছে । ১ আগস্ট পিএলএ দিবসের দিন থেকে যা কার্যকর হবে।' পূর্ব লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশ সেক্টরে গ্রাউন্ড কমান্ডারদের জন্য ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হটলাইন সুবিধা রয়েছে। সেনা জানাচ্ছে , "দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর স্থল কমান্ডার পর্যায়ে যোগাযোগের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত মাধ্যম রয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে এই হটলাইনগুলি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।কর্মকর্তারা জানান, হটলাইন স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাউন্ড কমান্ডাররা সরাসরি কথা বলতে পারবেন এবং যেকোনো মতবিরোধ সমাধান করতে পারবেন। গত বছর মে মাসে, উভয় সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল উত্তর সিকিমের নকু লা রিজিয়নে , যা প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। পূর্ব লাদাখের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে অব্যাহত অচলাবস্থার মধ্যে হটলাইন স্থাপনের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে । ভারত জোর দিয়ে আসছে যে, দেপসাং, হট স্প্রিংস এবং গোগরা এলাকায় দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতি হওয়া একান্ত প্রয়োজন ।গত বছরের ৫ মে প্যাংগং হ্রদ এলাকায় হিংসাত্মক সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনা সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত অশান্তি শুরু হয় এবং উভয় পক্ষই ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন শুরু করে। ধারাবাহিকভাবে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার পর দুই পক্ষই ফেব্রুয়ারিতে প্যাংগং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে সৈন্য ও অস্ত্র প্রত্যাহার সম্পন্ন করে। এলএসি বরাবর বর্তমানে ভারত -চীন উভয় পক্ষের প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল তথ্য

এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে তলব

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

শনাক্তের হার ৪.৪১

করোনায় আরো ২১ জনের মৃত্যু

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

‘আজকের ভুক্তভোগী, আগামী দিনের অপরাধী’ (ভিডিও)

DMCA.com Protection Status