পরিস্থিতি হ-য-ব-র-ল

নিম্ন আয়ের মানুষের অপরাধ কি?

কাজল ঘোষ

মত-মতান্তর ৮ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

দিন যত গড়াচ্ছে করোনার গতিও তত উল্কা হচ্ছে। ভ্যারিয়েন্টের শেষ নেই। ডেলটা নিয়ে যখন অস্তির সর্বত্র তখর খবর এসেছে ল্যাম্বার। যা কিনা আরও মারাত্মক। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দাবানলের মতো। মৃত্যুর আর রেকর্ড লেখার গতি নেই। কারণ, প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে। শহরে থেকে গ্রামে মানুষের ঘুম ভাঙছে স্বজনের কান্নায়।
বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছে মানুষ হাসপাতালের বারান্দায়। আইসিইউ আর অক্সিজেনের হাহাকারে জীবন বিপন্ন।
 
পরিস্থিতির উন্নতিতে যে কটি সমাধান বিশেষজ্ঞরা ঘুরিয়ে পেছিয়ে বলছেন, তার মধ্যে সকল নাগরিককে ভ্যাকসিনেটেড করা, স্বাস্থ্যবিধি মানা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। প্রথমটি অর্থ্যাৎ সকল নাগরিককে ভ্যাকসিনেটেড করা এখনও অন্ধকারে। দ্বিতীয় আর তৃতীয় দুটি বিষয়ই ভাবাত্মক বা বিমূর্ত। পালিত হচ্ছে আবার হচ্ছে না। সরকার জোড়েশোড়ে লকডাউনের কথা বলেছে। রাস্তায় সেনা টহলও দেখা যাচ্ছে? প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে মানুষ। এই সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
 
কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে সাতদিনে রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। ডিএমপির এই তথ্যে লকডাউন মানাতে পুলিশের তৎপরতা লক্ষণীয়। এর সঙ্গে র‌্যাবের তৎপরতাও অব্যাহত। গ্রেপ্তারের হিসেবটিতে চোখ বুলালে দেখা যাবে গত সাতদিনে আটক হয়েছেন কতজন করে। আর জরিমানা আদায় হয়েছে কত?

১লা জুলাই ৫৫০ জন, ২রা জুলাই ৩২০ জন, ৩রা জুলাই ৬২১, ৪ঠা জুলাই ৬১৮ জন, ৫ই জুলাই ৫০৯, ৬ই জুলাই ৪৬৭ জন এবং ৭ই জুলাই বুধবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০২ জনকে গ্রেপ্তার। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৪৫ জনকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৮০ টাকা জরিমানা করেছেন।
 
কিন্তু যাদের আটক করা হয়েছে, আদালতে নেয়া হয়েছে, দেখা গেছে বেশিরভাগই খেটে খাওয়া, নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা প্রতিদিনের আয় সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। হকার, মজুর, গাড়ি চালক। যাদের অনেকের এই দীর্ঘ লকডাউনে বাঁচার অবলম্বন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, রাজধানীতে ঢিলেঢালা লকডাউনে সরজমিন দেখা গেছে, সড়কে গাড়ি চলাচল বাড়ছেই। আর তার বেশিরভাগই ব্যক্তিগত। যারা নানান কাজ প্রয়োজন বলে চলাচল করছে। কিন্তু ব্যাপক হারে আটক হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি সহায়তা বা ৩৩৩-এর যে হটলাইনের কথা বলা হচ্ছে তাতে মুখোমুখি হয়েছেন যে পরিমাণ মানুষ তা যাচাই বাছাইয়ের পর খাদ্য পেয়েছেন এমনদের সংখ্যা নগন্য। তার ওপর যাচাই বাছাইয়ের পর খাবার প্রাপ্তির জন্য ক্ষুধা তো আর বসে থাকে না।
 
৩৩৩-তো খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কঠোর লকডাইনের শেষ সাতদিনে খাদ্য সহায়তা চেয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩৬টি পরিবার। এগুলো সবই জেলা শহরের মানুষ। কিন্তু এ সময় রাজধানীর সিটি করপোরেশন এলাকায় কাউকেই খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়নি। অথচ রাজধানীর ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা অগুনতি। এই মানুষগুলোর অবস্থা কি? কিভাবে চলছে তাদের জীবন? এ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি চোখে পড়ছে না।
 
পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, খোলা বাজারে মধ্যবিত্তের দীর্ঘ লাইন। সেখানে স্বাস্থ্যবিধির চেয়ে বড় বিষয় খাদ্য। অনেক ব্যবসায়ীকেও দেখা গেছে নিঃস্ব হয়ে খোলা বাজারের লাইনে দাঁড়াতে। দেশের সর্বত্রই এ চিত্র। রাজধানীতে এখনও পর্যন্ত কোথায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ত্রাণ সরবরাহ করা হয়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাধিক নিরন্ন মানুষের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের সঙ্গেই কথা বলে দেখা গেছে তাদের এমনতিইে আয় রোজগার নেই তার ওপর আটকালেই জরিমানা আর গারদখানার ভোগান্তি।
 
আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চলছে খামখেয়ালি। একদিন আগেই প্রায় ১৩০০ চিকিৎসককে গণবদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলো। সেই তালিকায় দেখা গেছে মৃত ব্যক্তি বদলি হয়েছেন। আর দিনের প্রজ্ঞাপন রাতেই স্থগিত করা হলো। কোন সমন্বয় নেই তা পুরো বিষয়টি দেখলেই বোঝা যায়। পাশের দেশে বুধবারই স্বাস্থ্য খাতের নজিরবিহীন দায় নিয়ে চলে যেতে হয়েছে মন্ত্রীকে।
 
কঠোর বিধিনিষেধে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষকে গ্রেপ্তার, আটক ও জরিমানা করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ২০টি সংগঠনের এই জোট মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, গত কয়েক দিনে ঢাকা শহরে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষসহ যারা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের জেলে পাঠানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জরিমানা ও কারাগারে না পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, নিম্ন আদালতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন হাইকোর্ট। চলমান বিধিনিষেধে রাজধানীর ৩৩টি থানা থেকে গ্রেপ্তারদের একযোগে নেওয়া হচ্ছে আদালতের গারদখানায়। সেখানে শত শত লোককে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। বুধবার বিষয়টি নজরে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে বলেছেন হাইকোর্ট। বুধবার  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Anwarul Azam

২০২১-০৭-২১ ০৪:০৪:২১

Govt. can take appropriate measures to help the poor people..at once ..

শহীদ

২০২১-০৭-০৮ ২০:৪৮:১৫

কিছু ভদ্র মানুষ ফুটপাথে দাঁড়িয়ে গল্প করে। অন্য পথচারী যাওয়ার সুযোগটুকুও রাখে না। লকডাউন নয়। মানুষের গতি থামানো বোকামী। মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে আরো সহজ করুন। জরুরী সেবার লোকেরাও ঠাসাঠাসি করে যেতে হচ্ছে। গাড়ির সংখ্যা বাড়ান। 2 সিটে 1 জন ঠিক ছিল। ঠিক ছিল না পুলিশের আয়ের কারণে কিছু লোকাল যান-বাহন। মানুষের ভিড় কমান। ব্যাংক লেনদেন শনিবারও খোলা রাখুন। রাস্তা, নালা, নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। যত্রতত্র ময়লা, কাশ, থুথু, পানের পিক ফেলতে বারন করুন। জরিমানা করুন। নিয়মিত জীবানুনাশক স্প্রে করুন। যান-বাহনের সংখ্যা বাড়ান। লকডাউন করোনা থেকেও ভয়ানক আমাদের দেশের জন্য।

আবুল কাসেম

২০২১-০৭-০৮ ০৪:২০:০২

কাজল ঘোষ নিম্ন আয়ের মানুষের কি অপরাধ সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। কিন্তু, যাদের আয় রোজগার বলতে কিছুই নেই তাদের অপরাধটাওবা কি? খাদ্যের সন্ধানে বের হলেই জরিমানা গ্রেফতার। যারা জরিমানার টাকা দিতে অক্ষম তাদেরকে পাঠানো হচ্ছে জেলে। এতোটাই অমানবিকতার ধর্ম বাংলাদেশের কোথায় লেখা আছে তা কেউ দেখাতে পারলে দেখিয়ে দেন। যার পকেটে টাকা নাই তার কপালে জেল। এ যেনো টাকা কামাইয়ের মচ্ছব! লকডাউন কি টাকা কামাইয়ের জন্য? লকডাউন ভেঙে একজন লোক কেনো ঘর থেকে রাস্তায় তার কারণ উদ্ধার না করেই জরিমানা অথবা জেল। বৃটিশ উপনিবেশের নীলকরদের কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এক কথায় দুকথা বললেও জরিমানা গুনতে হতো। ৫০ বছর গত হয়েছে। রক্তের দাগ শুকায়নি। চোখের সামনে যেনো এখনো দেখি। স্মৃতি ভীতিকর। করোনা সংক্রমণের শুরুটাই শুরু হয়েছে অসঙ্গতি ও অপ্রস্তুতি সঙ্গে নিয়ে। টেস্টের ঘাটতি, ওষুধের ঘাটতি, হাসপাতালে রোগী ভর্তির ঘাটতি, শাহেদের দুই নম্বরি কারবার, ভেকসিন জোগানে ঢিলে ঢালা ভাব এবং আরো নানান অসঙ্গতি আর ব্যর্থতার বিবরণ লিখলে মহা কাব্য হবে। এইসব ব্যর্থতা আড়াল করতেই বুঝি কঠোর থেকে কঠোরতার প্রয়োগ! নাগরিকদের সমাদর করার, সম্মান করার, দুঃখ মুসিবতের ভাগীদার হওয়ার এবং বৈষম্য দূর করার পাঠ লেখা আছে দেশের উন্মেষের রক্তের সাথে। যতো দিন যায় ততো বাড়ছে রাস্তায় বের হওয়া মানুষের সংখ্যা। কঠোর হলেই কি মানুষের পেটের আগুন নিভবে। পেটের আগুন তো মানুষকে ঘরে থাকতে দেয়না। সেকথা বুঝবার ক্ষমতা কি নেই কারো? পেটে দানা পানি না দিতে পারলেও গোঁসাই ঠিকই পিঠে কিল দিতে পারে। প্রবাদ আছে, 'পেটে দিলে পিঠে সয়।' একনম্বরে মানুষের পেটের আগুন নেভাতে হবে। তারপর মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার গ্যারান্টি দিতে হবে। আয় হীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কতো তার সঠিক হিসাব রাখা জরুরি। এদের সবাইকে খাবার দিতে হবে, করোনা সংক্রমণ সুরক্ষার সরঞ্জাম দিতে হবে। বিপদের সময় খড়গহস্ত না হয়ে মমতা দিতে হবে। বুঝাতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হলে মানুষ ঘুরে দাঁড়ালে আম চালা খোয়ানোর সম্ভাবনার রাস্তা তৈরি হয়ে যেতে পারে। আর আরেকটি কথা বলে রাখি মাথার উপরে সর্বশক্তিমান একজন কিন্তু রয়েছেন। তাঁর বিচার অতি সুক্ষ্ম। গভীর বিশ্বাসী এবং গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন ও চিন্তাশীল না হলে তাঁর বিচার চোখে ধরা পড়েনা। আলেম ওলামারা শান্তিতে রোজার মাস পার করতে পারেনি। গত বছরে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও এক সময় হেফজ খানা ও কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হয়েছিলো। সেখান থেকে করোনা সংক্রমণের একটি নজিরও নেই। এসব মাদ্রাসায় কুরআন তেলাওয়াত হয়, আল্লাহর ইবাদতের মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়। কুরআন তেলাওয়াতে আল্লাহর দরবার থেকে রহমতের বারি বর্ষণ হয়। বালা মুসিবত দূর হয়। এটা শুধু বিশ্বাস নয়, এটার প্রত্যক্ষ প্রমাণও আছে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা খুব অল্প পারিশ্রমিকে কুরআন মজিদ শিক্ষা দেয়। বিষয় গুলো বিবেচনা করা আবশ্যক। রাস্তায় কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করার চেয়ে সমস্যার গভীরে যাওয়া দরকার এবং মানুষের প্রতি দরদী, সহমর্মি ও মানবিক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অমানবিক আচরণ, নিষ্ঠুরতা ও মানুষের মনে কষ্ট লাগার মতো ব্যবস্থা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। সুতরাং, এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত যেসব কাজের জন্য আল্লাহর আরশে আজিমে কাঁপন ধরে এবং তাঁর রহমতের ধারা গজবের ধারায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।

Desher Bhai

২০২১-০৭-০৮ ১৬:৫১:৪৭

OK - We are stronger than coronavirus. SHW and all illegal Indian RAWami League politicians - We are as developed and prosperous as USA, Canada, US, Singapore, Switzerland, etc., etc., etc.

ক্ষুদিরাম

২০২১-০৭-০৮ ০৩:০৪:২৭

লকডাউন নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক ! এদেশে লকডাউন কেবল হাহাকার আর ক্ষুধার মৃত্যু বাড়াতে পারবে। করোনার মৃত্যু রোধ করতে পারবে না। অতয়েব এই মুহুর্তে লকডাউন মুক্ত বাংলাদেশ চাই !!

Borno bidyan

২০২১-০৭-০৮ ০৩:০০:০৩

নিম্ন আয়ের মানুষের অপরাধই সবচেয়ে বেশী! কারণ, গরিব হয়ে জন্ম নিয়েই তারা পাপ করেছে! তারা উপরে উঠতে যেমন পারে না ! তেমনি নিচেও নামতে পারে না! তাদের পেটে ভাত নেই কিন্তু টিকার পরীক্ষার মত গিনিপিগ হিসেবে তাদেরকেই সরকারী আইন-কানুন নির্যাতনের সব কিছুই সহ্য করতে হয়!

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

টিকার বৈষম্য!

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

'আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস'

বাস্তবে শান্তির, নিরাপত্তার, মানবিক অধিকারের সুযোগ কতজন পায়?

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

৯/১১-এর ছায়া!

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

তালেবান ও ভারতের সমীকরণ

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

তালেবানদের কাতার কানেকশন!

৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফিরে দেখা ৯/১১

৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আবার আফগান দৃশ্যপটে পানশির

৭ সেপ্টেম্বর ২০২১



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত



দেখা থেকে তাৎক্ষণিক লেখা

কোটিপতিদের শহরে তুমি থাকবা কেন?

কাওরান বাজারের চিঠি

ছবিটির দিকে তাকানো যায় না

DMCA.com Protection Status