ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ৪২ জেলায় টিকাদান বন্ধ

ভ্যাকসিনে অচলাবস্থা কাটবে কবে?

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

প্রথম পাতা ১২ জুন ২০২১, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২১ অপরাহ্ন

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। একদিনে মোট শনাক্তের প্রায় ২৮ শতাংশই রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগে ২৪ শতাংশ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যু ও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে সীমান্তবর্তীসহ অর্ধেকের বেশি জেলা শহরে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সমপ্রতি আইইডিসিআর’র এক তথ্যে বলা হচ্ছে, সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণও বিদ্যমান রয়েছে দেশে। করোনাভাইরাসের মহামারিতে এখন দেশে একদিকে টিকার সংকট আর অন্যদিকে ডেল্টা বা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির এ বাস্তবতায় প্রায় দেড় মাস ধরে গণটিকা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। সাড়ে ১৪ লাখ মানুষের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ২য় ডোজ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
রাজধানীতে ৪৭টি কেন্দ্রের ২৮টি এবং ৪২টি জেলায় বন্ধ রয়েছে টিকাদান কার্যক্রম। সরকারিভাবে জানা যাচ্ছে চীন, রাশিয়ার কাছ থেকে টিকা কেনা এবং কোভ্যাক্স থেকে টিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় গণটিকা কার্যক্রম আবার কবে শুরু করা যাবে এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।
সমপ্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় (ডেল্টা) ভ্যারিয়েন্ট। গত ১৬ই মে বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর থেকে আইইডিসিআর ও আইদেশী এ পর্যন্ত ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে। এসব নমুনার মধ্যে ৪০টি (৮০ শতাংশ) নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, ৮টি (১৬ শতাংশ) নমুনায় বিটা ভ্যারিয়েন্ট (সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়েছে। মিলেছে একটি অজানা ভ্যারিয়েন্টও।
আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, সতর্কতা এখন আরও বাড়ানো দরকার। যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের থেকে এটা ছড়ানোর ক্ষমতা বেশি। সেক্ষেত্রে সাবধানতাটা আমাদের আরও বেশি পালন করতে হবে। আমরা কিন্তু সে ধরনের সচেতনতা কারো মধ্যে দেখছি না সেভাবে।
কোভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলছে, দেশে সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাতে সংক্রমণের উচ্চহার দেখা যাচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু জেলাতে উচ্চ সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এসব জেলায় ইতিমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ভারতীয় ভ্যারিয়্যান্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।  গত বছরের অক্টোবরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত হয়। এটি ভাইরাসের আগের স্ট্রেইনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। গবেষকরা জানান, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট একজনের মাধ্যমে ৪০০ জনকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট’ বলে অভিহিত করেছে।
সংক্রমণের এ পর্যায়ে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, কার্যকর বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার সঙ্গে গণহারে টিকা দিতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ড ইমিউনিটির জন্য অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক মনে করেন, টিকা জোগাড় করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যদি ধরে নেই যে, ৭০ শতাংশ লোককে আমরা টিকা দেবো। তাহলে এখন বাংলাদেশকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ২৫ কোটি ডোজ টিকা জোগাড় করতে হবে। তিনি বলেন, ২৫ কোটি ডোজ পাওয়া সহজ কথা নয়। আবার যদি বুস্টার ডোজ লাগে তাহলে আরো সাড়ে ১২ কোটি ডোজ লাগবে। তার মানে আমাদের ৪০ কোটি ডোজ টিকার একটা মজুত রাখতে হবে বা সম্ভাবনা রাখতে হবে। এইটা তখনই সম্ভব যখন আমরা নিজে টিকা তৈরি করতে পারবো। বাংলাদেশেরও উচিত হবে বেশ কয়েকটা সোর্স থেকে টিকা আমদানি করা। পাশাপাশি টেকনোলজি ট্রান্সফারের মাধ্যমে কোনো টিকা আমাদের দেশে তৈরি করা যায় কিনা- সে সম্ভাবনা দেখে তা বাস্তবে রূপ দেয়ার চিন্তা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
মূলত ভারত থেকে টিকা আসা বন্ধ হওয়ার পরই চীন, রাশিয়ার কাছে টিকা পেতে বাংলাদেশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়। চীন থেকে এক দফায় ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দফায় উপহারের ৬ লাখের মতো টিকা আসবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে চীনের সিনোফার্মার কাছ থেকে প্রথমে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। দামও নির্ধারিত হয় দুপক্ষের মধ্যে। কিন্তু গোপনীয়তার শর্তযুক্ত ওই টিকার দাম প্রকাশ করার পর সেটি নিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন জটিলতা। এ পরিস্থিতিতে দেশে কবে থেকে আবার গণটিকা শুরু করতে পারবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির আওতায় টিকা পাওয়ার অপেক্ষা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন গতকাল জানিয়েছেন, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাবে। ইতিমধ্যে সংস্থাটির মাধ্যমে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কেনা এবং উপহার পাওয়া মোট টিকার পরিমাণ ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। দেশে টিকা বিতরণের পর এখন হাতে আছে মাত্র এই টিকার ১ লাখ ৩৯ হাজার ডোজ।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মানবজমিনকে বিশেষ সাক্ষাৎকার

জাতিসংঘ মোড়লদের, আমাদের জন্য নয় (ভিডিও)

২৯ জুলাই ২০২১

করোনা মোকাবিলা

একসঙ্গে লড়বে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

২৯ জুলাই ২০২১

শনাক্তে রেকর্ড মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

২৯ জুলাই ২০২১

দেশে করোনায় প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী কোনোক্রমেই ঠেকানো ...

মুগদায় সিট খালি নেই

২৯ জুলাই ২০২১

কী হবে ৫ই আগস্টের পর

২৮ জুলাই ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে রোড শো’তে সালমান এফ রহমান

পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

২৮ জুলাই ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে ...

২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ২৫৮

২৮ জুলাই ২০২১

করোনা প্রতিদিনই ভাঙছে রেকর্ড। নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৫৮ জনের ...

৭ই আগস্ট থেকে ইউনিয়ন কেন্দ্রে টিকাদান

২৮ জুলাই ২০২১

আগামী ৭ই আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনার টিকা দেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status