ইসলামের প্রচার প্রসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ১১ জুন ২০২১, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৬ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলামের প্রচার-প্রসারে যা যা করণীয় আমরা তা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। গতকাল সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইসলামের প্রচার-প্রসারে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বলেন, আমরা চাই, আমাদের এই পবিত্র ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন সচেতন হয়। একমাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের অধিকার দেয়া হয়েছে। নারীদের সমঅধিকার কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীদের যে অংশ, এমনকি স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর যে অংশ, সেটা কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। কোনো ধর্মেই কিন্তু এটা নেই।
ইসলাম ধর্মে সবদিক থেকেই নারীদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাদক আজ আমাদের সমাজকে একেবারে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত করতে পারি তার জন্য সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা প্রত্যেক উপজেলায় সকল ধর্ম-বর্ণের সকলকে নিয়ে, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে কমিটি করে মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন বা পাশবিকতার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই মসজিদটা আমরা সেভাবেই তৈরি করতে চেষ্টা করেছি। যেখানে সব ধরনের শিক্ষা এবং প্রচার.. মানুষের মাঝে সচেতনতা, ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যেন বৃদ্ধি পায় সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এটা করেছি। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হজ সম্পর্কে সকল তথ্য এবং সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে আমরা নিয়েছি। হজযাত্রীদের ভিসা-পাসপোর্ট, আবাসন, মেডিকেল সকল বিষয় সহজ করে দেয়া হয়েছে। আগে যখন হজযাত্রীরা যেতেন, তখন টার্মিনালের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তায় তাদের বসে থাকতে হতো। কখন যাবেন, কীভাবে যাবেন কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর জেদ্দার টার্মিনালে আমরা আলাদা জায়গা নিয়েছিলাম, নেয়া আছে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা যাবে তারা সেখানে থাকবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বাসে করে যাতে পবিত্র মক্কা শরীফে চলে যেতে পারেন সে ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হজযাত্রীদের নানা সমস্যা একে একে দূর করেছে। এখানে আমাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের (হাজীদের) ইমিগ্রেশনের কাজটা... এয়ারপোর্টের ভেতরে যাওয়ার দরকার নেই। সেখানে বসেই যেন হতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু করে দিয়েছি। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা সেই অনুমোদনও নিয়েছি। এখানে বসে সবকিছু হয়ে যাবে। তারপর সহজভাবে বিমানে চলে যাবেন। সরকার প্রধান বলেন, এখন আর আমাদের বিমান ভাড়া করা লাগে না। নিজেদের বিমানে আমরা হাজীদের পাঠাতে পারি। ঢাকা বিমানবন্দরে যেমন ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। মক্কা-মদিনা শরীফ থেকে আসার সময় যেন সুবিধা হয়, মক্কা শরীফেও সে ব্যবস্থা করেছি। যাতে সব ধরনের সুবিধা-অসুবিধা জানার জন্য এই ব্যবস্থা থাকে। সেই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি বলেন, জমজমের পানি আনতে গেলে অনেক সময় সমস্যা হতো। ওজন নিয়ে সমস্যা হতো। আমাদের বিমান যখন হাজীদের নামিয়ে দিয়ে আসে তখন সেই খালি প্লেনে আগেই জমজমের পানি নিয়ে আসে। পরে যাদের পানি দরকার হয় নিতে পারেন। আশকোনা থেকে নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু আমরা করে দিয়েছি। সব ধরনের ব্যবস্থা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি, আমাদের অনেক পুরনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে, সেগুলো রক্ষা করার। সেগুলো দর্শনীয় হিসেবে আরও উন্নত করা। বায়তুল মোকাররমের মিনার নির্মাণ, এগুলো আমরা করেছি। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা আমরা করে দিয়েছি। সেখানে আমরা বিশেষ অনুদান দিচ্ছি। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট আমি করে দিয়েছি। কারণ আমি জানি, একটা সময় অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের আর সাহায্য করার কিছু থাকে না। কাজ করতে চাইলেও কোনো কাজ তারা করতে পারে না। সেই জন্যই আমি এই ফান্ড গঠন করেছি। আমাদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেন বিশেষ সুবিধা পান। ঋণ নিতে পারেন, অনুদান নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল না, আমরা তার সনদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। ইসলাম প্রচার-প্রসারে যা যা করণীয় আমরা সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এখানে তো আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফে আছে, সুরা কাফিরুনে স্পষ্ট বলা আছে লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়া দিন। ইসলাম ধর্ম সব থেকে বড় ধর্ম। যে ধর্ম মানুষের অধিকার, মানুষকে মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করবার শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষাটাই সবাই নেবে, এটাই আমরা চাই। আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেভাবে তৈরি হবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে। ইসলামিক সংস্কৃতি প্রচার হবে। ইসলামের মর্মবাণী দেশ-বিদেশের সকল ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে, সেই দিকেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সাজু

২০২১-০৬-১০ ২০:১৬:১০

ধন্যবাদলিডার

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

বাহরাইন, চিলি ও মঙ্গোলিয়ায় নতুন সংক্রমণ

২৫ জুন ২০২১

টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি ফ্রি ফায়ার লাইকি বন্ধে রিট

২৫ জুন ২০২১

বাংলাদেশের সকল অনলাইন প্ল্যাটফরম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম তথা লাইকির মতো ...

খুলনা যেন মৃত্যুপুরী তবু নেই সচেতনতা

২৫ জুন ২০২১

 গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে বিভাগে নতুন ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কদমতলীতে তিন খুন

মুনের স্বামীকে ঘিরে রহস্য

লক্ষ্মীপুর-২ ও ৬ ইউপি’র নির্বাচন আজ

সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

DMCA.com Protection Status