রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন হেলেনা

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন (১ মাস আগে) জুলাই ৩১, ২০২১, শনিবার, ৬:২১ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০১ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তারের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডের প্রথম দিনেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন তিনি। এ সময় বেশকিছু বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রথমে সখ্যতা গড়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এরপর ভিকটিমদের কাছ থেকে আদায় করতেন টাকা। আজ শনিবার দুপুরে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্ল্যাকমেইল করে তাদের (রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কাছ থেকে টাকা আদায় করার তথ্য আমরা পেয়েছি। এ বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, হেলেনা সুনির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য থেমে থাকেননি।
প্রতিনিয়ত বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে তার। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যাকেই প্রয়োজন হয়েছে, তাকেই তিনি ঘায়েল করেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন এবং সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। আমাদের মামলার কারণ এটাই। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। জনগণের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন এই মামলাটির র‌্যাব তদন্ত করবে তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে আমরা আবেদন করব। তবে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে হবে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যদের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। আমরা জানতে পেরেছি, গত দুই বছরে বিভিন্ন মাধ্যম এবং টেলিভিশনে চাকরি দেয়ার কথা বলে, এজেন্সি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা আদায় করতেন হেলেনা। এসব তার অফিস স্টাফদের ওপর চাপিয়েছেন। বাসায় এবং অফিস থেকে যে পরিমাণ ভাউচার পাওয়া গেছে তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জয়াত্রা টেলিভিশনের আইডি কার্ড ব্যবহার করে অনেক প্রতিনিধিও এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
 
মঈন আরও বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর আমাদেরকে জানিয়েছেন, তার ১৫ থেকে ১৬টি ফ্ল্যাট  রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তিনি জড়িত। বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা টাকাগুলো তিনি ফাউন্ডেশনে কাজে লাগাতেন। সুনামগঞ্জে তিনি ত্রাণ বিতরণ করায় স্থানীয়রা তাকে পল্লীমাতা উপাধি দিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনেক টাকা এনেছেন। এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ির সংখ্যা কতগুলো সে বিষয়ে প্রকৃত কোনো তথ্য আমাদের দিতে পারেননি হেলেনা। কখনো ৬টি গাড়ি, কখনো ৮ গাড়ির কথা বলছেন। এসব বিষয়ে যারা তদন্ত করবেন তারা খতিয়ে দেখবেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আশিকুল ইসলাম

২০২১-০৭-৩১ ০৭:১২:৪৩

রাষ্ট্রের ঐ সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিরা আইনের আওতায় আসছেন তো?

রুহুল আমীন যাক্কার

২০২১-০৭-৩১ ০৬:৩৯:০২

শুধুই কি হেলেনা? এরচেয়ে কত বড় বড় রাক্ষুসী সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে আছে, এদের খোঁজ কে নিবে। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে ভালো বা নীতিবানেরা এসব দুর্নীতিবাজদের স‍্যালুট দিয়ে চলতে হচ্ছে। ওরা ক্ষমতাসীনদের কাঁদে চড়ে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করত দেশ, জনগণ ও সরকারের বারোটা পর তেরোটা বাজায়। ক'দিন পরপর দুয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকই কিন্তু আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে তারা আবারো নিজ নিজ সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে আসীন হয়। তাদের পদলেহী ভাবশিষ‍্যরা তাদের জেলগেট থেকে পুষ্পমাল‍্যে বরণ করে নেয়। ........... এবং তাহারা সুখময় জীবন অতিবাহিত করিতে লাগিলো।

Anisur rahman

২০২১-০৭-৩১ ০৬:১৫:৫৬

So many Helena created by sugar daddy's. Uncountable. There is no sign for notable punishment.

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৭-৩১ ১৯:১০:১৪

If the important national figures have something that embarrassed the nation then they should resign and prosecuted

mamun khoshnobish

২০২১-০৭-৩১ ১৮:৫৬:০৫

Asalam Walikum. Thank you very much RAB.

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

শনাক্তের হার ৬.০৫

করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status