মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ৩৬ দেশ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) জুন ১৯, ২০২১, শনিবার, ১:০২ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুল্যুশনে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, চীন, লাওস, নেপাল, থাইল্যান্ড ও রাশিয়া সহ ৩৬টি দেশ। বাংলাদেশ কি যুক্তিতে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।  ভারত বলেছে, জাতিসংঘের প্রস্তাবনা খসড়ায় ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়নি। তাই তড়িঘড়ি করে যে রেজ্যুলুশন আনা হয়েছে তাতে বিশ্বাস নেই নয়া দিল্লির। সব ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানে বৃহত্তর অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় ভারত। এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই।

শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে মিয়ানমারে ১লা ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানানো হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
কিন্তু ভারত বলেছে, এতে যে বিষয় তড়িঘড়ি করে আনা হয়েছে তা ওই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য যে যৌথ প্রচেষ্টা রয়েছে এটা তার পাল্টা ব্যবস্থা।
 
উল্লেখ্য, ‘দ্য সিচুয়েশন ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক ওই খসড়া প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপন করা হয় শুক্রবার। এর পক্ষে ভোট দেয় ১১৯টি দেশ। বাংলাদেশ, ভারত সহ ৩৬টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। তবে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে একটিমাত্র দেশ বেলারুশ। পরে বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেছেন, প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই দ্রুততার সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটা শুধু সহায়ক প্রতিকূলই নয়, একই সঙ্গে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আসিয়ান যে প্রচেষ্টা নিয়েছে তার পাল্টা ব্যবস্থাও।

টিএস তিরুমূর্তি আরো বলেন, মিয়ানমারের নিকটতম প্রতিবেশী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারত। তাই সেখানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মারাত্মক প্রভাবের বিষয়টি অবগত ভারত। এই অস্থিতিশীলতা মিয়ানমার সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখানকার সমস্যা সমাধানে বৃহত্তর অংশগ্রহণ দাবি করে ভারত। এরই মধ্যে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আসিয়ানের মাধ্যমে। আসিয়ানের এই উদ্যোগকে সমর্থন করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। কারণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব ইস্যুর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। এ জন্য এই অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে একটি প্রস্তাব বিশ্বাস করতে পারি না আমরা। তাই আমরা ভোটদান থেকে বিরত থেকেছি।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং খেয়ালখুশিমতো যেসব ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সবার মুক্তি দিতে হবে। এতে সদস্য সব দেশকে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং দেশের মানুষের সব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে টেকসই একটি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে অনুমোদন দিতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mohammad Nurul Islam

২০২১-০৬-১৯ ২০:১৪:৪১

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের কারণে একজন বাঙালি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমি মর্মাহত। প্রায় ১১ লাক রোয়াইঙ্গা আমাদের মাথার উপর রয়েছে এরপরেও আমাদের বোধোদয় হবে না? ভারতে মুসলিম হত্যার জল্লাদ মুদিকেিই আমরা সমর্থন করে যাবো? জাতি হিসেবে কি আমরা খুবই ছোট হয়ে গেলাম না। ১৯৭১ সালে আমরা অস্ত্রহাতে দেশ স্বাধীন করেছি। সেই চেতনা বোধ থাকলে আমরা মিয়ানমারের (মগের মুল্লুকের সর্দার) সেনা শাসকদেরকে সমর্থন করতে পারি না।

Razzak (From, KSA)

২০২১-০৬-১৯ ১৮:২২:৪১

DADAGO PAA NA CHATLAY JAY KHOMOTAI THAKA JABAYNA. DEKHI VAROT KOTO DIN KHOMOTAI RAKHAY.

AMIR

২০২১-০৬-১৯ ১৭:৩৩:৫৮

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ------মিয়ানমরকে এক ধরনের তেল দেওয়া আর কি! দেখাযাক এতে রহিঙ্গারা ফেরত যায় কি না।

Imran

২০২১-০৬-১৯ ১৭:২৩:৫০

ভারতের দালালী করতে কিছু বুজে না বুজে ভারত যা বলেছে তাই করেছে। গোপাল ভাঁড় আলগা মমিন

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২১-০৬-১৯ ১৭:১১:০০

মিয়ানমারের নাগরিক, সেনা বাহিনী এবং মগ ভিক্ষুরা মিলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এখন সামরিক জান্তার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব নাজিল হয়েছে। এই গজবে তারা পিষ্ট হোক। বার্মায় তথাকথিত গণতান্ত্রিক নেত্রীও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বর্বরতার পক্ষেই ছিল। সুতরাং রোহিঙ্গাদের পক্ষে বার্মায় এখন কেউ নেই বললেই চলে। সুতরাং বার্মায় গণতন্ত্র থাক আর স্বৈরতন্ত্র থাক তাতে বাংলাদেশের কিছুই যায় আসেনা। বার্মা জ্বলতে থাকুক এটাই কামনা।

জাফর আহমেদ

২০২১-০৬-১৯ ০২:২৫:০০

বাংলাদেশের ভোট দেয়া না দেয়া কোন সমাধান নয়, মুলত বাংলাদেশ ভোট দেয়নি তাদের সরকারের মাথায় যাদের হাত তাদের কে খুশি করতে, এতে দেশের কি হয় না হয় এতো কিছু ভাবার সময় নেই,

Dr.Ansari

২০২১-০৬-১৯ ১৩:৪৯:১৯

ভণ্ডামি । ভারতের অস্ত্র ব্যবসা সহ নানা ধরনের বাণিজ্য রয়েছে মায়ানমারে। দুদিন আগেইতো ভারত অস্ত্র পাঠাল। অর্থের কাছে মানবতা বড় অসহায়। ভারতের কাছে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু বাংলাদেশ নিরব কেন ? দাদারা যা করে, চোখ বুজে সেটাই সমর্থন করতে হবে ? দাদাদের পা চাটা কবে বন্ধ হবে ?

Shah Alam-ITP

২০২১-০৬-১৯ ১৩:৩৮:৪৯

ভারত ভোট দেয়নি , তাই বাংলাদেশ ভোট দেয়নি।

শহীদ

২০২১-০৬-১৯ ১৩:১৭:১১

দখলদার, খুনি সরকারের পক্ষে না থেকে নির্যাতিত, নিপিড়ীত, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের পক্ষে থাকা প্রত্যেক মানবতাকামী সরকারের উচিত।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status