আইসিইউ বেড ছেলেকে দিয়ে মৃত্যুর কোলে মা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

অনলাইন (১ মাস আগে) জুলাই ২৯, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৪ অপরাহ্ন

করোনা আক্রান্ত শিমুল পাল (৩৫) শ্বাস নিতে পারছিলেন না। একই হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন মা কানন প্রভা পাল (৬৫)। মায়ের কানে খবর যেতেই ছটফট শুরু করে দেন তিনি। কিন্তু প্রয়োজন থাকলেও শয্যা খালি না থাকায় ছেলেকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। এই কথা জেনে নিজের হাতে লাইফ সাপোর্টের সরঞ্জাম খুলে ছেলেকে আইসিইউতে আনতে চিকিৎসকদের ইশারা করেন তিনি। পরে অনেকটা বাধ্য হয়েই মাকে আইসিইউ বেড থেকে নামিয়ে ছেলেকে সেখানে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে আইসিইউ থেকে নামানোর এক ঘণ্টার মাথায় মা কানন প্রভার মৃত্যু হয়। আর ছেলে শিমুল এখন মায়ের আইসিইউ শয্যায় থেকে করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন।

ঘটনাটি ঘটে ২৭শে জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালটির করোনা ইউনিট প্রধান ডাক্তার রাজদ্বীপ বিশ্বাস মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. রাজদ্বীপ বলেন, সপ্তাহখানেক আগে শহরের দেওয়ান বাজারের সিঅ্যান্ডবি কলোনির বাসিন্দা কানন প্রভা পাল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এখানে ভর্তি করানো হয়।
কয়েকদিন পর তার ছেলে শিমুল পালের শরীরেও করোনা শনাক্ত হলে এখানে আনা হয়। এরমধ্যে মা কানন প্রভাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছিল। মঙ্গলবার শিমুলের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়। তারও আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোথাও আইসিইউ বেড পাওয়া যাচ্ছিল না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ ছিলো না।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বেডে থেকে এমন খবর শুনে তিনি পাশে থাকা নার্সকে ইশারা করেন নিজের আইসিইউ বেডটা ছেলেকে দিতে। পরে তার জোরাজোরিতে পরিবারের অন্য সদস্যাদের সম্মিতিতে তাকে কেবিনে পাঠিয়ে ছেলেকে আইসিইউ বেডে আনা হয়। এর কয়েকঘন্টা পর এই মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ছেলে শিমুল পালের অবস্থারও এখনো উন্নতি হয়নি।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটিতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মুমূর্ষু কোভিড রোগীদের শেষ ভরসা আইসিইউ শয্যারও সংকট দেখা দিয়েছে। আইসিইউ খালি হলেই নিজের রোগীকে ভর্তি করাতে এখানে চলছে প্রতিযোগিতা। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে এখানে ১৫৭টি আইসিইউ বেড থাকলে সবগুলো অধিকাংশ সময় পূর্ণ থাকছে । বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত কয়েকটি বেড খালি পাওয়া গেলেও সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেড যেন এখানে সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। একটি সিটের বিপরীতে ১০-১২ জন সিরিয়ালে থাকছেন সেখানে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kamanasis

২০২১-০৭-২৯ ০৫:২১:০২

Mother can do anything & everything for her child benefit.

Quazi M. Hassan

২০২১-০৭-২৯ ১৫:৫০:০১

She has no alternative & Mother can do everything for their children's.

ডাঃ আব্দুল্লাহ

২০২১-০৭-২৯ ০২:৪৩:৪৬

এত কিছুর পরও নাকি মায়ের আগেই তাদের কাছে গরুর সম্মান ও মর্যাদা বেশী। কারন মা দুধ খাওয়ায় ২ বছর। আর গরু দুধ খাওয়ায় সারাজীবন। আফসোস ... মা তোমার জন্য। তোমার মর্যাদা ওদের কাছে সামান্য প্রানী গরুর চাইতেও কম। মা ... তুমি অনন্য মর্যাদার অধিকারী। পৃথিবীর কোন কিছু দিয়েই তোমার ঋন শোধ হবার নয়।

abdul mohaimen

২০২১-০৭-২৯ ০২:৩৪:৩০

আহ!আহ এই মার সাথে আমরা কি ভাবে খারাপ আচারন করতে পারি

ক্ষুদিরাম

২০২১-০৭-২৯ ০১:০৬:২১

মাগো কেবল তোরই চরনতলে আমারই স্বর্গ !!

জাফর আহমেদ

২০২১-০৭-২৯ ০০:১০:৪৪

মা তুমি মানেই তুলনা হীন, অন্তর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন তোমাকে, মা মরে নিজের জীবন দিয়ে গেল ছেলেকে, আমার দেশের কতো ছেলে মেয়েরা আজ তাদের মাকে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে, তাদের এই খবরটা পড়ে একটু চিন্তা করে দেখা উচিত,

Shobuj Chowdhury

২০২১-০৭-২৯ ১০:৫৭:৩৬

A heart breaking story and reminds us again and again how precious our parents are specially our mothers.

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

দেশে ফিরলেন আ স ম রব

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

শনাক্তের হার ৪.৫৪

করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকারকে আতংক তাড়া করছে: রিজভী

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status