ভোলা থেকে ঢাকাগামী মানুষের ঢল

ভোলা প্রতিনিধি

অনলাইন (১ মাস আগে) জুলাই ৩১, ২০২১, শনিবার, ২:৪৪ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২৭ অপরাহ্ন

দেশের শিল্প কারখানা খোলার ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বন্দর নগরী ইলিশায় ঢাকাগামী মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই ফেরিঘাটেই অবস্থান নেয় যাত্রীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাটে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি যাত্রী অবস্থান নেন বলে জানিয়েছেন ইলিশা লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি বলেন, ভোলা থেকে প্রতি ঈদে ৫ লাখের বেশি মানুষ আসা যাওয়া করে। এবার কিছু কম হলেও সকল যাত্রী এই ঘাটেই অবস্থান করবে। সরকারের উচিৎ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণে রেখে লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া। না হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলারে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
সকাল থেকে ইলিশা ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীদের বেশির ভাগই মহিলা ও শিশুকন্যা। তারা ঢাকার গার্মেন্টে চাকরি করেন। ফেরিতে উঠতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। অন্যদিকে থেমে থেমে বৃষ্টি আসায় যাত্রীদের খোলা ফেরি ও ঘাটে কয়েকবার ভিজতে দেখা গেছে। জোয়ার ভাটায় নিয়ম করে মাত্র কয়েকটি ফেরি চলাচল করায় এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন থেকে ছোট ছোট তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে আসা ময়ফুল বিবি জানান, আমার স্বামী নেই, দুই মেয়ের গার্মেন্টের বেতন দিয়ে আমাদের পরিবার চলে। ঢাকায় না যেতে পারলে আমার মেয়দের চাকরি চলে যাবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেক কষ্টে এই ঘাট পর্যন্ত আসতে পারছি। ময়ফুল বিবির মত অনেককেই দেখা গেছে এই ভাবে চরফ্যাশন ও দক্ষিণের উপজেলাগুলো থেকে আসতে। তবে সকলকেই মানবেতর এই যাত্রায় ভোগান্তির মধ্যেই পড়তে দেখা গেছে। ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার মানবজমিনকে বলেন, আমরাতো ভোলায় কঠোর লকডাউন কার্যকর করেছি। কিন্তু গতকাল রাতে শিল্পকারখানা খোলার সিদ্ধান্ত আসার পর ইলিশা ঘাটের এই অবস্থা হয়েছে। তাই ফেরি দিয়ে যাত্রী পার হচ্ছে। সরকারের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যই আমাদের কাজ করতে হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

অক্ষর

২০২১-০৭-৩১ ১৭:৫০:২০

এই অবস্থার জন্য মানুষ কে দায়ী করা যাবে না। মানুষ আসতে পারে এমন সিদ্ধান্তে এটা তো ব্যবসাহী সংঘটন, মালিক প্রতিনিধি ও গার্মেন্টস শিল্প মালিক গণ জানতেন। তাহলে এমন কী হল যে গতকাল ঘোষণা দেওয়া হল গার্মেন্টস বা শিল্প কারখানা খুলা। এখানে সরকার হয় তো ব্যবসাহী শ্রেণীর দিকে লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এটা তো ভরসার কথা না। যদি কাজ করতে হয় তাহলে কেন ২৩ তারিখ বা ২৪ তারিখে তা খুলে দেওয়া হল না। কেন এই বা লোকডাউনের নাটক সাজানো হল গতকালে। কোন কিছু ইচ্ছা কৃত ভাবে করা যার সেই কাজের সাথে বহু মানুষ জড়িত তাদের জীবনের কথা ভাবা উচিত। আমাদের সমাজে আজ বিত্তধারী মানুষের সংখ্যা প্রবল। বলা চলে গরু ছাগলের সংখ্যার চেয়েও বেশি হবে। এটা কোন ভাবে কাম্য নয় যে আমাদের কে নির্দেশ দেওয়া হঠাক করে। যদি এর ফলাফল পরিমান মানুষ কে ভোগ করতে হয় তাহলে সরকারের লাভ হবে না। তখন ব্যবসাহী সম্রপদায় বলবে আমরা সরকারের সিদ্ধান্তে ফেক্টরি খুলেছি। তাহলে আজ কেন কথা উঠছে। কথা উঠতে আপনারা বাধ্য করেছেন। কারন লোভের সীমা আপনারা অতিক্রম করেছেন। এই গরিব মানুষ গুলো আপনাদের কারখানায় কাজ করে শুধু মাত্র পরিবারের অন্ন যোগানোর জন্য। যাই হোক এই সিদ্ধানত ছিল জঘন্য ও অমানবিক। এমন সিদ্ধান্ত আগেও হয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে কিন্তু দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতি সময়ে সরকার এই ক্ষেত্রে কেন জানি সিদ্ধান্ত দ্রুত পরিবর্তন করছে। এটা অমানবিক। এতা সরকার করতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। আমরা আশা করবো কারো যেন চাকুরী যায় না সেই বিষয় টা যেন নিশ্চিত করা যায় ও করোনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সিদ্ধান্ত যেন ঘন ঘন পরিবর্তন না করে একটি সিদ্ধান্তে সরকার অনড় থাকে।

Mahmud

২০২১-০৭-৩১ ০৩:৪৯:০২

মালিকদের লোভের কাছে শ্রমিকরা কতো অসহায় তার আরেকটা নমুনা এখন আমরা দেখছি । বাংলাদেশে লকডাউন চলছে এটা সব দেশের buyer রাই জানে । আরো পাঁচ দিন বন্ধ থাকলে কোন বায়ারই order cancel করতো না । কিন্তু মালিকরা শুধু তাদের লাভের চিন্তা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না । শ্রমিকরা তাদের কাছে শুধুই শ্রমিক , মানুষ নয় । শ্রমিকরা কিভাবে কষ্ট করে স্রোতের মতো ঢাকায় আসছে মালিকরা টিভিতে একবার দেখতে পারেন আর নিজেদেরকে ধিক্কার দিতে পারেন ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

মুফতি ইব্রাহীম আটক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status