সিলেটে মৃত্যু ও শনাক্তে রেকর্ড

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

প্রথম পাতা ১৯ জুলাই ২০২১, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন

সিলেটে উৎকণ্ঠায় কাটে দিন-রাত। বাসায় থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে এই উৎকণ্ঠা বেশি। কারণ চিকিৎসাসেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে হাসপাতালে রোগী নিয়ে ছুটলেও মিলেনি একটি বেডও। অক্সিজেন তো দূরের কথা এখন অক্সিজেন সংবলিত বেডই পাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। নানা চেষ্টা, তদবিরেও মিলছে না বেড। অন্যদিকে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল সিলেটে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তে রেকর্ড ছুঁয়েছে।
করোনাকালের ১৬ মাসের মধ্যে সিলেটে শনিবার রাত-দিন ছিল ভয়ঙ্কর দিন। এদিন সিলেটে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এ ছাড়া সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ৬৮১ জনের। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও এ রিপোর্টে উদ্বিগ্ন। মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটি বলতে পারছেন না কেউ। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল। রাত হলেই রোগীর ভিড় বাড়ে এই হাসপাতালের ফটকে। সিলেটের দূর-দূরান্ত থেকেও রোগী নিয়ে আসেন স্বজনরা। একটি আইসিইউ বেডের জন্য চলে আহাজারি। ওসমানীতেও ভিড় জমান স্বজনরা। দুটি সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ কিংবা অক্সিজেন বেডের জন্য ছুটাছুটি করলেও বেড পাওয়া যায় না। মৌলভীবাজার থেকে আসা এক রোগীর স্বজন কামাল আহমদ শনিবার রাতে জানিয়েছেন- এম্বুলেন্স নিয়ে তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটাছুটি করেন। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও কোথাও মিলেনি আইসিইউ। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে কোভিড ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য রেখেছেন। কয়েকজন রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, রাতে এম্বুলেন্সে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে তারা রোগী নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করেন। কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ নেই। সরকারি, বেসরকারি সব হাসপাতালেই রোগী ভর্তি। এই অবস্থায় গাড়িতেই থাকতে থাকতে রোগীর পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। তারা জানান, অনেক রোগী অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য হাসপাতালে ছুটাছুটিও করেন। ধীরে ধীরে অক্সিজেন সাপোর্ট পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে- গত ১৭ দিনে সিলেটে কয়েক হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীই বাড়িতে থেকে সুস্থ হচ্ছেন। মাত্র ১০ ভাগ রোগী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। যাদের অক্সিজেন সাপোর্ট বেশি প্রয়োজন কেবল তারাই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সিলেটে করোনা চিকিৎসার পরিধি ক্রমেই সংকোচিত হয়ে এসেছে। এখন প্রতিটি সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ সবখানেই ধারণ ক্ষমতার বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহ কম থাকায় অধিক সংখ্যক রোগীকেও ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মোজয় দত্ত জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য বেশি রোগী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। অনেকেই আবার শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসেন। এ কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে এই চাপকে সামাল দেয়া হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে এবং সুস্থও হচ্ছে। সুস্থতার হার অনেক বেশি।’ এদিকে- শনিবার দিন-রাত ছিল সিলেটবাসীর জন্য উৎকণ্ঠার একটি দিন। একদিনে মৃত্যু ও শনাক্ত আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি ছিল। ৫০ শতাংশের উপরে চলে গেছে শনাক্তের হারও। স্বাস্থ্য বিভাগের গতকালের তথ্যে জানা গেছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেটে ৬৮১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ জন রোগী। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২২৫ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া বিভাগে সুনামগঞ্জ জেলার ৯৮ জন, হবিগঞ্জের ১০৫ জন ও মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা ১৮৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর বাইরে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬৫ জন রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিলেটে একই সময়ে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ১১ জনই সিলেট জেলার ও একজন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে বিভাগে মৃত্যুবরণ করা মোট রোগীর সংখ্যা ৫৭০ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৪৫৮ জন, সুনামগঞ্জে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ২৬ জন, মৌলভীবাজারে ৪৩ জন ও সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন। সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৮ জন, সুনামগঞ্জে ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ৬৫ জন ও মৌলভীবাজারে ২৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগী বৃদ্ধির বিবেচনা মাথায় রেখে তারা প্রতিদিনই বাড়াচ্ছেন আইসিইউ বেড। এখন প্রায় ১০০টি আইসিইউ বেডে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। অক্সিজেন সরবরারের চিন্তা করে তারা অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২১-০৭-১৮ ১৩:১১:৫১

এই যে এত সংকট ও দৌড়াদৌড়ি ও পেরেশানি তা দেখে সুস্থরা কিন্ত সতর্ক ও আত্মরক্ষার চেষ্টা নাই। অথচ আমরা বিদেশে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাহিরে যাই । যদিও সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক নয় ঘোষণা দিয়েছে । অগত্যা যদি আক্রান্ত হয়ে যাই । তখন কষ্ট ও মৃত্যু হবে আমার, সরকারের নয় ।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

শুভ জন্মদিন, প্রধানমন্ত্রী

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

গত মাসের চেয়ে চলতি মাসে রেমিট্যান্স কমেছে

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স  এসেছে ১৩৯ কোটি ১৭ ...

এসএসসি ১৪ই নভেম্বর, এইচএসসি ২রা ডিসেম্বর শুরু

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

চলতি বছরের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ...

করোনাকালে তথ্য অধিকারের নজিরবিহীন সংকোচন ঘটেছে

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির গত ১৮ মাসে জনগণের তথ্য অধিকারের ক্রমাগত লঙ্ঘন ও সংকোচনের নজিরবিহীন প্রবণতায় ...

অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশে যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাবসা করছে ওইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি ...

খবর নেই বাস রুট পুনর্গঠনের

সড়কে বিশৃঙ্খলা

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইভানার মৃত্যু

অবশেষে মামলা, আলামত জব্দের দাবি

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল

এনসিটিবি’র চেয়ারম্যানকে তলব

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে থাকা ভুলের ঘটনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ...

পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দুই দফা সিরিজ ...

সংসদ সচিবালয়ের এ কেমন বার্তা?

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



ভারতে টাকা ফেরত পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা

গ্রাহকের টাকা ফেরানোর উপায় কি?

ডেসটিনি-যুবক থেকে ইভ্যালি

হতাশার যে গল্পের শেষ নেই

খবর নেই বাস রুট পুনর্গঠনের

সড়কে বিশৃঙ্খলা

DMCA.com Protection Status