কি মর্মান্তিক!

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুক ডায়েরি ৯ জুলাই ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৯ অপরাহ্ন

প্রতীকী ছবি
করোনা হাসপাতালে আমার অন্তরকে কাঁদানো একটা হৃদয় বিদারক কাহিনী বলি। আমার মায়ের পাশের বেডে খুলনা সদরের একটা ছেলে তার মাকে ভর্তি করিয়েছে গত পরশু। তার মায়ের শ্বাসকষ্ট তীব্র ছিল। অক্সিজেন লেভেল ৭০-এর কাছাকাছি। গতকাল তার বাবারও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বাড়িতে। সে ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। তাই হসপিটালে মুমূর্ষু মাকে একা রেখেই বাধ্য হয়ে ছুটে যেতে হয়েছে বাসায় তার বাবার কাছে। সেখানে যাওয়ার পর তার মা কয়েকবার কষ্টে অক্সিজেন মুখ থেকে টেনে খুলে ফেলেছিল।
তখন আমার ছোট বোনটি তার মুখে আবার লাগিয়ে দেয়। যাহোক বাবাকে বাড়িতেই একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে আবার ছুটে আসে মায়ের কাছে। কি অসহায় মুহূর্ত!! রাত ৩টার দিকে তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ছুটে যায় বাবার লাশের কাছে। তারপরে আজ সকালে আবার আসে মায়ের কাছে। সেখানে আমি দেখি ওই ছেলেটি তার মায়ের বেডের ওপর মাথা দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আমি এগিয়ে গিয়ে উনার গায়ে হাত দিয়ে ডেকে একটু সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। হওয়ার কথাও না। এরপর যেটা হলো সেটা আরো হৃদয় বিদারক। উনি আমাকে বললেন ভাই, আমার মায়ের পাশে আপনি যদি একটু বসতেন তাহলে আমি একটু আমার বাবার জানাজাতে যেতাম। সত্যি বলছি, সহ্য করার মতো ছিল না সেই মুহূর্তটা। যাহোক, আমি উনাকে বললাম ভাই আপনি যান, আমি ও আমার ছোট বোন দুজনেই আপনার মাকে দেখে রাখবো ইনশাল্লাহ। উনি আমাকে বললেন, ভাই আপনি আপনার বোনও অসুস্থ হয়ে গিয়েছে, সেটা আমি জানি। তাই আপনিই যদি একটু আসতেন। আমি বললাম ঠিক আছে ভাই আমি আসবো ইনশাল্লাহ। উনি আমাকে বলেন, জোহরবাদ বাবার জানাজা। আমি তখন যাবো, আপনি একটার দিকে আসিয়েন। আমি রীতিমতো ১২.৩০ এর দিকে গেলাম। গিয়ে দেখলাম সেখানে একটা ১৩-১৪ বছরের ছোট্ট ছেলে বসা। আমার ছোট বোনের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম তখন বললো ওই ছেলেটিকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে রেখে গেছে লোকটা। কি সাংঘাতিক বিষয়!!! কিন্তু সব থেকে মর্মান্তিক হলো, ওই ভাইটা বাবার জানাজা শেষ করে আসার ৫-৭ মিনিট পূর্বে তার মাও না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তারপরে যেটা ঘটলো সেটা বলার মতো আমার ভাষা নাই।

সোলাইমান হোসাইন মিন্টুর (শিক্ষক, বশেমুরবিপ্রবি ও জেলা সমন্বয়ক, গোপালগঞ্জ: সিসিএস স্বেচ্ছাসেবী) ফেসবুক থেকে নেয়া

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Jamshed Patwari

২০২১-০৭-২৫ ০১:৫৬:২২

গতকাল সন্ধ্যায় এসএমএস পেয়ে আজ সকালে সস্ত্রীক টিকা নিতে গেলাম। দেখলাম টিকা নিতে বেশির মানুষের মুখে মাক্স নেই। কারো কারো মাক্স থুতনীর নীচে। ভাবছিলাম টিকা নিয়েও ওদের কি হবে।

Md. Abbas Uddin

২০২১-০৭-০৯ ১৫:৪৮:৫৮

আসুন সবাই মিলে সঠিক নিয়মে নিয়মিত মাস্ক পরি, লকডাউনকে বিদায় করি। অন্যথায় বারে বারে আমাদেরকে লকডাউনে পড়তে হবে। মানুষকে মাইকিং করে সচেতন করতে এবং করনা নিয়ন্ত্রণে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমাদেরকেই নিজেদের স্বার্থে সচেতন হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং হিফাজত করুন।

Md. Harun al-Rashid

২০২১-০৭-০৯ ১৪:৪৯:২৫

ইয়া আল্লাহ! এঁদের সাহায্য করো! কি হৃদয়বিদারক মর্মযন্ত্রনাপূর্ন অন্তর বিহ্বলকরা মূহূর্ত।

Kazi

২০২১-০৭-০৯ ০১:১১:৩৬

বাঙালি এখন পাষান হৃদয় হয়ে গেছে । তাই অন্যের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা তার অন্তরে উপলব্ধি আসে না, নিজে পরিবর্তন হয় না । বেপরোয়া চলে । স্বাস্থ্য বিধি মানতেই চায় না । যখন নিজের উপর এরকম মুছিবত ( বিপদ) আসে তখনই শুধু উপলব্ধি করে । তবে তখন বড্ড দেরি হয়ে যায় ।

Dr Jahir, SUST

২০২১-০৭-০৯ ১৩:৫৫:১৮

Allah helps him. Wish for his family. I feel proud for this type of son.

শফিকুল ইসলাম

২০২১-০৭-০৮ ২২:৪৮:৫২

এতো করুন কাহিনি সর্তেও কেউ সাবধান হচ্ছে না। এটা সবচেয়ে ভয়ংকর।

Abdur Razzak

২০২১-০৭-০৯ ১১:৩০:৫৫

আল্লাহ যেন তার বাবা-মাকে জান্নাতবাসী করে দেন। আর এই ভাইিয়ের শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেন। আমিন

MD.ABDUL BAREK

২০২১-০৭-০৯ ১১:২৩:২৭

সত্যি মর্মান্তিক রিদয়বিদারক কষ্ট

ড.মোঃমোফাজ্জল হায়দার

২০২১-০৭-০৮ ২২:০৬:০৪

চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না... ভাষা হারিয়ে ফেলছি... আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন..

আপনার মতামত দিন

ফেসবুক ডায়েরি অন্যান্য খবর



ফেসবুক ডায়েরি সর্বাধিক পঠিত



পিতার জন্মদিনে মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘মির্জা আলমগীরের সারাজীবনের রাজনীতি বৃথা যাবে না’

DMCA.com Protection Status