বাংলারজমিন

কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর জমিদখলের চেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে

১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দীর্ঘদিনের ভিটায় ঘর করতে গিয়ে পৌর মেয়রের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এক সংখ্যালঘু পরিবার। তাদের নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মকছুদ মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষক সহোদর প্রবীর দাশ ও সমীর কান্তি দাশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, কোটি টাকামূল্যের ব্যক্তিমালিকাধীন জমি দখলে নিতে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে তাদের ঘর ভেঙে দেয়া হয়। ঘর ভাঙ্গার পর সংখ্যালঘু পরিবারটিকে প্রাণের মারা হুমকিও দিয়েছেন মেয়র মকছুদ মিয়ার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
বুধবার ( ৯ জুন) বিকেলে শহরের আছাদ কমপ্লেক্সস্থ কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহেশখালী শাপলাপুরের দিনেশপুর সরকাফর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, অভাব, অনটন ও দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করে এসে বর্তমানে ভূমিদস্যুদের আক্রোসের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তান।
মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ হিন্দুপাড়ায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভিটায় আমরা যুগ যুগ ধরে বাস করে আসছি। ভিটাটি একটু নিচু হওয়ায় তিনমাস আগে ভরাট করে কাঁচা ঘর তৈরি করার সময় ১লা জুন সকালে মহেশখালী পৌরমেয়র মকসুদ মিয়ার উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসী আমাদের জমিতে এসে আকস্মিকভাবে ভাংচুর চালায়। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। অথচ এ জমির বিপরীতে আমরা নিয়মিত ভূমিকর এবং পৌরকরও পরিশোধ করে আসছি।
শিক্ষক সমীর দাশ আরো বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে মেয়রের কাছে জানতে চাইলে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পুনরায় ঘর তৈরি করলে মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হবে। মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করা হবে।
এরপর থেকে মেয়র ও সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। মহেশখালী গোরকঘাটাস্থ জেটিঘাটে অবস্থিত সংখ্যালঘু পরিবারের প্রতিষ্টানগুলো এবং গোরকঘাটা বাজারের দোকানগুলো বন্ধ করার এমনকি তালা লাগিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তারা।

মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত জিডি নিয়ে মহেশখালী থানায় গেলেও পুলিশ জিডিটি এন্ট্রি করেননি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক সমীর দাশ।
জানমাল-সহায় সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষ। কোনোরকম ঝক্কিঝামেলা, ফ্যাসাদ-বিবাদে কারো সঙ্গে জড়াতে চাই না এবং শান্তিপূর্ণভাবে সকলের সঙ্গে সহাবস্থান করতে চাই। মেয়রের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের হুমকিতে বর্তমানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখারীর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা-জমির সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আসলে পুলিশের নেই। শিক্ষক সমীর দাশ ও  মহেশখালীর পৌরমেয়র দুজনই জমিটা তাদের বলে দাবি করছে। তাই জিডি নথিভুক্ত না করে উভয় পক্ষকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status