বই থেকে নেয়া

বছর বছর চাল আমদানির রহস্যটা কোথায়?

শাইখ সিরাজ

২৪ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:৪০ অপরাহ্ন

করোনার কারণে বিশ্ববাসী চরম একটা খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, এমন ইঙ্গিত মাসখানেক আগেই দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিওএফপি। শুধু আফ্রিকা মহাদেশেই খাদ্য সংকটে পড়বে ২৫ কোটি মানুষ। খাদ্যের দাম বাড়বে। জনপ্রতি খাদ্যগ্রহণ কমে যাবে। আবার নতুন করে পুষ্টিহীনতায় ভুগবে মানুষ। এমন খবর, গবেষণা এখন অহরহই পত্রপত্রিকা আর গণমাধ্যমে উঠে আসছে।
আমাদের দেশ সেদিক দিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে আছে। সরকার বলছে দেশে চালের মজুদ সন্তোষজনক। কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী হরহামেশাই বলে যাচ্ছেন, দেশে ১৫ লক্ষ টন চাল রয়েছে। নতুন ধান বোরো উঠছে, সেখানে ফলন ভালো, অতএব আমাদের খাদ্যের অভাব হবে না।
ভারতের ইকোনমিক টাইমের একটা প্রতিবেদন পড়লাম, তারা বলছে, পশ্চিমঙ্গের সীমান্ত দিয়ে ভারতের চাল আসছে বাংলাদেশে। সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু ট্রাক অপেক্ষা করে আছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য। নিজের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে চাল আসতে দিতে চায় না পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনার কারণে ৬ মাস ফ্রি রেশন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সময়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কম। বাংলাদেশে চাল রপ্তানি শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গের চালে দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেখানকার চাল-ব্যবসায়ীরা।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত দিয়ে চাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০ মে (২০২০)-এর পর ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে।
পাঞ্জাব থেকে বাসমতি চাল, হরিয়ানা থেকে গোবিন্দভোগ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্যান্য চাল আমদানি করে বাংলাদেশ। সীমান্ত দিয়ে চাল ঢুকতে না পারলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এরই মধ্যে ভারতীয় চাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
কথা হচ্ছে, সরকার বারবার বলছে, আমাদের প্রচুর চাল মজুদ আছে এবং বোরোর উৎপাদন ভালো হয়েছে। গত বছর চাল রপ্তানির কথাও চিন্তা করা হয়েছিল। তাহলে বছর বছর আমাদের চাল আমদানি করতে হয় কেন? চাল আমদানি করার কারণে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধানের দাম পায় না, চালের দাম পায় না। কী পরিমাণ বাসমতি চাল বা সুগন্ধি চালের চাহিদা আমাদের আছে তা নিরূপণ করা জরুরি। যেখানে আমরাই প্রতিবছর সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে আসছি, স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে চাল আমদানির এই রহস্যটা কোথায়?
১০.০৫.২০২০

অন্যদিন প্রকাশিত ‘করোনাকালে বহতা জীবন’ বই থেকে নেয়া
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status