পেগাসাস প্রজেক্ট: তদন্তে ইসরাইলে টাস্কফোর্স গঠন, ব্যবহারকারীদের প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ সপ্তাহ আগে) জুলাই ২১, ২০২১, বুধবার, ৬:২৬ অপরাহ্ন

পেগাসাস প্রজেক্ট নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব। ধাক্কা লেগেছে ইসরাইলেও। কারণ, তাদের স্পর্শকাতর হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাস বিভিন্ন দেশের কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফোনে আড়ি পাততে ব্যবহার করছে। বহু দেশ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও পেগাসাস প্রজেক্ট তা ফাঁস করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা প্রমাণও দেখিয়ে দিচ্ছে। ফলে সাইবার বিষয়ক প্রযুক্তি বিক্রির নীতি পরিবর্তন করা হবে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করতে টাক্স ফোর্স গঠন করেছে ইসরাইল। এই টাস্কফোর্সে আছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক গোয়েন্দা ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে এই প্রযুক্তি যেসব সরকার কিনেছে এবং ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করেছে- তাদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানটজ।
মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলি মিডিয়া আউটলেটে এ তথ্য প্রকাশ হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। উল্লেখ্য, এনএসও গ্রæপের আবিষ্কার করা পেগাসাস সফটওয়্যার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিপীড়নমূলক সরকারগুলোর কাছে বিক্রি করেছে ইসরাইল। এর মধ্য দিয়ে তারা জনগণের বিরুদ্ধে নিপীড়নকে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ইসরাইলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বলা হয়েছে, এনএসও’র ক্লায়েন্টরা যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে আড়িপাতার মাধ্যমে, তা কি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে চলে গিয়েছে? এমন অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল এবং সার্ভিলেন্স কোম্পানি। ওয়ালা নিউজকে সরকারি একটি সূত্র বলেছেন, আমরা মনে করছি আমরা যে সাইবার হুমকির মুখোমুখি, তা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি। এসব প্রযুক্তি যারা ব্যবহার করে তাদের তা করা উচিত বৈধতা, দায়িত্বশীলতা এবং বৈষম্যহীনতার মধ্য দিয়ে। নিশ্চিত করতে হবে যে, সাইবার দুনিয়া নিরাপদ। এই সাইবার স্পেস সবার জন্য। এটা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবো। ইসরাইলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানটজ মঙ্গলবার বলেছেন যে, এনএসও নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, তাতে পেগাসাস প্রজেক্ট নিয়ে ‘স্টাডি’ করছে ইসরাইল। তিনি তেল আবিব ইউনিভার্সিটিতে সাইবারবিষয়ক এক কনফারেন্সে বলেন, আমরা শুধু সরকারগুলোর কাছে, শুধু আইনগত ব্যবহারের জন্য সাইবার পণ্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছি। যেসব দেশ এই প্রযুক্তি কিনেছে তাদেরকে অবশ্যই ব্যবহারের শর্ত মেনে চলতে হবে। উল্লেখ্য, ইসরাইলের অন্য কর্মকর্তারা আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন যে, পেগাসাস প্রজেক্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ইসরাইলের অন্য কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসরাইলের অত্যাধুনিক সাইবার-উইপনস শিল্পের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন কর্মকর্তা মারিভ নিউজকে বলেছেন, খুবই বড় ঘটনা এটি। এর পূর্ণাঙ্গতা বোঝার চেষ্টা করছি আমরা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

এ,টি,এম,তোহা

২০২১-০৭-২১ ০৬:৫৬:৪৬

ইসরায়েল যা করেছে তার জন্য এখন তাদের তদন্ত বা অনুশোচনা স্রেফ আইওয়াস-গাজাখুরি দায়িত্ব জ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড। তারা যখন পেগাসাস বিক্রি করে সরকারগুলোর কাছে তখন তারা কী জানতোনা এগুলো কী কাজে কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো কিনছে? এগুলোতো কম্পিউটারে সাজিয়ে রাখার জন্য কিনেনি। বিরোধী মত এবং পথের মানুষকে রুদ্ধ করতেই কোটি কোটি ডলার দিয়ে এগুলো কেনা হয়েছে। কেনা হয়েছে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে। এখন এসব তদন্ত করে লাভ কী? ওরা এখন একটাই করতে পারে বিশ্বের মুক্তচিন্তার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে পেগাসাস সফটওয়্যার অকার্যকর করে দেয়া।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

মার্কিন রিপোর্ট

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

২৯ জুলাই ২০২১



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



৬০ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন অচল, ‘এ অবস্থা চলতে পারে না’

যত দ্রুত সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার আহ্বান জাতিসংঘের

DMCA.com Protection Status