'তালেবানরা যখন প্রথম কাবুলে এসেছিল'

নিজস্ব সংবাদদাতা

অনলাইন (২ মাস আগে) জুলাই ২৩, ২০২১, শুক্রবার, ৪:০৫ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার তালেবানদের কাছে টার্নিং পয়েন্ট।  ভয়েস অফ আমেরিকার  সাংবাদিকরা তালেবানের ক্ষমতাসীন হয়ে  ওঠা এবং আফগানিস্তানের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিপন্ন করার ক্রমপর্যায় বিশ্লেষণ করে দেখেছেন । আফগানিস্তানে চার বছরের গৃহযুদ্ধের পরে ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তালেবান কাবুলকে দখল করতে সফল হয় এবং তারপরে  প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নজিবউল্লাহর ওপর অকথ্য নির্যাতন করে তার  দেহ ট্র্যাফিক পোস্ট থেকে ঝুলিয়ে দেয় । সেই নির্যাতনের ছবি গোটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরে তালেবানরা বার্তা দিয়েছিলো যে, এখন থেকে আফগানিস্তানের দায়িত্ব তারা নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছে এবং সেদেশে একটি ' সম্পূর্ণ ইসলামিক ব্যবস্থা' চালু করছে।  কাবুলের সরকারি অফিসগুলিতে তালেবান পতাকা উড়তে শুরু করে এবং তাদের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা উপায়ান্তর না দেখে পলায়ন করে শক্ত ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়।  VOA - এর সাংবাদিক নাফিস টাকার তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানিয়েছেন ,  ' তালেবানরা মসনদে বসার পর দ্বিতীয় মাসে আমি কাবুলে পৌঁছেছিলাম।   রাজধানী কাবুলে তালেবানদের নীতি পুলিশের রমরমা দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সেখানকার নাগরিকদের বাকরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।আফগান পোশাকের সশস্ত্র রক্ষীরা স্থানীয় মহিলা এবং পুরুষদের ওপর  দ্রুত পরিবর্তন আনতে শুরু করেছিল। স্থানীয় পুরুষদের প্রত্যেককে একটি টুপি বা পাগড়ি  পরতে বাধ্য করা হয় । এবং সেই সঙ্গে দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রার্থনার সময় সমস্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়।
বাদ যাননি মহিলারাও।  পুরানো ধাঁচের , বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নীল রঙের শাটলকক-আকৃতির বোরখা পরার জন্য বাধ্য করা হয় মহিলাদের। কখনো কখনো বিনা কারণে নীতি পুলিশের দোহাই দিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধর করা হত তাদের ।  বলা হত, বোরখার নিচ দিয়ে নাকি তাদের গোড়ালি দেখা যাচ্ছে।  কাবুলে এখন স্কুল বন্ধ, টেলিভিশন ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে তালেবানরা।    কাবুল যাদুঘরের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়া হয়েছে  ,টুকরো টুকরো হয়ে গেছে  সরকারি ভবনের  বহু দুর্মূল্য ছবি । দেশে হারিয়ে গেছে সুরের মূর্ছনা , তার জায়গায় এখন বাজে শুধু জিহাদি সংগীত।  ' তালেবানরা দেশের জনগণকে দাবিয়ে রাখতে, দমিয়ে রাখতে মাদ্রাসার স্নাতক উগ্রবাদী মোল্লা কালামুদ্দিনকে  উপমন্ত্রী  হিসেবে নিয়োগ করেছে। সাংবাদিক নাফিস টাকার জানাচ্ছেন  ' ' তিনি ৬ফুট  উপরে লম্বা ছিলেন। আমি তার সঙ্গে যখন দেখা করতে গিয়েছিলাম মহিলাদের ওপর তার তীব্র অসম্মান আমার চোখে পড়ে।  মোল্লা কালামুদ্দিন বলেছিলেন , মহিলাদের দুটি বাসস্থান রয়েছে-একটি বাড়ি এবং একটি কবর। একটি হোটেলে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই হোটেলে একটি ছোট বুদ্ধমূর্তি রাখা ছিল।  যা দেখে ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে সেই মূর্তি ভেঙে গুড়িয়ে দেন মোল্লা কালামুদ্দিন। ' কাবুলের আফগান ন্যাশনাল ব্যাংকে একসময়ে অনেক মহিলা  কাজ করতেন।  আজ সেই ব্যাংক বন্ধ। সব মহিলাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছে তালেবানরা।  এমনকি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বলে দেয়া হয়েছে তারা যেন কোনো মহিলা কর্মীকে কাজে না রাখেন। কাবুলে এখন অন্য কোনো গণমাধ্যমের অস্তিত্ব নেই,  শুধু রয়েছে VOA , BBC এবং তালেবান রেডিও শারিয়া ।  রেডিও শারিয়া মারফত ইসলামের নতুন নিয়মনীতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হয়। সন্ধ্যায় প্রাইম টাইমে পাকিস্তানের মাদ্রাসা থেকে পাস্ করা মোল্লারা তাদের নতুন ফরমান জারি করেন রেডিও মারফত , যা শুনতে হয় স্থানীয় নাগরিকদের । যেমন : মহিলারা যদি মাথা না ঢেকে রাখেন তাহলে শয়তান এসে মাথায় প্রস্রাব করে দিয়ে যাবে।  গান শুনলে ঈশ্বর কানে গরম সীসা ঢেলে দেবেন।  রাস্তার বাম দিক দিয়ে হাঁটা বা গাড়ি চালানো ইসলামের পরিপন্থী। একজন মহিলা যদি একজন পুরুষকে দেখেন বা একজন পুরুষ যদি এক মহিলাকে দেখেন তাহলে তা ব্যাভিচারের সমান -- এরকম অজশ্র নতুন ফতোয়া জারি করা হয় তালেবানদের তরফে।  সকাল থেকে রাত গোটা কাবুল জুড়ে যেন চলে কারফিউ।  নাফিস কাবুল ছাড়েন ১৯৯৬ - এর ৫ নভেম্বর।  তিনি জানাচ্ছেন, কাবুল থেকে কান্দাহার যাবার পথে হঠাৎ রেডিওতে শোনা যায়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দুর্নীতির অভিযোগতুলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর সরকারকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন।  এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভুট্টোর সরকারের পতন হয়েছিল। এর আগে ১৯৮৯ সালে সামরিক কারণে তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল।  ভুট্টোর পর ১৯৯৭ সালে পাক মসনদে বসেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তিনি প্রথম আফগান তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।  ২৪ বছর পরে, ইসলামাবাদ থেকে বহু বছর অস্বীকৃতি সত্ত্বেও, বেশিরভাগ আফগান এখনও তালেবানকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি বাহিনী হিসাবে দেখেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শহীদ

২০২১-০৭-২৩ ২২:২০:৪৯

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সুযোগ ছিল না। নালা-নর্দমা-জঙ্গলে অবৈধ সন্তান জন্মদানের সুযোগ ছিল না। ইভটিজিং, প্রতারণা, দুর্নীতি, লুট ছিল না। জানালা দিয়ে সন্তান ছুঁড়ে ফেলা ছিল না। আহারে তালেবান আমল কত নোংরা! ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে যদি রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু হতো কতই না ভাল হতো। যত্রতত্র চাঁদাবাজী, খুন-খারাবী থাকতো কতই না ভাল হতো। বিনা বিচারে বছরের পর বছর জেলে রাখতো কতই না ভাল হতো। অজ্ঞতা আসামী, গায়েবী মামলা, মিথ্যা মামলায় জনগণকে হয়রানী করলে কতই না ভাল হতো। পতিতা বৃত্তি ও সামাজিক অন্যায়ে তালেবান সত্যিই অনেক বাধা!

M.A. Malek

২০২১-০৭-২৩ ২০:৫৬:৩৯

এক চোখ ওয়ালা মানুষের তৈরি ফরমায়েশি লেখা। তালিবান রা অত্যাচার করেছে শুধু এই খবর প্রচার করে। রাশিয়া বা আমেরিকা ধোয়া তুলসি পাতা, ওরা কয়েক কোটি মানুষ হত্যা করেছে, লাখো নারিকে ধর্ষণ করেছে, এই খবরগুলি মিডিয়া দেখে না।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

মুফতি ইব্রাহীম আটক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status