বিবিসির রিপোর্ট

কোভিড: বিধিনিষেধ শিথিলের পর ৬ দেশের বর্তমান অবস্থা

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (২ মাস আগে) জুলাই ১৫, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৬:২০ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২০ পূর্বাহ্ন

বৃটেনে ১৯ জুলাই থেকেই কোভিড সংক্রান্ত সকল বিধিনিষেধ উঠে যাচ্ছে। এরপর থেকে মানতে হবে না আর কোনো সামাজিক দূরত্ব রক্ষা কিংবা মাস্ক পরার মতো নিয়মগুলো। খুলে দেয়া হবে নাইট ক্লাবগুলো। বৃটেনের আগে আরও অনেকগুলো দেশই কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। সেসব দেশে এখন কেমন পরিস্থিতি চলছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ইসরাইল
বিশ্বে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে সবথেকে আগানো ছিল মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র ইসরাইল। গত ফেব্রুয়ারিতে সব ধরণের বিধিনিষেধ তুলে নেয় দেশটি। জুনের মাঝ নাগাদ দেশটির অর্ধেকের বেশি নাগরিকদের কোভিড ভ্যাকসিনের দুই ডোজ প্রদান করা হয়।
এরপর দেশটি মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতাও তুলে নেয়। খুলে দেয়া হয়, বার, নাইটক্লাব, সিনেমা, রেস্টুরেন্টসহ সকল ব্যবসা। তবে তখন বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এরফলে আবারো ইসরাইলে কোভিড রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। গত মঙ্গলবার একদিনে দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে ৭৫৪ জন। এটি গত ৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফল হওয়ায় হাসপাতালে রোগি ভর্তির হার একদমই কম রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক কম রয়েছে ইসরাইলে। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সরকার আবারো বিধিনিষেধ চালু করেছেন। বধ্য কক্ষে অবস্থানের সময় মাস্ক পরা ও বিদেশ থেকে আগতদের জন্য কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস
এখানেও ভ্যাকসিন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করে। গত জুন মাসে দেশটি কোভিড সংক্রান্ত সকল কড়াকড়ি তুলে নেয়। মাস্ক পরার বাধ্যবাধ্যকতা বাতিল করা হয় এবং তরুণদের বাইরে বের হতে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু সেখানেও এরপরেই আবারো আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। যদিও সেখানেও হাসপাতালে রোগির সংখ্যা কমের দিকেই ছিল। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইউটার্ন নিতে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাটে। শুক্রবার দেশটিতে নতুন করে নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাতের বেলা রেস্টুরেন্ট ও বারগুলো বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। আগামি ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়া
কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রথম থেকেই দ. কোরিয়া ছিল অন্যতম সফল দেশ। গত জুন মাসে দেশটির সরকার মাস্ক ছাড়াই জনগণকে বাইরে যেতে অনুমতি দেয়। খুলে দেয়া হয় রেস্টুরেন্টগুলোও। এমনকি জমায়েতের ক্ষেত্রেও নিয়ম শিথিল করা হয়। তবে এখন দেশটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পরছে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আবার ভ্যাকসিন কার্যক্রমেও গতি কমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্কতা জারি করে বলেছিলেন, সরকার সময়ের আগেই সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধ তুলে দিচ্ছে। কারণ এখনো দেশটির বেশির ভাগ জনগণকে এখনো ভ্যাকসিন দেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তার প্রতিফলন ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে করোনাভাইরাসে দৈনিক রেকর্ড সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। সরকার সামাজিক দূরত্বসহ বিধিনিষেধ জোরদার করতে বাধ্য হয়েছে।

সুইডেন
ইউরোপের অন্যান্য দেশের থেকে সুইডেন বেশ আলাদাভাবেই কোভিড মোকাবেলার চেষ্টা করেছে। দেশটি তার নাগরিকদের ওপরই নিজেদের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। তারপরেও দেশটিতে রেস্টুরেন্ট ও জনসমাবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। সেগুলো সম্প্রতি তুলে নেয় সুইডিশ সরকার। স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখাও অনুমোদন করে দেশটি। জুলাই মাসে কয়েক ধাপে সব বাধানিষেধ তুলে নিচ্ছে দেশটির সরকার। কিন্তু সেখানেও কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। দেশটিতে প্রবেশ করতে হলে এখন বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড পরীক্ষা করতে হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া
গত বছরের বেশিরভাগ সময়েই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা কোনো ধরণের বাধানিষেধ ছাড়াই পার করেছেন। এমনকি মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে কোভিডের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার আবার লকডাউনের পরিকল্পনা করেছে। যেমন গত জানুয়ারি মাসে মাত্র একজনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পরে পার্থে ৫ দিনের শাটডাউন জারি করা হয়েছিল। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় সিডনিতে লকডাউন জারি করা হয়। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এই লকডাউন জারি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিডনিতে এখন দৈনিক করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শতাধিক। লকডাউনের প্রথম কয়েক সপ্তাহেও সেখানে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষ নিয়ম মেনে ঘরে থাকছে না। সে সময় থেকে বিধিনিষেধ আবার কঠোর করা হয়েছে।
তবে দেশটির জন্য সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সেখানে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখনো কোভিড ভ্যাকসিন পাননি। তাই সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র
জো বাইডেনের প্রশাসন ভ্যাকসিন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করায় দেশটির অনেকগুলো প্রদেশই কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিল করেছে। খুলে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। নিউ ইয়র্কের ৭০ শতাংশ বাসিন্দা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এখন সেখানেও উঠে যাচ্ছে সকল কড়াকড়ি। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে যে পরিমাণ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল এখন সেটি কমে দশ ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। তবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status