ইরানের পরমাণু প্রকল্পে হামলা ও বিজ্ঞানী হত্যায় জড়িত থাকার ইঙ্গিত সাবেক মোসাদ প্রধানের

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (১ মাস আগে) জুন ১১, ২০২১, শুক্রবার, ৫:২১ অপরাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং একজন সামরিক বিজ্ঞানীর ওপর হওয়া হামলার সঙ্গে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পর্ক রয়েছে। এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন সম্প্রতি অবসরে যাওয়া মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন। ইসরাইলের চ্যানেল টুয়েলভকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য দেন। এটি একটি অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান যা বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারিত হয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দিন যখন শেষের দিকে তখনই এমন ইঙ্গিত দিলেন ইয়োসি।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অন্য বিজ্ঞানীদের জন্যেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি বার্তা দেয়া হয়েছে। ইয়োসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে কোনো চুক্তি বা দর কষাকষির চেষ্টা করা কূটনীতিকদেরও হত্যা করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে বাতিল করা পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি থামাতেই ইসরাইল তৎপর হয়ে উঠেছে। ইয়োসি বলেন, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীরা যদি এখন তাদের চাকরি পরিবর্তন করেন তাহলে তাদেরকে ইসরাইল কিছুই বলবে না। তবে হ্যা, আমরা হয়তো তাদের জন্য দারুণ প্রস্তাব পাঠাব।

গত বছরই ইরানের নাতানজ পরমাণু প্রকল্পে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে বিমান হামলার মাধ্যমে এটি ধ্বংস করা না যায়। কিন্তু ২০২০ সালের জুলাই মাসে অজ্ঞাত এক বিস্ফোরণে ওই পরমাণু প্রকল্প ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ইরান পরে ওই হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ি করে। এ বছরের এপ্রিলে আরেকটি বিস্ফোরণে এই প্রকল্পের ইউরেনিয়াম মজুদাগার ধ্বংস হয়ে যায়।

কোহেন যদিও সরাসরি বলেননি, ইসরাইল এই হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবথেকে বড় ইঙ্গিত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সাংবাদিক ইয়ান দায়ান। তিনি অবশ্য সরাসরি ইসরাইলের অপারেশনগুলোর বিস্তারিত জানতে চেয়েই প্রশ্ন করেন। নভেম্বরে ইরানি বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকিরজাদেহকে হত্যা নিয়েও আলোচনা করেন কোহেন। মোহসেনকে বলা হতো, ইরানের পরমাণু প্রকল্পের জনক। তিনি কয়েক দশক ধরে দেশটির সামরিক পরমাণু প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনেকেরই ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমকে কয়েক বছর পিছিয়ে দেয়া গেছে। তাকে হত্যায়ও ব্যবহৃত হয়েছিল সময়ের সবথেকে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। এর সঙ্গেও যে মোসাদ জড়িত এমন দাবি একাধিকবার তোলা হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে। ইসরাইল যদিও এ দাবি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিশ্বাস করে, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। কোহেন যদিও নিশ্চিত করেছেন, ইরানি বিজ্ঞানীদের পরমাণু কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে ইসরাইলের নানারকম প্রচেষ্টা রয়েছে। অনেক ইরানি বিজ্ঞানীকেই তাই দেখা যায় নানা অযুহাতে নিজের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কোহেন বলেন, যারা বুঝতে পেরে চাকরি ছেড়ে দেন তারা নিরাপদ। এছাড়া, ইরানের সামরিক নথি জব্দ নিয়েও কথা বলেন তারা। কোহেন জানান ৩২টি সংরক্ষিত স্থান থেকে এসব নথি চুরি করা হয়। এগুলোকে স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। তবে মোসাদের কাছে এর বেশিরভাগই রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোহেন।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status