বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল তা একদিন বের হবে

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২ আগস্ট ২০২১, সোমবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তবে, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, একদিন সেটাও আবিষ্কার হবে। কিন্তু, আমাদের কাজ একটা ছিল- প্রত্যক্ষভাবে যারা হত্যার সঙ্গে 
জড়িত তাদের বিচার করা। আর সব থেকে বড় কাজ এই দেশ এবং দেশের মানুষ নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন- দেশের মানুষের উন্নয়ন করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন করাটাকেই আমি সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। তাই, পেছনে কে ষড়যন্ত্র করেছে, কি করেছে সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে এই ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন করে তাদের জীবনমান উন্নত করা।
গতকাল শোকের মাসের প্রথম দিনে আসন্ন শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের জাতির পিতার স্মৃতি জাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তের অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বেগম মতিয়া চৌধুরী দুস্থ কৃষকদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতাসহ ১৫ই আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’ উদ্ধৃতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রক্ত জাতির পিতাও দিয়ে গেছেন। কারণ, যখন এদেশের মানুষকে তিনি মুক্ত করেছেন তখন যারা স্বাধীনতাবিরোধী বা যারা বিজয় চায়নি তারা তাকে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার (জাতির পিতার) রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। তিনি রক্তদান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে বলেন, এই রক্তদানের মাধ্যমে আমরা একজন মুমূর্ষু রোগীকেও যদি বাঁচাতে পারি, সেটাই হবে সব থেকে বড় কথা। কেননা, মানবকল্যাণে আপনি দান করছেন। তিনি বলেন, বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি কিন্তু একটা আদর্শকে নিয়েই পথ চলি, যে কথাগুলো ছোটবেলা থেকে বাবার মুখে শুনেছি, সেই স্বপ্নটাকে আমার বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনার ভয়াল থাবা সত্ত্বেও মানুষের খাদ্যের এবং তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা সরকার করে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনোদিন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেজন্যই জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ধাপে ধাপে সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন। কিন্তু, পাকিস্তানি শাসক চক্র, এদেশেরও কিছু দালাল চক্র এবং তাদের তোষামোদকারী, পদলেহনকারী কিছু গোষ্ঠী বাঙালির এই অভ্যুদয় বা এই বিজয়কে কখনো মেনে নিতে পারেনি। ‘তবে, আমার এটাই অবাক লাগে যে, এর সঙ্গে (জাতির পিতা হত্যাকাণ্ড) আমাদের যারা, তারা কীভাবে জড়িত থাকলো। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিজের দলের ভেতরে খন্দকার মুশ্‌তাক যেমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, আবার অনেকেই তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আর এই ঘটনা ঘটাতে যেহেতু সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য তাদেরকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু, উচ্চ পর্যায়ে যদি তাদের পক্ষে কেউ না থাকতো, তবে, এটা কখনো সম্ভব ছিল না।
সরকার প্রধান বলেন, উচ্চ পর্যায়ে তাদের সঙ্গে কে ছিল সেটা তো ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কর্নেল ফারুক ও রশীদ বিবিসিকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল সেই সাক্ষাৎকারেই বলেছিল, উপ-সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, সম্পর্ক ছিল এবং সফল হতে পারলে সে তাদের পাশে থাকবে এই কথাও দিয়েছিল এবং সব রকম সহযোগিতাও করেছিল। কাজেই, মুশ্‌তাক-জিয়ার যেই সখ্যতা এবং তাদের যে এই কাজের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধেও যেই আদর্শ সেই আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে যায়। যদিও, বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না- এটা ৭ই মার্চের ভাষণেই জাতির পিতা বলে গেছেন। তিনি বলেন, সেই ৭ই মার্চের ভাষণ যেটা এক সময় নিষিদ্ধ ছিল সেই ভাষণও আজ বিশ্বের সবচেয়ে উদ্বুদ্ধকারী একটি ভাষণ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান করে নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই দেশের নাগরিক হিসেবে পিতৃহত্যার বিচার চাওয়ার তাদের কোনো পথ ছিল না। উপরন্তু খুনিদের পুরস্কার হিসেবে জিয়াউর রহমান তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেন। খুনিদের পুরস্কার হিসেবে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি, ব্যবসার সুযোগ ও বিপুল অর্থের মালিক করে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার পথ ধরে আমরা দেখেছি জেনারেল এরশাদ এই খুনিদের রাজনীতি করার, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দেয় এমনকি ভোট চুরি করে পার্লামেন্টেরও মেম্বার করে। তা থেকে একধাপ উপরে গিয়ে খালেদা জিয়া ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে খুনি রশিদকে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের নেতার চেয়ারে বসায় এবং আরেক খুনিকে পার্লামেন্টে মেম্বার করে তাদেরকে পুরস্কৃত করে। ’৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকারে এসে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিলের মাধ্যমে সরকার এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের সমস্ত বাধা দূর করে বিচারকাজ শুরু করে এবং ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সেই বিচার সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষণার দিনেও হরতাল ডেকে সে সময় বিরোধী দলে থাকা খালেদা জিয়া বিচারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সেই বিচারের রায় হয়েছিল এবং তার সরকার দু’জন খুনিকে আমেরিকা ও থাইল্যান্ড থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু পুনরায় খালেদা জিয়া ২০০১ সালে সরকারে এসে সেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে আবারো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। এমনকি, ৩রা নভেম্বর যখন বিচারের রায় ঘোষণার তারিখ সুনির্দিষ্ট করা হয়, তারপরেও এক খুনিকে খালেদা জিয়া চাকরি ফিরিয়ে দেয় এবং প্রমোশন দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে দূতাবাসেও চাকরি দেয়। কারণ, প্রমোশন দিয়ে তিনি মনে হয়, এটাই দেখাতে চেয়েছেন যে এই খুনিদের বিচার করা যাবে না। একজন খুনি মৃত্যুবরণ করেছিল সেই মৃত ব্যক্তিকেও খালেদা জিয়া প্রমোশন দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ডিসমিস করেছিল তাই অবসরভাতা দিয়েও তাকে পুরস্কৃত করে। বাংলাদেশের মানুষের ওপর জাতির পিতার অগাধ বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন পাকিস্তানিরা যখন চেষ্টা করে তাকে হত্যা করতে পারেনি। বাঙালিরা কেন মারবে। যে কারণে, অনেকেই অনেক ভাবে তাকে খবর দিয়েছেন বা বলার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তিনি কখনো বিশ্বাস করেননি।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন

পুলিশের জালে প্রতারক চক্র

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৫৪ লাখ টিকা এসেছে

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

চীন থেকে কেনা সিনোফার্মের আরও ৫৪ লাখ ১ হাজার ৩৫০ ডোজ করোনার টিকার চালান দেশে ...

অতিরিক্ত মদ্যপানে চট্টগ্রামের ২ ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপানে রাফসান হাবিব (৩০) ও মোনতাসির পিয়াম (২১) নামে ...

কুমিল্লা-৭ আসন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন প্রাণ গোপাল দত্ত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ...

এ পর্যন্ত মৃত্যু ৫৯

২৩২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে ...

নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে হেলসিঙ্কি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে গতকাল ...

সাংবাদিক নেতাদের সংবাদ সম্মেলন আজ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ ৬ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status