কাল থেকে ২ সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন (১ সপ্তাহ আগে) জুলাই ২২, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

ফাইল ছবি
আজ শেষ হচ্ছে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি। তিন দিনের এই ছুটি শেষে  কাল শুক্রবার  থেকে  ফের সারাদেশে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হচ্ছে। এবার সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে শিল্প-কারখানাও। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৮ দিনের জন্য শিথিল করা হয় কঠোর লকডাউন।

এ অবস্থায় শুক্রবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ। বন্ধ থাকবে শপিংমল, দোকানপাট। চলবে না বাস-ট্রেন-লঞ্চ-বিমান। এছাড়া সরকারি অফিসের কাজ ভার্চুয়ালি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই সপ্তাহের লকডাউনের বিধিনিষেধ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৩ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
এ সময় বিধিনিষেধের আগের কিছু শর্তের সঙ্গে নতুন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো হলো-
১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে।
২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
৪. সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৫. সকল প্রকার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।
৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহ, বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে
৭. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৮. ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৯. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এমএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ অন্যান্য মাধ্যমে) কাজ সম্পাদন করবেন।
১০ আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস-জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ অনান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।
১১. বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে হিসাব সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
১২. জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।
১৩. বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।
১৪. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
১৫. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।
১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট/প্রমাণক প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবেন।
১৯. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
২০. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
২১. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
২২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখাক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
২৩. সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জাফর আহমেদ

২০২১-০৭-২২ ০০:০৩:৪০

কঠোর কঠোর এই সব কথা শুনে শুনে শুধু মাত্র কানের ব্যথা করে, কাজের কাজ কিছুই হয় না, বড়ো লোকের সব কিছুই চলে, গরিবের পেটে লাথি মেরে, কঠোর করে, সরকার আসলেই কি কঠোর করতে চায়? তার এ পর্যন্ত মনে হয় নি, সরকার মোহদয়ের কাছে অনুরোধ আপনারা যদি আন্তরিক ভাবে সংক্রমণ কমাতে চান তাহলে কঠোর শব্দের অর্থ সবাই বুঝতে হবে, আর না হয় , আল্লাহ উপর ছেড়ে দিয়ে, আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান, কঠোর কঠোর বলে গরিব মানুষদের কষ্ট দিয়েন না,

ক্ষুদিরাম

২০২১-০৭-২২ ১২:৫৮:১২

এর চেয়ে কঠরতম লকডাউন দিয়েও করোনা নিয়ন্ত্রন করা যাবেনা ১০০% গ্রান্টি। যদি তাই হয় তাহলে এভাবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে, আবদ্ধ ঘরে বসে থেকে ছেলেপেলেদের মানুষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ক্ষেত্র বিশেষে অপরাধে কিম্বা আত্নহত্যার মত অন্যায়ের মধ্যে প্রবেশ করা, মানুষকে কর্মহীন করে তাদের অর্থনৈতিক ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য এই সরকারকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। এই লকডাউনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা তারা হল......... ১। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারি (অফিস খুলুক বা না খুলুক মাস শেষে বেতন !)। ২। পুলিশ। ৩। র‍্যাব। ৪। সরকারী আমলা(ঐযে মাস শেষে ঠিকই বেতন পাবে !) ৫। আওয়ামী রাজনিতির সাথে জরিত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব(কারন অন্তত আরো দশ বছর বিনা আয়ে চলার মত পকেট মানি তাদের পকেটেই থাকে, ব্যাংক ও অন্যান্য যায়গার কথা নাইবা বললাম !) ৬। করোনা জুজুর ভয় দেখিয়ে ব্যাবসা করা সমস্ত স্যানিটাইজার, মাস্ক,সাবান ও এন্টিসেপটিক লিকুইড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ৭। সমস্ত চাল, ডাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মজুদদার(লকডাউন যেন তাদের কাছে সাপে বর !) অর্থাৎ যা মরার মরবে কেবল আমজনতা ! অতয়েব ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করতে হবে মানবতা বিরোধী এই লকডাউনকে !!

Kazi

২০২১-০৭-২১ ২৩:৫৫:০১

যত কঠোর বিধি থাক পণ্য পরিবহন খোলা রাখুন। বিশেষ করে মৌসুমী ফল বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সরবরাহ। সবজি উৎপাদনের স্থান থেকে শহরে। ইলিশ সরবরাহ এক প্রান্ত থেকে সারা দেশে সরবরাহ বজায় রাখুন। আমেরিকার মহামারীর সময় ও আমেরিকা থেকে কানাডিয়ান ট্রাক ড্রাইভার আসা যাওয়া করে পণ্য পরিবহন করেছে । তারা এখনও আক্রান্ত হয় নি ।সুস্থ আছে। কীভাবে রোগ ছড়ায় স্পষ্ট ধারণা নিয়ে আইন প্রয়োগ করলে জীবন সহজ ও সুন্দর হবে । গাড়ি রিকশা ভাঙ্গার দরকার হবে না । রিকশা চালু রাখুন। একটিমাত্র নিরাপদ পাবলিক পরিবহন রহন রিকশা ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

সরানো হয়েছে 'ঘটনা সত্য', থামেনি প্রতিবাদ

আমার সন্তান পাপের শাস্তি নয়, সে একটা স্পেশাল গিফট

৩১ জুলাই ২০২১



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status