নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরছাড়া হাসান আরিফের পুত্রবধূ

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন (১ মাস আগে) জুন ১৮, ২০২১, শুক্রবার, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৪৮ অপরাহ্ন

পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক এটর্নি জেনারেল  এ.এফ. হাসান আরিফের পুত্রবধূ মাধবী আক্তার নীলা। এমন অভিযোগ করে বুধবার শিশু সন্তানকে নিয়ে হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেছেন তিনি। আবেদনে সন্তানের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার মামলাটি হয়েছে। প্রাথমিক খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়,(১) আমার স্বামী মুয়াজ আরিফ পিতা হাসান আরিফ,  (২) হাসান আরিফ অজ্ঞাত (৩) পারভিন আরিফ স্বামী হাসান আরিফ (৪) উম্মেহানি পিতা হাসান আরিফ বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জেল খাটিয়েছে। আমার দুই বছরের কন্যা সন্তানকে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। আমার ৮ দিন বয়সের দ্বিতীয় কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
ইতিপূর্বে আমার পেটে লাথি মেরে তিন মাসের একটি বাচ্চা মেরে ফেলেছে। আমাকে ডিএমসি করতে হয়েছে। আমাকে নির্যাতন করে চুল কেটে দিয়েছে। আমার গাড়িসহ সমস্ত কিছু আটকে রেখেছে। আমার সিম মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে এবং আমি এবং ও আমার দ্বিতীয় কন্যা সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। মাধবী আক্তার নীলা গণমাধ্যমকে বলেন, বিয়ের পর জানতে পারি মুয়াজ অ্যালকোহল গ্রহণ করে। বিভিন্ন নারীর সাথে মেলামেশা করে। আমি হাতেনাতে ধরেছি এমন কয়েকটি ঘটনা। এসব ঘটনা আমার শ্বশুরকে জানাই। খালা শাশুড়িকে জানাই। তাদেরকে বলি আমি মুয়াজের সংসার করতে চাই না। তখন তারা আমাকে বুঝানÑ তুমি একজন ভালো মেয়ে, সাংসারিক মেয়ে। আমার ছেলেটার একটু সমস্যা হচ্ছে। ও রিহাভ  থেকে বের হোক, এরপর তুমি সিদ্ধান্ত নিও। তাদের কথামতো সংসার করতে থাকি। এরপর আমি সন্তান ধারন করি। তারা আমাকে বাচ্চা নষ্ট করতে বলেন। আমি বাচ্চার হার্টবিট শুনতে পাই। আমি তাদের কথায় রাজি হই না।  মুয়াজ আমাকে প্রায়ই মারধর করতো। মারধরের সময় আমার শ্বশুর ছেলেকে বলতো দেখো ফেটে যেন না যায়, কেটে যেন না যায়। একদিন আমাকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় মিথ্যা মামলা দেয়। আদালত জামিন না দিয়ে আমাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।  ৬ই জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ৭ই জুন জামিনে বের হন, এরপর বাসায় গেলে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে জানান।

 

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Khokon

২০২১-০৬-১৮ ০৪:০২:০৮

ঘটনাটি পরে মনে হলো সরিষা তৈলের সাথে পানি মিশানো হচ্ছে ? ছেলে নির্যাতন করছে আর শশুর বলছে দেখ যেনো ফেটে না যায় ? কেউর বিশ্বাস যোগ্য হলেও অবিশ্বাসের সংমিশ্রণও বেশি আছে ! ছেলে জ্বালায়, জ্বালাতে পারে কিন্তু ছেলের মা বাবা বলতেই পারে না, দেখো যেনো না ফেটে যায় ? তবে হাঁ, কেউ বলতেও পারে যদি ছেলের বাবা মা টাকার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রটি এখানে নগণ্য এর চেয়েও কম ! আমরা সবাই চাই, যদি কেউ নির্যাতিত হয়, তার সর্বোচ্চ বিচারের ব্যাবস্থা করা কিন্তু যদি গণহারে বলতেই থাকি, যৌতুক এর জন্য অত্যাচার করেছে, অন্য নারীর সাথে কুকর্ম করে বা মদ খেয়ে মারধর করে বা করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি, সেটা কত টুকু বিশ্বাস যোগ্য ? বড়ো লোকের ছেলে, মেয়ে, মদ তো খেতেই হবে, না খেলেও একটু আধটু খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, অন্য মেয়েছেলের সাথে এক্সট্রা প্রেম প্রীতি ও থাকে পারে সেটা মেনে নিয়েও কিন্তু ঘরসংসার করা যায় যদি ইচ্ছা থাকে, আর যদি ইচ্ছা নাই থাকে তবে দু'দুটি বাচ্চার জন্ম দাতা হলো কিভাবে ? নারী নির্যাতিত আইন হয়ে এটাকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে, একটি হলেই বলা যায়, আমার কাছে যৌতুক চাওয়া হচ্ছে, আমাকে মারা হচ্ছে, শশুর শাশুড়ি দ্বারা নাঞ্চিত হচ্ছি অথবা স্বামীর সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ক আছে ইত্যাদি ইত্যাদি জানা অজানা পুরনো খাঁতার গাটটির মত আজব দাবী ! কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেয়ে তার পরকীয়ার প্রেম, প্রীতি ঢাকার জন্য নানান পরিকল্পনার মাকড়শার জাল বুনেন, স্বামী অথবা শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যাহা বিচারের চেয়ে ও একটা খারাপ প্রতিফলন ঘটে যুবকের উপর, যা যুব সমাজকে বিনা অপরাধে জীবন ধ্বংস করে দেয়। তাই বলা যায়, শ্রদ্বেয় বিচারপতিরা আপনারা একটু কান দাড় করিয়ে বিচার করুন কেউ কেনো সুবিচার পেতে বাধা গ্রস্থ না হয়।

সুষমা

২০২১-০৬-১৭ ২৩:০৮:৫০

আমি আমার আগের মতামতটা খুবই কষ্ট নিয়ে লিখেছি।কারণ আমার একটা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের দীর্ঘ তালিকা আছে যাদের জন্য আমি প্রতিদিন অনেক সময় ব্যয় করি প্রার্থনায়।কিন্তু যখন সেই সব ব্যক্তিদের এমন খবর পড়ি তখন বুকে চাঁপা কষ্টে বোবা হয়ে যাই।অনেকেই জানেন না যে উনাদের অলক্ষ্যে আমি নীরবে প্রতিদিন সৃষ্টকর্তার কাছে রাখি।লক্ষ্য একটাই যেন আমরা সবাই ভালো থাকতে পারি একে অন্যের হাত ধরে পাশে থেকে।কারণ আমরা কেউই একা থাকতে পারি না।একে অন্যকে আমাদের দরকার।তাই আমরা সামাজিক জীব।

RaNa

২০২১-০৬-১৭ ২৩:০৫:৫৫

এ আর নতুন কি? দেশে যতটুকু আইন মানা হয়, তা মানে সাধারন মানুষ। কারন তাদের রাজনৈতিক শক্তি নাই, মামা চাচার জোর নাই, পকেটে টাকা নাই। শিক্ষিত লোক গুলো ই বেশি কসাই হয়। মানুষ রুপি জানোয়ার।

সুষমা

২০২১-০৬-১৭ ২২:২৯:৩৬

মুয়াজ আমাকে প্রায়ই মারধর করতো। মারধরের সময় আমার শ্বশুর ছেলেকে বলতো দেখো ফেটে যেন না যায়, কেটে যেন না যায়।-এটা আবার কি শুনলাম?আইনের রক্ষক হয়ে চোখের সামনে নির্যাতন হতে দেখে এটা কেমন কথা হয়ে গেল না?এইসব দুঃখ গুলোই আজকাল বড় কষ্ট দেয়।আমরা মেয়েরা এক বাবা মা ছেড়ে অন্য বাবা মা এর কাছে যাই আর আশা ও বিশ্বাস থাকে যে উনারাও ওমনই বাবা মা হবেন।যিনি বা যারা আমাদের পরম মমতায় আগলে রাখবেন শত প্রতিকূলতা থেকে সেই উনারাই যদি এমন করেন তবে এই সমাজে আস্থার অভাব প্রকট হবে আর বাড়বে মামলার জট।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status